ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) একটি অংশগ্রহণমূলক দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ‘সচেতন নাগরিক কমিটি’ (সনাক) নামে পরিচিত নাগরিক কমিটি প্রতিষ্ঠা করেছে। এই কমিটিগুলোর লক্ষ্য হলো সরকারি, বেসরকারি ও অন্যান্য সেবা খাতে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতার মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। টিআইবির লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব ও ক্ষমতা সনাকগুলোর হাতে ন্যস্ত এবং টিআইবি তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।
দেশের ৪৫টি এলাকায় সনাক:
দেশের ৪৫টি এলাকায় টিআইবির অনুপ্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত ৪৫টি সনাক রয়েছে। সনাকের সদস্য মূলত সে সকল নাগরিক, যারা সৎ, যাদের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং নেতৃত্বদানের ক্ষমতা রয়েছে, যারা স্থানীয় পর্যায়ে সেবাখাতে দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সততার চর্চা প্রতিষ্ঠায় নাগরিকদের অবহিত, অনুপ্রাণিত ও একত্রিত করেন।
উদ্দেশ্য
- সনাক নাগরিকদের একটি দল যাদের বিশ্বাসযোগ্যতা, সততা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং নেতৃত্বদানের ক্ষমতা রয়েছে।
- সনাকগুলোর ভূমিকা হলো দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নাগরিকদের অবহিত, অনুপ্রাণিত ও একত্রিত করা।
- সনাক সদস্যরা টিআইবির মূল্যবোধ, রূপকল্প, মিশন এবং আচরণবিধির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।
- সনাক স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য স্বেচ্ছায় ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করে।
সনাক গঠন প্রক্রিয়া
সনাকের মূল কমিটি (নির্বাহী কমিটির সমতুল্য) কৌশল প্রণয়ন, পরিকল্পনা তৈরি, বাজেট প্রস্তুতকরণ এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেয় ও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। একটি সনাক গঠিত হলে, এই কমিটি সমস্ত দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং নিজেদের কার্যক্রমের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে, যেখানে টিআইবি কেবল কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।
সনাকের সদস্য সংখ্যা ৯ থেকে ২১ পর্যন্ত হয়ে থাকে এবং এতে নারী সদস্যসহ বিভিন্ন পেশাজীবী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকেন। সদস্যদের মধ্য থেকে সভাপতি নির্বাচিত হন এবং তাঁর মেয়াদ দুই বছর, যা বার্ষিক পর্যালোচনা সাপেক্ষে এবং প্রয়োজনে পুনঃনির্বাচনযোগ্য। কমিটিতে দুজন সহ-সভাপতি থাকেন, যাদের মধ্যে একজনকে অবশ্যই নারী হতে হবে।
উপ-কমিটি
সনাক ৭ থেকে ১১ জন সদস্য নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক উপ-কমিটি গঠন করে। উপ-কমিটির একজন সভাপতি থাকেন, যিনি সনাকেরও সদস্য, তবে উপ-কমিটির অন্য সদস্যরা সনাকের বাইরে থেকেও হতে পারেন।
একজন সনাক সদস্যের যোগ্যতার মাপকাঠি:
- সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তি, দুর্নীতির কোনো অভিযোগ থেকে মুক্ত এবং স্থানীয় সমাজে অবদানের জন্য সকলের কাছে সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য;
- রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ, দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই এবং রাজনৈতিক বা অন্য কোনো পছন্দ-অপছন্দ যাতে সনাক বা টিআইবির কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত না করে, তা নিশ্চিত করার সক্ষমতাসম্পন্ন;
- সক্রিয় এবং স্বেচ্ছায় কাজ করতে আগ্রহী;
- টিআইবির রূপকল্প, মিশন, মূল্যবোধ ও উদ্দেশ্যের একজন সক্রিয় অংশীদার এবং টিআইবির আচরণবিধির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ ব্যক্তি;
- বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক এবং সনাক এলাকার বাসিন্দা।
অযোগ্যতা:
- দুর্নীতিতে জড়িত থাকার কোনো অতীত ইতিহাস রয়েছে এমন ব্যক্তি;
- নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত;
- কোনো বিশেষ আইনগত সুবিধা ভোগকারী সরকারি কর্মচারী;
- দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িত;
- আদালতের রায়ে ঋণখেলাপি হিসেবে দোষী সাব্যস্ত;
- ৩০ বছরের কম বা ৭৫ বছরের বেশি বয়সী; এবং
- টিআইবির নির্বাহী পরিচালক এবং টিআইবির অন্য কোনো পূর্ণকালীন কর্মচারীর নিকটাত্মীয়।
আরও জানতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন: