আমাদের সম্পর্কে

বৈশ্বিক দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের অনুমোদিত জাতীয় অধ্যায়।
সুশাসন ও জবাবদিহিতার জন্য কাজ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে টিআইবি। সংস্থাটি ১৯৯৬ সালে একটি ট্রাস্ট হিসেবে যাত্রা শুরু করে এবং ১৯৯৮ সালে নিবন্ধিত বেসরকারি সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। গবেষণা, জনসচেতনতা ও নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশে দুর্নীতি হ্রাস এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠাই টিআইবির অঙ্গীকার।

টিআইবির প্রধান প্রকল্প হলো পার্টিসিপেটরি অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট করাপশন: টুওয়ার্ডস ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি (প্যাকটা)। প্রযুক্তির সহযোগিতায় টিআইবির মূল অংশীজনদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে কার্যকরভাবে অংশগ্রহণে সহায়তা করা এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

টিআইবি তিনটি মূল বিভাগ: রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি, আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন এবং সিভিক এনগেজমেন্ট এর মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি

বাংলাদেশে দুর্নীতি প্রতিরোধে টিআইবি নানা ধরনের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ সকল গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো দুর্নীতির মাত্রা নিরূপণ, নীতিগত সংস্কারকে উৎসাহিত করা এবং জনগণের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা।
বিশ্লেষণধর্মী গবেষণা, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল পর্যবেক্ষণ, সিটিজেন রিপোর্ট কার্ড, দুর্নীতি বিষয়ক তথ্যভাণ্ডার, জাতীয় খানা জরিপ, অনুসন্ধানভিত্তিক গবেষণা এবং অবস্থানপত্র প্রণয়ন টিআইবির কার্যক্রমের আওতাভুক্ত। টিআইবি বিভিন্ন আন্তঃদেশীয় গবেষণায়ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।
এই গবেষণা উদ্যোগগুলো টিআইবির অধিপরামর্শমূলক কার্যক্রম, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে কার্যকর সংযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সিভিক এনগেজমেন্ট

টিআইবির নাগরিক সম্পৃক্ততার কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)। স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এই কমিটিগুলো মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। তারা স্বেচ্ছাসেবী ও নির্দলীয়ভাবে কাজ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার, ভূমি ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে সামাজিক জবাবদিহিতা বাড়াতে সহায়তা করে।
অন্যদিকে, টিআইবি কর্তৃক গঠিত ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) গ্রুপ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও অন্যান্য উপায়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক সুশাসনের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কাজ করে। টিআইবি বিশ্বাস করে যে তরুণদের মধ্যে তাদের নিজ নিজ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার এবং সক্রিয়ভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। ইয়েস গ্রুপ নিজ নিজ এলাকায় কৌশলগত সম্পৃক্ততার মাধ্যমে কাজ করে থাকে।
অ্যাক্টিভ সিটিজেনস’ গ্রুপ (এসিজি) হলো সেবা গ্রহণকারী কমিউনিটিভিত্তিক দল, যারা টিআইবির PACTApp-এ তথ্য দিয়ে গবেষণা এবং তৃণমূল পর্যায়ের সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে।

আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন

আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগ টিআইবির গবেষণা ও নীতি বিষয়ক কাজকে পরিবর্তনের কার্যকর হাতিয়ারে রূপান্তর, দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং টিআইবির অংশীদারদের পরিধি বাড়াতে কাজ করে। এই উদ্দেশ্যে টিআইবি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ওয়েবসাইট, সামাজিক মাধ্যম এবং পাবলিক ইভেন্টসহ বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যম ও কৌশল ব্যবহার করে জনগণের বৃহত্তর অংশের কাছে পৌঁছায়। এছাড়াও, টিআইবি তার আউটরিচ ও কমিউনিকেশন কার্যক্রমের প্রভাব বাড়াতে সহযোগী সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও আন্তরিকভাবে কাজ করে। এই সকল আউটরিচ ও কমিউনিকেশন কার্যক্রমের মাধ্যমে টিআইবি দুর্নীতির বিষয়ে জনগণের মধ্যে একটি স্পষ্ট ধারণা তৈরি করতে এবং বাংলাদেশের দুর্নীতিবিরোধী প্রচেষ্টায় আরও বেশি সংখ্যক মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে চায়।

দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে আমাদের সঙ্গী হোন

কীভাবে যুক্ত হতে পারি?