প্রকাশকাল: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ(টিআইবি) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাংলাদেশে দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং মোকাবেলায় পারস্পারিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার জন্য আবারও পাঁচ বছরের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে।
ঢাকাস্থ দুদক সদর দফতরে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে চুক্তিটি পুনঃনবায়ন করা হয়। চুক্তিটি ১ অক্টোবর ২০২৫ থেকে কার্যকর হবে এবং ৩০ সেপ্টেম্বর ২০৩০ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন, পরিচালক (প্রতিরোধ) মোঃ আক্তার হোসেন, কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ এবং টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে এই সমঝোতা স্মারকটি দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এই চুক্তির আওতায়, টিআইবি দুদকের বিশেষ তদন্ত প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোতে ডিজিটাল ফরেনসিক, ফরেনসিক একাউন্টিং, চুরি হওয়া সম্পত্তি উদ্ধার, আইনগত সহায়তা চুক্তি (এমএলআরএ) ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া, দুদক ও টিআইবি প্রতি বছর অন্তত ৬টি গণশুনানীর আয়োজন করবে।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দুদকের পরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন বলেন, "এই চুক্তি দুই প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতাকে আরও বৃদ্ধি করবে। আমরা একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থা তৈরি করতে টিআইবির সঙ্গে কাজ করব।" দুদক সচিব খালেদ রহিম জানান, "টিআইবি আমাদের স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে সব সময় সহযোগিতা করে আসছে, এবং এই অংশীদারত্ব আরও দীর্ঘস্থায়ী করতে আমরা পাঁচ বছর মেয়াদি এই চুক্তি সই করছি।"
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "টিআইবি শুধুমাত্র দুদকের পর্যবেক্ষক নয়, বরং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অংশীদারও। এই চুক্তির মাধ্যমে টিআইবি দুদককে পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে।"
দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এই চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "টিআইবি সবসময় আমাদের জন্য ইতিবাচক অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, টিআইবি এবং দুদক একে অপরকে পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।" তিনি আরও জানান, "বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক চাপ নেই, এটা একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ।"
তিনি টিআইবিকে বৈশ্বিক দুর্নীতির ধারণা সূচকের ন্যায় দুদক ও বিচারব্যবস্থার প্রতি দেশের জনগণের মনোভাব সম্পর্কিত একটি গবেষণা পরিচালনার অনুরোধ করেন।
এই পাঁচ বছরের অংশীদারিত্ব দুটি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করার সংকল্প এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নতুন বাংলাদেশের জন্য একত্রে কাজ করার আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন। উল্লেখ্য, টিআইবি ও দুদকের চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া। দুদকের জন্য ৪৭টি সংস্কার প্রস্তাব বর্তমানে বিবেচনায় রয়েছে এবং জনসাধারণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই অংশীদারিত্বের উদ্দেশ্য হলো প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা বজায় রাখা।
এছাড়া, জাতীয় নির্বাচনের আগে এই পুনঃনবায়িত অংশীদারিত্ব দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখবে যেহেতু পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বর্তমানে জনগণের মধ্যে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।