প্রকাশকাল: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই)–এর আন্তর্জাতিক পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারপারসন ফ্রাঁসোয়া ভ্যালেরিয়াঁ ঢাকায় তার আনুষ্ঠানিক সফর শেষ করেছেন। সফরের শেষ দিনে তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর ঢাকাস্থ কার্যালয়ে এক সভায় গণতান্ত্রিক চর্চায় উত্তরণ ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। এই অনুষ্ঠানে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, দাতা সংস্থার সদস্য, কূটনীতিক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
"জনতার শক্তি এবং কর্তৃত্ববাদের পতন: গণতান্ত্রিক পরিবর্তন ও জবাবদিহিমূলক শাসনের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ" শীর্ষক বক্তৃতায় ফ্রাঁসোয়া ভ্যালেরিয়াঁ বলেন, “আমি এমন একটি দেশে কয়েকদিন কাটিয়েছি, যেখানে গতবছর কর্তৃত্ববাদী শাসনকে উৎখাত করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “কোনও কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থা দুর্নীতির সমাধানে কার্যকর হবে না।”
তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কার, সুশীল সমাজের সক্রিয় ভূমিকা এবং আইনি প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানার বিষয়ে স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। ভ্যালেরিয়াঁ বাংলাদেশেকে ‘ভবিষ্যতের গণতন্ত্র’ সুসংহত করার আহ্বান জানান, যেখানে তরুণ প্রজন্ম, নারী এবং প্রান্তিক জনগণের পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।
ভ্যালেরিয়াঁর বক্তব্যের পরে উন্মুক্ত আলোচনায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জটিলতা উঠে আসে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা প্রান্তিক জনগণ বিশেষ করে আদিবাসী গোষ্ঠীর সংস্কার প্রক্রিয়ায় অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা নিশ্চিতে প্রতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর জোর দেন। সভায় উপস্থিত কূটনীতিকবৃন্দ আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য যথাযথ কূটনৈতিক পন্থার বিষয়ে আলোচনা করেন যাতে করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুর্নীতির নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়। আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের ভূমির অধিকার সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত ও সুরক্ষিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
আমন্ত্রিত অতিথিরা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ার গতিশীলতা বজায় রাখার কৌশল নিয়ে বক্তব্য দেন। তারা বলেন তরুণ প্রজন্ম এবং নারীদের সংগঠনগুলোর মাধ্যমে নির্বাচনের বাইরেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে ।
ফ্রাঁসোয়া ভ্যালেরিয়াঁর এই সফর বাংলাদেশের পরিবর্তনের প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ এবং সমর্থনকে আবারও তুলে ধরেছে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণের চ্যালেঞ্জ এবং এর সমাধানে যুক্ত সকল অংশীজনের দায়বদ্ধতার একটি নিদর্শন ছিলো শেষ দিনের এই আলোচনা অনুষ্ঠান। জুলাই অভ্যুত্থানের নজিরবিহীন আত্মত্যাগের ফসল হবে দীর্ঘমেয়াদী গণতান্ত্রিক চর্চায় রাষ্ট্রকাঠামোর রূপান্তর, সভায় উপস্থিত সুধীজন এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।