প্রকাশকাল: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
ডিজিটাল অধিকার আসলে কী? কীভাবে স্ক্যাম আর স্প্যাম আমাদের অনলাইন নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে? ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কী প্রভাব পড়ে? কীভাবে আমরা আমাদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারি? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো – আমাদের তথ্যের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে? আমাদের জীবন যখন ডিজিটাল জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে, তখন এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে প্রয়োজন ডিজিটাল পরিমণ্ডলে সুশাসন, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা।
এই জরুরি বিষয়গুলো নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অর্থবহ আলোচনার জন্য ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ‘ডিজিটাল রাইটস এশিয়া-প্যাসিফিক (ড্রাপাক) ন্যাশনাল কনভেনিং বাংলাদেশ ২০২৫’-এ অংশ নেয়। এটি ছিল ডিজিটাল অধিকারকর্মী, নীতিনির্ধারক এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশ। এই আয়োজনে টিআইবি একটি আকর্ষণীয় কার্টুন প্রদর্শনীর আয়োজন করে। ডিজিটাল জগতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোকে সৃজনশীল অথচ শক্তিশালীভাবে তুলে ধরা হয় এই প্রদর্শনীতে। একটি নিরাপদ ও স্বচ্ছ ডিজিটাল পরিবেশের প্রয়োজনে তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গিই ছিল এই আয়োজনের মূল উপজীব্য।টিআইবি তাদের দুর্নীতিবিরোধী কার্টুন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের আঁকা ছবি এই প্রদর্শনীতে তুলে ধরে। বাংলাদেশের ডিজিটাল জগতের চ্যালেঞ্জগুলোই ছিল এই ছবিগুলোর মূল বিষয়। বিতর্কিত আইন ও নীতি, যা ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার পরিবর্তে প্রায়শই রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণকে আরও শক্তিশালী করেছে, সেই বিষয়গুলো সমালোচনামূলকভাবে চিত্রিত হয় এই শিল্পকর্মগুলোতে। উল্লেখ্য, এই তরুণ কার্টুনিস্টরা জুলাই অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তারা তাদের কার্টুনে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদের মাধ্যমে পতিত স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন।
দর্শনার্থীরা কার্টুন প্রদর্শনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, টিআইবি এই ধরনের অনুষ্ঠানে নিয়মিতভাবে তরুণদের সম্পৃক্ত করবে। অনেক দর্শক কার্টুনগুলোর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সংযোগ স্থাপন করতে পেরেছেন। তারা প্রদর্শনীর মন্তব্য বইতে তাদের চিন্তাভাবনা ও অনুভূতি প্রকাশ করেন। এমনই একটি মন্তব্যে লেখা ছিল, “শিল্পীদের চিন্তাভাবনা এবং অনুভূতিগুলো এত আকর্ষণীয় এবং আকর্ষক, তা সত্যিই অসাধারণ। এই কার্টুনগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারাই সবচেয়ে ভালো দিক।"এই আয়োজনটি এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন 'নতুন বাংলাদেশ'-এর প্রেক্ষাপটে দেশের ডিজিটাল জগৎ, নীতি এবং অবকাঠামো পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক অতীতে, স্বৈরাচারী শাসনের সময় আরোপিত সীমাবদ্ধ নীতিমালা সেন্সরশিপ চাপিয়ে দিয়েছিল এবং নাগরিক অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করেছিল। সামনের দিকে, দেশের একটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, উন্মুক্ত ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে – যা শুধু ব্যক্তির ডিজিটাল অধিকারই রক্ষা করবে না, উদ্ভাবন এবং সৃজনশীলতাকেও উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ডিজিটাল অধিকার এবং ইন্টারনেট স্বাধীনতার পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন। তিনি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিশিষ্ট আলোচকদের সঙ্গে ডিজিটাল জগতে মানবাধিকার লঙ্ঘন, দমনমূলক আইন এবং তথ্যের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির পক্ষে সুশীল সমাজের ভূমিকা এবং বাংলাদেশে একটি সুরক্ষিত ও অধিকারভিত্তিক ডিজিটাল ভবিষ্যতের রূপরেখা নিয়ে আলোচনায় যোগ দেন। এই অনুষ্ঠানে টিআইবি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে তরুণদের কথা তুলে ধরেছে। তাদের সৃজনশীল কাজকে উৎসাহিত করেছে। এর মাধ্যমে একটি মুক্ত, জবাবদিহিতামূলক এবং স্বচ্ছ ডিজিটাল ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে টিআইবি তাদের অব্যাহত অঙ্গীকারের কথা আবারও জানিয়েছে। অধিবেশনের শেষে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক অনুষ্ঠানের ডিজিটাল ফেলোদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন।