প্রকাশকাল: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪
এই যুগে সাংবাদিকতার প্রধান চাহিদা হলো নির্ভুলতা আর স্পষ্টতা। ডেটা সাংবাদিকতার সম্ভাবনা উপলব্ধি করে টিআইবি প্রথমবারের মতো আয়োজন করেছে তিন দিনের আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা। গত ২৬ থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলা এই কর্মশালায় সাংবাদিকরা ডেটা সাংবাদিকতার খুঁটিনাটি বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রিন্ট অনলাইন আর টেলিভিশন ২৫ জন পেশাদার সাংবাদিক অংশ নিয়েছিলেন এই জ্ঞানযজ্ঞে যেখানে তারা ডেটা সাংবাদিকতার জটিল দিকগুলো উন্মোচন করেন।
বিশ্বজুড়ে পানামা পেপার্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানে ডেটা সাংবাদিকতা তার কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। তবে বাংলাদেশে এর ব্যবহার এখনও সীমিত। টিআইবির এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা সেই শূন্যতা পূরণের লক্ষ্য নিয়েই শুরু হয়েছিল সাংবাদিকদের হাতে এমন সব সরঞ্জাম আর কৌশল তুলে দেওয়া যা দিয়ে তারা জটিল ডেটাসেট থেকে নির্ভুল আর গভীর অর্থবহ তথ্য বের করে আনতে পারবেন।
রাজেন্দ্রপুরের মনোরম পরিবেশে বিসিডিএম এ অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় আধুনিক সাংবাদিকতার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত ছিল। ডেটা সাংবাদিকতার শুরু থেকে শেষ তত্ত্ব ডেটা সংগ্রহ ও খোঁজার পদ্ধতি ডেটা পরিষ্কার ও বিশ্লেষণ করার টেকনিক আর সেই জটিল তথ্যকে কীভাবে আকর্ষণীয় গল্পে রূপ দেওয়া যায় সবই শিখলেন অংশগ্রহণকারীরা। বাদ যায়নি ওপেন সোর্স ডেটার ব্যবহার আর তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে লুকানো সত্য উদঘাটনের কৌশলও। পুরো কর্মশালায় সাংবাদিকরা ছিলেন দারুণ সক্রিয়, প্রশ্ন করেছেন, দলবদ্ধভাবে কাজ করে নতুন শেখা দক্ষতা ঝালিয়ে নিয়েছেন। প্রশিক্ষণটি এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যাতে সাংবাদিকরা হাতে কলমে অভিজ্ঞতা পান এবং তাদের প্রতিবেদনে এই জ্ঞান কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে পারেন।
যমুনা টেলিভিশনের রিপোর্টার রায়হান ফেরদৌস এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন এই ধরনের প্রশিক্ষণ আমাদের আরও নির্ভুল খবর তৈরি করতে সাহায্য করবে এবং সমাজের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ডেটা ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের প্রতিবেদনে নতুন গভীরতা ও মূল্য যোগ হবে। শুধু রায়হান নন আরও অনেক সাংবাদিকই টিআইবির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং গণমাধ্যমে এর প্রসার ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
এই কর্মশালার প্রশিক্ষণ দিয়েছেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা। ডিজিটালি রাইটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী, টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন ডিরেক্টর মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, টিআইবির সহকারী সমন্বয়কারী ও ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজার কে এম রফিকুল আলম ও রিফাত রহমান, ট্রেনিং বাংলার লিড কনসালট্যান্ট মোঃ আনোয়ার হোসেন ফকির এবং ব্লুমবার্গের ডেটা সাংবাদিক নাজমুল আহসান। তাদের সম্মিলিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সাংবাদিকদের ডেটাকে শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে গল্প বলার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে সাহায্য করেছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড ইফতেখারুজ্জামান সাংবাদিকতায় পেশাদারিত্ব ও ঐক্যের উপর জোর দেন। তিনি বলেন মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক কিন্তু সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং তথ্যের ভিত্তিতে নির্ভুল প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। একবার সততার সঙ্গে আপস করলে তা দীর্ঘস্থায়ী খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সর্বোত্তম উপায় হলো একটি সক্রিয় পদক্ষেপ এবং এই পেশায় ঐক্যবদ্ধ থাকা। তিনি আরও যোগ করেন যে টিআইবির এই ধরনের উদ্যোগ গণমাধ্যমকে সমর্থন করতে এবং অসঙ্গতি ও দুর্নীতি উন্মোচন করে জনগণের সেবা করতে অব্যাহত থাকবে।
এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ডেটা সাংবাদিকতার শক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে টিআইবির অঙ্গীকারকে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরে। গণমাধ্যম পেশাদারদের তথ্যের ভিত্তিতে প্রভাবশালী প্রতিবেদন তৈরিতে সক্ষম করার মাধ্যমে, টিআইবি এমন একটি নতুন ধারার সাংবাদিকতাকে অনুপ্রাণিত করার আশা রাখে যা ক্ষমতাধরদের জবাবদিহিতার আওতায় আনবে এবং সামাজিক পরিবর্তনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।