প্রকাশকাল: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪
পরিবেশ বাঁচাতে হলে আমাদের ঝুঁকতে হবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যেমন সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ইত্যাদি। এই বিষয়ে সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সাংবাদিকদের জন্য একটি বড় দায়িত্ব। কিন্তু কাজটি মোটেও সহজ নয়।
এই কঠিন কাজটি সহজ করতে এগিয়ে এসেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সম্প্রতি তারা সাংবাদিকদের জন্য তিন দিনের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। টিআইবির ধানমন্ডির অফিসে "বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ: অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় সাংবাদিকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি" শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি আর এনার্জি বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের দক্ষতা বাড়ানো।
অনুষ্ঠানের শুরুতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান গণমাধ্যমের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের নিবেদিত ভূমিকার জন্য উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি এই খাতের প্রতিবন্ধকতাগুলো মোকাবিলায় গণমাধ্যম, বিশেষ করে গ্রামীণ ও আঞ্চলিক পর্যায়ের গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করতে টিআইবির অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। ড. ইফতেখারুজ্জামান সাংবাদিকদের পেশাগত জীবনে সম্মুখীন হওয়া বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক প্রতিকূলতার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা সাংবাদিকদের পেশাগত সহায়তা নিশ্চিত করবে। কর্মশালায় অর্জিত নতুন জ্ঞান বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার জন্য তিনি অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করেন।
প্রথম দিনের শুরুতে আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম কর্মশালার মূলনীতি ও উদ্দেশ্যগুলো তুলে ধরেন। অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা কর্মশালা থেকে তাদের প্রত্যাশাগুলো জানান।
জ্বালানি সুশাসন প্রকল্পের সমন্বয়কারী নেওয়াজুল মাওলা জ্বালানি খাতে সুশাসন সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দেন। তিনি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন যে, আইনি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক অসংগতি বাংলাদেশে কার্যকর জ্বালানি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (ক্লিন)-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী একটি সেশন পরিচালনা করেন যেখানে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। প্রশিক্ষণার্থীরা বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারের হিসাব-নিকাশে অংশ নিয়ে দেশের জ্বালানি খাতের জটিল দিকগুলো অনুধাবন করেন। কর্মসূচির শেষে, অংশগ্রহণকারীরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে তাদের অনুসন্ধানের ফলাফল উপস্থাপন করেন।
দ্বিতীয় দিনে, প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি গোলাম ইফতেখার মাহমুদ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের গতিপ্রকৃতি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রতিবেদন তৈরির সুযোগ এবং প্রতিবন্ধকতা উভয়ই তুলে ধরেন। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে নির্ভুল প্রতিবেদনের জন্য সহজলভ্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য উৎসের গুরুত্বের ওপর তিনি জোর দেন।
আগের দিনের আলোচনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন নেওয়াজুল মাওলা। এরপর মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম পরবর্তী অধিবেশন পরিচালনা করেন। এই অংশে, তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানির তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়, যা তাদের অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করতে পারে।
উপকূলীয় অঞ্চলের প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম মন্টু স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিবেদন তৈরিতে যে সব প্রতিবন্ধকতা আসে, তা মোকাবিলা করার কৌশল নিয়ে একটি আকর্ষণীয় অধিবেশনের মাধ্যমে কর্মশালা শেষ করেন। তিনি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত জরুরি জলবায়ু ও পরিবেশগত বিষয়গুলোর ওপর জোর দেন এবং সাংবাদিকদের এই বাধাগুলো অতিক্রম করার জন্য কার্যকর সমাধান বাতলে দেন।
সমাপনী বক্তব্যে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই প্রশিক্ষণ সাংবাদিকদের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। তিনি সকলকে আশ্বস্ত করেন যে, টিআইবি সাংবাদিকদের, বিশেষ করে ঢাকার বাইরের সাংবাদিকদের, তাদের পেশাগত জীবনের প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সর্বদা সহযোগিতা করে যাবে। অধিকন্তু, তিনি তিনটি সেরা প্রশিক্ষণার্থী প্রতিবেদনের জন্য একটি বিশেষ স্বীকৃতি পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশে উন্নতমানের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা উৎসাহিত করতে টিআইবির অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সাংবাদিকদের ক্ষমতায়ন এবং সুশাসনকে কেন্দ্র করে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি সাংবাদিকদের মাঝে সনদপত্র বিতরণের মাধ্যমে সফলভাবে সমাপ্ত হয়।