নতুন বাংলাদেশের ভাবনা নিয়ে গণতন্ত্র দিবসে তরুণদের সংলাপ

প্রকাশকাল: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪

নতুন বাংলাদেশের যুবসমাজ কোন পথে এগোবে? স্বাধীনতার দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর এই দেশে গণতন্ত্র ও কার্যকর সুশাসন নিশ্চিত করতে কী হবে পরবর্তী করণীয়? আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস ২০২৪ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনায় এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজেছেন তরুণরা, যার মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে ভবিষ্যতের এক সাহসী সম্ভাবনার চিত্র।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে আয়োজন করে এক উন্মুক্ত আলোচনা সভা, যেখানে অংশ নেন ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) গ্রুপের সদস্যরা, তরুণ পেশাজীবী, লেখক, সাংবাদিক এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সংগঠকেরা। আলোচনায় তারা তুলে ধরেন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে যুবসমাজের ভাবনা, করণীয় ও দায়বদ্ধতার বিষয়গুলো।

তরুণরা বলেন, এই দেশের সম্ভাবনা অসীম এবং ভবিষ্যতের সরকার ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করাতে হবে যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়। তারা প্রশাসনিক, বিচারিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে কাঠামোগত সংস্কারের দাবি জানান এবং বলেন জনগণকেই রাষ্ট্রক্ষমতার প্রকৃত ধারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, অতীতে জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রের এক ধরনের অবিশ্বাসের সম্পর্ক ছিল। তিনি বলেন, আমাদের প্রশ্ন করুন, কারণ প্রশ্ন থেকেই গতি আসবে। যারা আমাদের বিরোধিতা করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা আমাদের দ্বিগুণ দায়িত্ব।

আলোচনার অপর এক সংগঠক আরিফ সোহেল বলেন, আমরা জনগণের ভাষায় কথা বলেছি বলেই স্বৈরতন্ত্রের পতন ঘটাতে পেরেছি। এই আন্দোলন ছিল সমতা মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়ের ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্র গঠনের জন্য।

জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন বলেন, নতুন বাংলাদেশ তরুণদের মাঝে নতুন প্রত্যাশা ও স্বপ্ন জাগিয়েছে। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে জনসংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্র কাঠামোর রূপান্তর ঘটানো এখন সময়ের দাবি।

এই বক্তব্যকে এগিয়ে নিয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, নতুন বাংলাদেশের অন্যতম দায়িত্ব হবে প্রতিটি নাগরিকের সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং সেটা রাষ্ট্রীয় নীতির কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত।

প্রখ্যাত লেখক সাদাত হোসাইন বলেন, শুধুমাত্র সময়মতো নির্বাচন আয়োজন করলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে জনগণের চিন্তা মতামত ও বুদ্ধিবৃত্তিক অংশগ্রহণকে রাষ্ট্র কাঠামোর অংশ করতে হবে।.

সাংবাদিক ও ব্যঙ্গশিল্পী সিমু নাসের বলেন, আমি এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে কেউ সরকার বা রাষ্ট্রের সমালোচনা করলেই তাকে নিপীড়নের মুখে পড়তে না হয়। তিনি বলেন, বিভিন্ন পেশা শ্রেণি পটভূমি ও মতাদর্শের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই আমরা স্বৈরতন্ত্র মোকাবিলা করতে পেরেছি।

গণমাধ্যমকর্মী ফারাবি হাফিজ বলেন, নতুন বাংলাদেশে প্রতিশোধের সংস্কৃতি কিংবা হিংসাত্মক মনোভাবের জায়গা থাকতে পারে না। গণপিটুনির মতো ঘটনা প্রতিহত করতে হবে মানবিক রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মাধ্যমে।

আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ইয়েস গ্রুপের সদস্যরা, তরুণ সাংবাদিক ও পেশাজীবীরা। তারা সবাই অত্যন্ত উৎসাহ ও মনোযোগের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের ভাবনা তুলে ধরেন।

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান তাঁর বক্তব্যে তরুণদের আন্দোলন ও সংগ্রামের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, এই নতুন বাংলাদেশের পথে আমাদের প্রয়োজন একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তি যা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনায় পরিচালিত হবে এবং জনমানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে।


অন্যান্য ওয়েব স্টোরি