বিশ্ব আদিবাসী দিবস ২০২৪

আদিবাসীদের ওপর অত্যাচারের নিরপেক্ষ তদন্ত, সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও নতুন মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি টিআইবির

প্রকাশকাল: ১৭ আগস্ট ২০২৪

বিশ্বজুড়ে আদিবাসী মানুষেরা তাদের নিজেদের মতো করে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, জীবনযাত্রা সবকিছুই অন্যদের কৌতূহলের বস্তু। কিন্তু প্রায়শই তাদের ওপর নেমে আসে নানা অত্যাচার, কেড়ে নেওয়া হয় তাদের জমি, খর্ব করা হয় অধিকার। এই সব অবিচারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে এবং আদিবাসীদের অধিকার রক্ষায় প্রতি বছর পালিত হয় বিশ্ব আদিবাসী দিবস।

এ বছরও এই বিশেষ দিনটি উপলক্ষে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আরও কয়েকটি সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) এবং বাংলাদেশ ইন্ডিজেনাস পিপলস ফোরাম এই আয়োজনে টিআইবির সঙ্গে ছিল। এছাড়াও আরও অনেক মানবাধিকার ও সামাজিক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন এই উদযাপনে যোগ দেয়। এবারের বিশ্ব আদিবাসী দিবসের মূল থিম ছিল "স্বেচ্ছায় বিচ্ছিন্ন থাকা এবং প্রাথমিক সংস্পর্শে আসা আদিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা"।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ১৭ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে দিবসটি উপলক্ষে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভার শিরোনাম ছিল "রাষ্ট্র ও সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর দায়িত্ব: ভূমি, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং আদিবাসীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ"। এই অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি জানান। মোট ১৪টি সংগঠন এই আলোচনা সভায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে টিআইবি, এএলআরডি, আদিবাসী ফোরাম, বাংলাদেশ আদিবাসী পরিষদ, আইপিডিএস, ব্লাস্ট, নিজেরা করি, বেলা, আরবান, কাপেং ফাউন্ডেশন, সিসিডিবি, কারিতাস বাংলাদেশ, আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন উল্লেখযোগ্য।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের একটি সুযোগ তৈরি করেছে। এটি সংবিধানের মূল ভাবনা বজায় রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথও তৈরি করেছে। এই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন আদিবাসীসহ সকলের প্রতি সব ধরনের বৈষম্য প্রত্যাখ্যান করে। ড. ইফতেখারুজ্জামান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি বছরের পর বছর ধরে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর যে অবিচার করা হয়েছে তার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান। তিনি অনুষ্ঠানের ১৪ দফা দাবির প্রতিও সমর্থন জানান। সমতল ও পাহাড়ের আদিবাসীদের আরও ভালোভাবে সেবা দেওয়ার জন্য তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে 'আদিবাসী অধিকার বিষয়ক মন্ত্রণালয়' করারও প্রস্তাব দেন।

অনুষ্ঠানে যে ১৪ দফা দাবি তুলে ধরা হয়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: আদিবাসীদের সুরক্ষার জন্য আইন প্রণয়ন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে সমতলের আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, আদিবাসীদের ভূমি দখল ও মানবাধিকার লঙ্ঘন অবিলম্বে বন্ধ করা, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করা, আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র (২০০৭) বাস্তবায়ন করা, পর্যটন, ইকোপার্ক এবং ইপিজেডের নামে আদিবাসী ভূমিতে বিলাসবহুল প্রকল্প বন্ধ করা, আদিবাসীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা এবং বিশ্ব আদিবাসী দিবসকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন করার পাশাপাশি আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকর্মী খুশি কবির। আলোচক হিসেবে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি বিচিত্রা তির্কি এবং এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা।


অন্যান্য ওয়েব স্টোরি