জলবায়ু বিতর্ক: চ্যাম্পিয়ন রুয়েট, তরুণদের কণ্ঠে জলবায়ু সুরক্ষার ডাক

প্রকাশকাল: ০১ জুন ২০২৪

পৃথিবী ও জলবায়ু নিয়ে তরুণদের ভবিষ্যত ভাবনাগুলো এখন আরও স্পষ্ট। সম্প্রতি ‘তরুণদের দৃষ্টিতে পৃথিবী ও জলবায়ু’ শীর্ষক এক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তারই প্রতিধ্বনি শোনা গেল। এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)। রানার্সআপ হয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি (ডিইউডিএস) যৌথভাবে এই দুই দিনব্যাপী প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এর মূল লক্ষ্য ছিল জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়, যেমন - সুশাসন, অর্থায়ন, প্রশমন এবং অভিযোজন ইত্যাদি বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা। এই প্রতিযোগিতায় মোট ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নেয়।

প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে বিতর্কের বিষয় ছিল গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের (জিসিএফ) কার্যকারিতা। বিপক্ষ দল জিসিএফের বিভিন্ন ত্রুটি এবং সরকার ও দূষণকারী উন্নত দেশগুলোর আরও বেশি জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিজয়ী হয়।

চূড়ান্ত বিতর্কের বিচারকরা জলবায়ু বিষয়ক আলোচনা শুধু বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সংসদ, নীতি নির্ধারণী সংলাপ এবং দৈনন্দিন কথোপকথনেও ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা তরুণ বিতার্কিকদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য গবেষণা ও যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বাড়াতে উৎসাহিত করেন।

ডিইউডিএস-এর মডারেটর অধ্যাপক ড. এস এম শামীম রেজা বলেন, জলবায়ু উদ্বেগ শুধু উপকূলীয় এলাকার মানুষের নয়, এটি এখন সবাইকেই প্রভাবিত করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিতর্ক বৈশ্বিক বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর আন্তর্জাতিক মঞ্চেও শোনা যাবে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জলবায়ু পরিবর্তনে দুর্নীতির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতি জিসিএফের পক্ষপাতমূলক আচরণের ওপর টিআইবির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তরুণদের নেতৃত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং জলবায়ু সম্পর্কিত বিতর্কে টিআইবির চলমান সম্পৃক্ততার প্রতিশ্রুতি দেন।

ডিইউডিএস-এর প্রধান মডারেটর অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগের বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জিসিএফ এবং বৈশ্বিক জলবায়ু সংস্থাগুলোর ওপর মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি শিশুদের শিক্ষাক্রমে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, এই পৃথিবীকে বাঁচানোর দায়িত্ব আমাদের সকলের। তিনি বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়ন সংস্থাগুলোর স্বার্থের সংঘাত এবং ক্ষয়ক্ষতির ওপর গুরুত্ব না দেওয়ার সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, বিশেষ করে এটি তরুণদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এই ধরনের একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য তিনি টিআইবিকে ধন্যবাদ জানান।

এ বছরের প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৩২টি দল অংশ নেয়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, কাজী নজরুল সরকারি কলেজ, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চ, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, সরকারি বাংলা কলেজ, তেজগাঁও কলেজ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী কলেজ।

জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ তৈরি করে চলেছে। টিআইবির এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল জলবায়ু সুশাসন সম্পর্কে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। এই আয়োজন জলবায়ু অর্থায়ন এবং বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে অর্থবহ আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছে। টিআইবি দুর্নীতিবিরোধী ও নীতি নির্ধারণী সংলাপে তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করেছে।


অন্যান্য ওয়েব স্টোরি