৬ষ্ঠ উপজেলা নির্বাচন (প্রথম ধাপ)

হলফনামায় সম্পদের রমরমা, তথ্য গোপনেরও অভিযোগ!

প্রকাশকাল: ০৬ মে ২০২৪

উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর আয় গত ৫ বছরে বেড়েছে ৩,৩১৯ শতাংশ! আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থীর ওপর নির্ভরশীল একজনের অস্থাবর সম্পদ ২০১৯ সাল থেকে বেড়েছে ১২,৪০০ শতাংশ! শুধু তাই নয়, কমপক্ষে ৯ জন প্রার্থীর জমির পরিমাণ ৩৩ একরের আইনি সীমার চেয়েও বেশি। এদের মধ্যে একজন প্রার্থীরই রয়েছে প্রায় ৭৪ একর জমি! ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ষষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এমন সব গরমিলের চিত্র তুলে ধরেছে।

টিআইবির এই বিশ্লেষণে প্রার্থীদের সম্পদে উদ্বেগজনক বৃদ্ধি এবং সম্পদ ও আয়ের তথ্যে সম্ভাব্য জালিয়াতির একটি ধারা দেখা যায়। দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি জানায়, টিআইবির সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের হলফনামা বিশ্লেষণেও প্রথমবারের মতো এমন ঘটনা দেখা যায় এবং এই প্রবণতা স্থানীয় সরকার পর্যায়েও অব্যাহত রয়েছে। টিআইবির মতে, এই বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণকারী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিষ্ক্রিয়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রথম ধাপের এই বিশ্লেষণের ফলাফলকে ‘বেদনাদায়ক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, অনেক প্রার্থীর আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এমনকি জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থীদের থেকেও বেশি। হলফনামায় দেওয়া তথ্যের বৈধতা ও নির্ভুলতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। কিছু প্রার্থী অবাস্তবভাবে কম আয় দেখিয়েছেন, যা সন্দেহ তৈরি করে। অধিকন্তু, প্রার্থীদের ওপর নির্ভরশীলদের আয় ও সম্পদ কীভাবে এত নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান তুলে ধরেন, তথ্যের জন্য শুধুমাত্র প্রার্থীদের হলফনামার ওপর নির্ভর করা নির্ভরযোগ্যতা, যাচাইকরণ এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করে। হলফনামা যাচাই না করার জন্য তিনি নির্বাচন কমিশন (ইসি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর সমালোচনা করেন।

টিআইবির বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, ২৩.৪১ শতাংশ প্রার্থীর ঋণ বা দায় রয়েছে। ঋণের সর্বোচ্চ পরিমাণ ১,৫২৮ কোটি টাকা। এটি আরও দেখায়, উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপের ১৬.৬৪ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনি মামলা রয়েছে। চেয়ারম্যান পদে আগ্রহীদের মধ্যে ৯৪ জন কোটিপতি। আগের নির্বাচনের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে (পঞ্চম নির্বাচনে কোটিপতি ছিলেন ৩৭ জন)।

টিআইবি চতুর্থ, পঞ্চম এবং ষষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনের প্রায় ৪,৮০০ হলফনামায় দেওয়া ৮ ধরনের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বহুমাত্রিক ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ, সামগ্রিক চিত্র এবং উপজেলাভিত্তিক তুলনা সম্বলিত ‘আপনার প্রার্থীকে জানুন (কেওয়াইসি)’ ড্যাশবোর্ড উন্মোচন করেছে। এই বিশ্লেষণের লক্ষ্য নাগরিকদের সঠিক প্রার্থী বেছে নিতে সাহায্য করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারি সংস্থাগুলোকে সহায়তা করা।

সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এই ড্যাশবোর্ড এবং সম্পূর্ণ উপস্থাপনা এখানে পাওয়া যাবে - https://www.ti-bangladesh.org/kyc


অন্যান্য ওয়েব স্টোরি