দক্ষিণ এশিয়ায় গণমাধ্যম সংস্কৃতি ভয়ের চাদরে আবৃত

প্রকাশকাল: ০২ মে ২০২৪

বিশ্বজুড়ে পরিবেশ যখন সংকটের মুখে, তখন সাংবাদিকতা আর মত প্রকাশের স্বাধীনতা আরও বেশি জরুরি। মুক্ত গণমাধ্যমই পারে পরিবেশের এই কঠিন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সঠিক তথ্য দিয়ে মানুষকে সচেতন করতে। আর এই সচেতনতাই পারে পৃথিবীকে বাঁচাতে। তাই গণমাধ্যমের প্রশিক্ষণ বাড়ানো দরকার, যাতে জলবায়ু ও পরিবেশ বিষয়ে নির্ভুল সংবাদ পরিবেশন করা যায়। সম্প্রতি বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে টিআইবি ও তার সহযোগীদের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই বিষয়গুলোই প্রাধান্য পায়।

"সংকটকালীন সাংবাদিকতায় গণমাধ্যমের সুরক্ষা" শীর্ষক এক আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৪ পালিত হয়। ইউনেস্কো, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং আর্টিকেল নাইনটিন যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিকরা অংশ নেন। ঢাকায় ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির ব্যুরো চিফ জনাব শফিকুল আলমের সঞ্চালনায় এই আলোচনায় সংকটকালীন পরিস্থিতিতে সংবাদ পরিবেশনের জন্য গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। আলোচকরা পরিবেশগত সংকট নিয়ে সংবাদ পরিবেশনে গণমাধ্যমের সক্ষমতা বাড়াতে আরও বেশি সহায়তার ওপর জোর দেন। তারা দক্ষিণ এশিয়ায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে যে সব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, যেমন - সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন, সহিংসতা এবং সেন্সরশিপ, সেগুলোও তুলে ধরেন।

সাংবাদিক শফিকুল আলম অর্থনৈতিক, সংঘাত এবং পরিবেশগত বিভিন্ন সংকট নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। ভারতের ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টসের সহ-সভাপতি সাবিনা ইন্দরজিৎ ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ আইনের কারণে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি যে হুমকি তৈরি হয়েছে, তা তুলে ধরেন। ভারতের ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের রাধিকা রাও তার দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি সাংবাদিকদের ওপর অভিযান এবং ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার মতো চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সাইবার নিরাপত্তা আইনের কারণে বাংলাদেশে যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন বাংলাদেশের গণমাধ্যম দমন-পীড়নের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশে ইউনেস্কোর আবাসিক প্রতিনিধি মিস সুজান ভাইজ বলেন, বিজ্ঞানী, সরকার এবং সুশীল সমাজের মধ্যে তথ্যের যে ব্যবধান রয়েছে, তা পূরণে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে পরিবেশগত বিষয়গুলোতে সঠিক, সময়োপযোগী এবং ব্যাপকভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।

এই আলোচনা সভাটি বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ এবং প্রাণবন্ত মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ দেশের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। অনেক অগ্রগতি সত্ত্বেও, দক্ষিণ এশিয়ায় ভয়, অসহিষ্ণুতা এবং স্বাধীন কণ্ঠস্বর দমনের মতো সমস্যাগুলো এখনও বিদ্যমান যা এই অঞ্চলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য একটি চলমান চ্যালেঞ্জের প্রতিফলন।


অন্যান্য ওয়েব স্টোরি