সুশাসনের পথে যাত্রা এগিয়ে নিতে সনাকের উদ্যোগ

প্রকাশকাল: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবিকে শক্তিশালী করতে নতুন এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)। কুমিল্লা, দিনাজপুর এবং লালমনিরহাটে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল (এনআইএস) এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) সংক্রান্ত একাধিক কর্মশালার আয়োজন করেছে সংস্থাটি। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা এতে যোগ দেন এবং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকরী পরিকল্পনা তৈরি করেন।

টিআইবি-র সিভিক এনগেজমেন্ট বিভাগ কর্মশালাগুলোয় প্রাণবন্ত নলেজ শেয়ারিং সেশন পরিচালনা করে। কর্মশালাগুলোতে শুদ্ধাচারের ধারণা নিয়ে হয় গভীর আলোচনা। অংশগ্রহণকারীরা জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের কাঠামো খুঁটিয়ে দেখেন। বাংলাদেশের উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে এর যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, তা নিয়েও কথা হয়। বিশেষ করে এসডিজি-১৬-এর ওপর জোর দেওয়া হয়। দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং স্বচ্ছ প্রশাসন গড়তে এর যে অপরিসীম গুরুত্ব, সেটিও তুলে ধরা হয়।

কর্মশালায় একজন জ্যেষ্ঠ জেলা কর্মকর্তা বলেন, "উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে স্বচ্ছতা এবং শুদ্ধাচারের কোনো বিকল্প নেই। সব প্রতিষ্ঠানে শুদ্ধাচার কৌশল ঠিকঠাকভাবে কাজে লাগাতে হলে তথ্য জানার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করাটা খুবই জরুরি।"

এই ধারাবাহিক কর্মশালাগুলোতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মোট ১৮৯ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। তাঁরা সবাই মিলে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেন। এই পরিকল্পনাগুলোর মূল লক্ষ্য, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন এবং এসডিজি অর্জনকে আরও এগিয়ে নেওয়া।

তিনটি জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই তৃণমূল থেকে ‘বটম আপ’ পদ্ধতিতে পরিবর্তনের ওপর বিশেষভাবে জোর দেন। আলোচনা চলাকালে একজন জেলা প্রশাসক মন্তব্য করেন, "দুর্নীতি প্রতিরোধের শুরুটা হওয়া উচিত নিজের ঘর থেকে। আমাদের দপ্তরে স্বচ্ছতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আগে এই চর্চা পরিবার থেকে শুরু করতে হবে।"

কর্মশালাগুলো থেকে শুদ্ধাচার ব্যবস্থা বাস্তবায়নের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য এগিয়ে নেওয়ার জন্য বাস্তবসম্মত নানা কৌশল উঠে আসে। অংশগ্রহণকারীরা সরকারের এসডিজি সংক্রান্ত উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কীভাবে এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে সাহায্য করতে পারে, তা তাঁরা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখেন। বাংলাদেশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের যে মহান ঐতিহ্য, তাকে সম্মান জানাতে হলে শুদ্ধাচার কৌশলের সঠিক বাস্তবায়ন জরুরি – এই বিষয়টিও আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।

প্রতিটি কর্মশালা ইতি টানার আগে উপস্থিত কর্মকর্তাবৃন্দ যেসব পরিকল্পনা উঠে এসেছে সেগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। তাঁরা গভীর আস্থা প্রকাশ করেন যে, এই উদ্যোগগুলো স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তাদের জ্ঞান এবং দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

এমন সমন্বিত উদ্যোগের মধ্য দিয়ে টিআইবি-র সনাকগুলো সারাদেশে শুদ্ধাচার ও টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও বাড়িয়ে তুলছে। যা আরও স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে জনসেবা প্রদান ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করছে।