প্রকাশকাল: ১৩ জানুয়ারি ২০২৫
দুর্নীতি প্রতিরোধে নাগরিকদের আরও শক্তিশালী করতে দেশজুড়ে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সম্প্রতি তথ্য মেলার আয়োজন করেছে। এই মেলাগুলো স্থানীয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সনাক এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়। একাধিক সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা মেলায় আগত দর্শনার্থীদের তাদের সেবা সম্পর্কিত তথ্য দিয়েছে।
মেলায় কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান গণশুনানিতে অংশ নিয়ে নাগরিকদের প্রশ্নের উত্তর দেয় এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে। সনাকগুলোর ‘ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট’ (ইয়েস) গ্রুপের সদস্যরা মেলায় আগতদের তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ সম্পর্কে জানান। তারা আইন অনুযায়ী তথ্যের জন্য আবেদন করতেও সাহায্য করেন। ডিসেম্বর মাসব্যপী ১৮টি সনাক এলাকায় মোট ১৮টি তথ্য মেলা আয়োজিত হয়য়। এই তথ্য মেলাগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
বগুড়া (০২ ও ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪): বগুড়ার মেলায় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা সম্পর্কে জানতে মেলায় অংশ নেন। ইয়েস সদস্যদের সহায়তায় ৯২৭ জন নাগরিক তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী আবেদনপত্র পূরণ করতে শেখেন। ৩০টি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্টলে সাত শতাধিক মানুষ তথ্যের জন্য আবেদন করেন। মেলায় ২৫০ জন দর্শনার্থী মোট ৩৫৭টি আবেদন পূরণ করেন।
মেলায় তথ্য অধিকার আইনের উপর একটি কুইজ প্রতিযোগিতা হয়। এতে ৬৪৭ জন অংশ নেন। একটি গণশুনানিও অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, সিভিল সার্জন অফিস, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ অফিস, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং জেলা শিক্ষা অফিস অংশ নেয়। তারা নাগরিকদের তোলা বিভিন্ন বিষয় ও উদ্বেগের জবাব দেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ (০২ ও ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪): চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও সনাক যৌথভাবে দুই দিনের তথ্য মেলার আয়োজন করে। এই মেলা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরের চাঁপাইনবাবগঞ্জ মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা, গোপনীয়তার সংস্কৃতি বাতিল এবং তরুণদের দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে উৎসাহিত করা।
'দুর্নীতি প্রতিরোধে তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ' শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা বলেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশের সংস্কৃতি চালু হলে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব। এর জন্য কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা প্রয়োজন।
আলোচনা সভার পর ভূমি, স্বাস্থ্য ও কৃষি সেবা নিয়ে গণশুনানি হয়। বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাহমুদুর রশিদ, ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাসুদ পারভেজ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. পলাশ সরকার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনজুমান সুলতানা এবং জেলা রেজিস্ট্রার আফসানা বেগম প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
গণশুনানির প্রশ্নোত্তর পর্বে সেবাপ্রার্থীদের প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। মেলায় ইয়েস সদস্যরা তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী তথ্য পাওয়ার আবেদনপত্র পূরণে দর্শনার্থীদের সহায়তা করেন। বিভিন্ন দপ্তর তাদের সেবা সম্পর্কিত লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করে।
যশোর (০৪ ও ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪): যশোরে কর্মসূচিকে নতুন মাত্রা দিতে শহরের প্রধান রাস্তা ঘুরে মেলা প্রাঙ্গণে একটি শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। যশোর টাউন হলে দুই দিনব্যাপী এই মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আজহারুল ইসলাম।
মেলায় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, তথ্য উন্মুক্ত থাকলে তথ্য প্রদানকারীরাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। কারণ তথ্য অধিকার আইন বিভ্রান্তি কমায়। ২০টি সরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের নিজ নিজ বিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতে স্টল বসায়। মেলায় শুধু তথ্য প্রচারই নয় পাশাপাশি গণশুনানি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অগ্নিনির্বাপণ মহড়া, কুইজ প্রতিযোগিতা, দুর্নীতিবিরোধী স্বাক্ষর অভিযান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
গাজীপুর (০৮ ও ০৯ ডিসেম্বর ২০২৪): গাজীপুর সনাক ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী তথ্য মেলার উদ্বোধন করেন সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক নাফিসা আরেফিন।
মোট ৩৩টি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দর্শনার্থীদের মধ্যে সেবা সম্পর্কিত তথ্য বিতরণ করে। মেলায় আগত প্রায় ১৫০০ দর্শনার্থী তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ সম্পর্কে জানতে পারেন। তাদের মধ্যে ৫৭০ জন তথ্যের জন্য আবেদন জমা দেন এবং ৪৫৯ জন মেলায় তথ্য পান। জেলা প্রশাসক তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ জনপ্রিয় করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের জন্য সনাক, গাজীপুরকে ধন্যবাদ জানান।
আয়োজনের অংশ হিসেবে মেলার মাঠে একটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভূমি অফিস, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ অংশ নেয়। তারা মেলায় আসা দর্শনার্থীদের তোলা বিভিন্ন প্রশ্ন ও উদ্বেগের জবাব দেন। গাজীপুর সনাক তথ্য মেলায় দুর্নীতিবিরোধী কার্টুন প্রদর্শনীরও আয়োজন করে।
নাটোর (০৯ ও ১০ ডিসেম্বর ২০২৪): "নতুন বাংলাদেশ – দুর্জয় তারুণ্য দুর্নীতি রুখবেই" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নাটোর সনাক দিনব্যাপী তথ্য মেলার আয়োজন করে। এই মেলা নাটোর জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নাটোরের কানাইখালী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্বোধন করেন।
মোট ৪৩টি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নেয় ও সেবা সম্পর্কিত তথ্য বিতরণ করে। মেলার আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক প্রধান অতিথি হিসেবে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের রাজশাহী বিভাগের পরিচালক তানভীর আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। আলোচনায় বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সেবা সম্পর্কিত তথ্য স্বপ্রণোদিতভাবে প্রকাশের জন্য অনুরোধ জানান। মোট ৫৫০ জন নাগরিক তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ সম্পর্কে জানতে পারেন। তাদের মধ্যে ৩০৬ জন মেলায় তথ্যের জন্য আবেদন জমা দেন।
দিনাজপুর (০৯ ও ১০ ডিসেম্বর ২০২৪): দিনাজপুরে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী তথ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের হাতিয়ার হিসেবে তথ্য অধিকার আইন ব্যবহারের আহ্বান জানান। কেউ তথ্যের জন্য আবেদন করলে কর্তৃপক্ষকে নাগরিকদের সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান তিনি।
উপজেলা ভূমি অফিস, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, জেলা শিক্ষা অফিস, জেলা সমাজসেবা অফিস এবং ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, দিনাজপুর সহ ছয়টি কর্তৃপক্ষ মেলায় একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেয়। এই সভায় নাগরিকরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো সমাধান করে এবং সেবার মান উন্নয়নে মতামত জানানোর জন্য নাগরিকদের ধন্যবাদ জানায়। মেলায় মোট ৩৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয় এবং দর্শনার্থীদের মধ্যে তথ্য বিতরণ করে।
কুড়িগ্রাম (০৯ ও ১০ ডিসেম্বর ২০২৪): কুড়িগ্রাম সনাক, জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কুড়িগ্রামের স্বাধীনতার বিজয়স্তম্ভে দুই দিনব্যাপী তথ্য মেলার আয়োজন করে। এতে ৩১টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয় এবং তাদের সেবা সম্পর্কিত তথ্য বিতরণ করে।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলতানা প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্বোধন করেন। তিনি অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষকে তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তথ্যের অবাধ প্রাপ্তির গুরুত্ব নিয়ে মেলায় একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় তথ্য অধিকার আইন অনুসরণ করে মোট ১৫১ জন তথ্যের জন্য আবেদন করেন এবং ১০৬ জন তাদের প্রত্যাশিত তথ্য পান। আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, ভূমি অফিস এবং প্রাথমিক শিক্ষা অফিস একটি অধিবেশনে অংশ নেয়। এখানে দর্শনার্থীরা সেবার মান উন্নয়নে তাদের মতামত ও নিজস্ব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
লালমনিরহাট (০৯ ও ১০ ডিসেম্বর ২০২৪): লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন এবং সনাক, লালমনিরহাট যৌথভাবে শহরের মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধ চত্বরে দুই দিনব্যাপী তথ্য মেলার আয়োজন করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. রাজিব আহসান বলেন, 'সব প্রতিষ্ঠানের স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ দুর্নীতি প্রতিরোধের একটি উপায়। যেহেতু বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষ অনলাইন থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে না তাই জনগণের জানার অধিকার আছে এমন সব তথ্য সরবরাহের জন্যই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।'
মেলায় মোট ২৭টি সরকারি প্রতিষ্ঠান দর্শনার্থীদের মধ্যে তথ্য প্রদান করে। ইয়েস গ্রুপের উদ্যোগে দর্শনার্থীদের তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে বোঝানো হয় এবং হাতে-কলমে তথ্য পাওয়ার আবেদনপত্র পূরণ করতে শেখানো হয়।
দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং সরকারি সেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্ব। মোট ২৯৬ জন নাগরিক তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ সম্পর্কে জানতে পারেন। তাদের মধ্যে ২৬৫ জন তথ্যের জন্য আবেদন জমা দেন এবং ১৭২ জন মেলায় তথ্য পান।
নীলফামারী (০৯ ও ১০ ডিসেম্বর ২০২৪): তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি এবং জনগণের তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নীলফামারীতে দুই দিনব্যপী তথ্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়। নীলফামারী জেলা প্রশাসন এবং নীলফামারী সনাক-এর যৌথ উদ্যোগে শহীদ মিনার চত্বরে এই মেলা আয়োজিত হয়।
মেলায় মোট ৪২টি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দর্শনার্থীদের তথ্য প্রদান করে। মেলার দ্বিতীয় দিনে বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা তাদের সেবা সম্পর্কিত বিষয় তুলে ধরেন এবং উপস্থিত নাগরিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। মেলায় শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। মেলা প্রাঙ্গণে দুর্নীতিবিরোধী স্বাক্ষর অভিযানও আয়োজিত হয়।
ঝিনাইদহ (০৯ ও ১০ ডিসেম্বর ২০২৪): "নতুন বাংলাদেশ – দুর্জয় তারুণ্য দুর্নীতি রুখবেই" এই প্রতিপাদ্য নিয়ে দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদযাপনের লক্ষ্যে ঝিনাইদহ সনাক এবং জেলা প্রশাসন যৌথভাবে তথ্য মেলার আয়োজন করে।
মোট ২৮টি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তথ্য মেলায় অংশ নেয় এবং নাগরিকদের মধ্যে সেবা সম্পর্কিত তথ্য বিতরণ করে। এই অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল নাগরিকদের উন্মুক্ত আলোচনা। বক্তারা আলোচনায় বলেন সঠিক তথ্য পাওয়া জনগণের অধিকার। এছাড়া, তথ্যের অধিকার মানবাধিকার নিশ্চিত করে এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করে। তারা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নাগরিকদের তথ্য দেওয়ার সময় আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।
মেলায় শুধু তথ্য বিতরণই নয়, গণশুনানি, খোলা আলোচনা, কুইজ প্রতিযোগিতা, দুর্নীতিবিরোধী গণস্বাক্ষর অভিযান, তথ্য অধিকার আইনের উপর তথ্যচিত্র প্রদর্শন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ঝালকাঠি (০৯ ও ১০ ডিসেম্বর ২০২৪): তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্থানীয় সনাক এবং ঝালকাঠি জেলা প্রশাসন তথ্য মেলার আয়োজন করে। ৩৬টি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার স্টলের মাধ্যমে মেলায় এক হাজারেরও বেশি মানুষকে বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়।
তথ্য অধিকারের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করে আলোচকরা বলেন, রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়তে তথ্যের সহজলভ্যতা অপরিহার্য। তাই তথ্য চাওয়া জনগণের অধিকার এবং জনগণকে তথ্য দেওয়া সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। মেলার নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি কুইজ প্রতিযোগিতা, দুর্নীতিবিরোধী স্বাক্ষর অভিযান, কার্টুন প্রদর্শনী, গণশুনানি, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, ফটো ফ্রেম, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনটি আকর্ষণীয় করে তোলে।
সাতক্ষীরা (১০ ও ১১ ডিসেম্বর ২০২৪): সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সনাক, সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে দুই দিনব্যাপী তথ্য মেলার আয়োজন করে। এখানে আয়োজনের অংশ হিসেবে ছিল উন্মুক্ত আলোচনা, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া, দুর্নীতিবিরোধী কুইজ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যভাণ্ডার উপস্থাপন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মেলায় একটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয় যেখানে পাসপোর্ট অফিস, শিক্ষা অফিস এবং সূর্যের হাসি ক্লিনিক ও অগ্রগতি সংস্থা নাগরিকদের উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেয়। মেলায় ২০টি সরকারি এবং ৬টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।
রাজবাড়ী (১০ ও ১১ ডিসেম্বর ২০২৪): সনাক, রাজবাড়ী এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত তথ্য মেলায় মোট ৬০২৪ জন নাগরিক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা সম্পর্কে জানতে পারেন। এছাড়া, মেলায় ৪৬০ জন নাগরিক তথ্যের জন্য আবেদন করেন এবং তাদের মধ্যে ৪৩৫ জন তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী তথ্য পান।
ইয়েস সদস্যদের সহায়তায় নাগরিকরা তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী তথ্যের আবেদনপত্র পূরণ করতে শেখেন। রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া মেলার উদ্বোধন করেন। মেলায় ৩০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়ে দর্শনার্থীদের মধ্যে তথ্য বিতরণ করে। মেলায় একটি আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়।
পটুয়াখালী (১১ ও ১২ ডিসেম্বর ২০২৪): ‘তথ্য অধিকার সুশাসনের পূর্বশর্ত’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন এবং সনাক, পটুয়াখালী যৌথভাবে পটুয়াখালী ডিসি স্কয়ারে দুই দিনের তথ্য মেলার আয়োজন করে।
মোট ৪২টি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তথ্য মেলায় অংশ নেয় এবং নাগরিকদের মধ্যে সেবা সম্পর্কিত তথ্য বিতরণ করে। এই মেলায় বিতর্ক ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। মেলার একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন ছিল মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তাদের সেবা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে উপস্থাপন। আলোচনায় বক্তারা একমত হন যে এই ধরনের মেলা সেবাদাতা ও সেবাগ্রহীতার মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। তারা এই মেলা বারবার আয়োজন এবং ভবিষ্যতে সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি নিশ্চিত করার উপর জোর দেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া (১২ ডিসেম্বর ২০২৪): জমকালো ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সনাক ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও জেলা প্রশাসন দিনব্যাপী তথ্য মেলার আয়োজন করে। মোট ৩০টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নেয় এবং তাদের সেবা সম্পর্কিত তথ্য বিতরণ করে।
উদ্বোধনী ভাষণে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘সরকার তথ্য অধিকারের গুরুত্ব বিবেচনা করে একটি আইন পাস করেছে। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে তথ্য অধিকার আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’। ইয়েস সদস্যরা মেলা এবং অন্যান্য অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করেন। তারা নাগরিকদের তাদের অধিকার বুঝতে, আবেদনপত্র পূরণ করতে এবং কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে সাহায্য করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সনাক মেলাকে স্মরণীয় করে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়। তারা দুর্নীতিবিরোধী স্বাক্ষর অভিযান, কার্টুন প্রদর্শনী, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, নাগরিক ভাবনা বিষয়ক আলোচনা, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের গণশুনানি এবং উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করে।
মুন্সিগঞ্জ (১৭ ডিসেম্বর ২০২৪): মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসন এবং সনাক, মুন্সিগঞ্জ যৌথভাবে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তথ্য মেলার আয়োজন করে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শরীফ উল্লাহ দিনব্যাপী এই তথ্য মেলার উদ্বোধন করেন।
মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন প্রান্তের নাগরিকরা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সেবাদানকারী সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর থেকে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ সম্পর্কে ধারণা এবং প্রয়োজনীয় তথ্যসেবা পান। তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশের গুরুত্ব উল্লেখ করে বক্তারা অংশগ্রহণকারী দপ্তরগুলোর কর্মকর্তাদের নাগরিকদের তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান। তারা গোপনীয়তার সংস্কৃতি পরিহার করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তথ্য প্রকাশ এবং তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
মেলায় পাসপোর্ট অফিসের বিভিন্ন সেবা নিয়ে গণশুনানিতে তিন শতাধিক নাগরিক অংশ নেন। মুন্সিগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক মো. কামাল হোসেন ভূঁইয়া তাদের সব প্রশ্নের উত্তর দেন। তথ্য অধিকার বিষয়ে দুর্নীতিবিরোধী কুইজে প্রায় চারশ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। মেলার সময় ইয়েস গ্রুপের সদস্যরা দর্শনার্থীদের আবেদনপত্র পূরণ করতে এবং তথ্য পেতে সহায়তা করেন।
রাজশাহী (১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪): সনাক, রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় রাজশাহী কলেজ মাঠে দুই দিনব্যাপী তথ্য মেলার আয়োজন করে। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এর উদ্বোধন করেন।
তথ্যমেলা চত্বরে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, প্রত্যেকেরই তথ্য পাওয়ার অধিকার আছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে তথ্য দেওয়ার জন্য একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকেন। কিন্তু বাস্তবে তাদের ফোনে পাওয়া যায় না। নাগরিকদের অধিকারকে অবশ্যই মূল্য দিতে হবে। তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। তিনি তথ্য অধিকার আইনের বাস্তবায়ন এবং এ ধরনের মেলার মাধ্যমে তথ্য পাওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানান। মোট ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দর্শনার্থীদের মধ্যে তাদের সেবা সম্পর্কিত তথ্য বিতরণ করে।
রংপুর (২২ ও ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪): রংপুর জেলা প্রশাসন এবং সনাক, রংপুর যৌথভাবে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি চত্বরে মেলার আয়োজন করে। এর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল। এসময় জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল পরিদর্শন করেন এবং সব প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় সব তথ্য স্বউদ্যোগে প্রকাশ ও প্রচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। প্রধান অতিথির ভাষণে জেলা প্রশাসক সব সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরকে তথ্য প্রদানে যাতে কোনো হয়রানি না হয়, সেদিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি জেলার সব সরকারি দপ্তরকে তাদের ওয়েবসাইট হালনাগাদ রাখার অনুরোধ জানান, যাতে মানুষ চাওয়ার আগেই ওয়েবসাইট থেকে সহজে সব তথ্য পেতে পারে। তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা সম্পর্কে মানুষ জানলে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ার মাধ্যমে দুর্নীতি কমবে।
মেলায় একটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা শিক্ষা অফিস, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, উপজেলা ভূমি অফিস, বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস, বিআরটিএ এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অংশ নেয়। গণশুনানিতে উপস্থিত জনগণের বিভিন্ন প্রশ্নের আলোকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
মেলায় ৩৫টি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার স্টল দর্শনার্থীদের তথ্য ও পরামর্শ সেবা প্রদান করে। ইয়েস গ্রুপের সদস্যরা হাতে-কলমে তথ্য প্রাপ্তির আবেদনপত্র পূরণে সহায়তা করেন। এছাড়া মেলায় তথ্য অধিকার বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা, দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।