প্রকাশকাল: ১৬ জানুয়ারি ২০২৫
সিলেটে জনসাধারণের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পৃক্ততার উদাহরণ হিসেবে স্বাস্থ্য খাতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কিছু অসাধারণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। যা মুগ্ধ করেছে সফরকারী ইউএসএআইডি প্রতিনিধিদলকে।
এর অংশ হিসেবে সিলেটের মোগলাবাজার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে টিআইবি কমিউনিটি একশন সভার আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ১১১ জন মানুষ অংশ নেন। এদের মধ্যে ৬১ জন নারী, ৫০ জন পুরুষ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ৩ জন প্রতিনিধি ছিলেন। উল্লেখ্য, সভায় নারী অংশগ্রহণের বলিষ্ঠ চিত্র তুলে ধরে তাদের সিংহভাগ উপস্থিতি।
টিআইবি-র ব্যতিক্রমী প্যাক্টা প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন তৃণমূল অংশীজন যেমন ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) গ্রুপ এবং অ্যাকটিভ সিটিজেন গ্রুপ (এসিজি) এর সফল সমন্বয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে টিআইবির প্যাক্টঅ্যাপ প্রদর্শন ছিল এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ। প্যাক্টঅ্যাপ এমন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সোশাল মনিটরিং এবং তথ্যপ্রমাণভিত্তিক এডভোকেসিতে সহায়তা করে। ইয়েস ও এসিজি সদস্যরা এই অ্যাপের বৈপ্লবিক সম্ভাবনা ইউএসএআইডি প্রতিনিধি দলের কাছে তুলে ধরেন। তারা ইউএসএআইডি দলকে পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়াটি বুঝিয়ে বলেন। এই নতুন পদ্ধতির সুযোগ ও সমস্যার দিকগুলো তুলে ধরেন। একজন ইয়েস সদস্য ব্যাখ্যা করে বলেন, “প্যাক্টঅ্যাপ আমাদের তথ্যপ্রমাণ দিয়ে বিভিন্ন ব্যবস্থাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে সাহায্য করে এবং সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
টিআইবি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে। সেখানে সাধারণ মানুষ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা কথা বলেন। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবার উন্নতির জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়। সনাক, ইয়েস ও এসিজি সদস্যদের মধ্যে একটি সমন্বয় সভা হয়।
গত ১৫ জানুয়ারি ইউএসএআইডি-এর একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল এই কাজগুলো দেখতে আসে। দলে ছিলেন গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুশাসন বিভাগের পরিচালক এবং বিশেষজ্ঞরা। ইউএসএআইডি প্রতিনিধিদলের সিলেট সফরের মাধ্যমে এটা স্পষ্ট হয়, টিআইবি কীভাবে সাধারণ মানুষের মাধ্যমে পরিবর্তন আনছে। বিশেষ করে সনাক ও তার সহযোগীরা জনগণের পক্ষে কথা বলার ধরনে নতুনত্ব এনেছে। প্যাক্টঅ্যাপের মতো নতুন প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন দলের মিলিত চেষ্টায় টিআইবি দেখিয়েছে, সাধারণ মানুষ সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনতে পারে। এর ফলে সিলেট সামাজিক পরিবর্তনের একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
সমন্বয় সভায় সনাক, ইয়েস এবং এসিজি-র প্রধান সদস্যরা দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার জন্য নিজেদের চিন্তা ও কৌশল তুলে ধরেন। তাদের আলোচনায় সামাজিক পরিবর্তনের জন্য দৃঢ় ইচ্ছা ফুটে ওঠে। তারা সমাজে সক্রিয় চেঞ্জমেকার হিসেবে ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।