প্রকাশকাল: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক অভূতপূর্ব নাগরিক জাগরণের সাক্ষী হলো বাংলাদেশ। দেশের ২৪টি জেলার তিন হাজারেরও বেশি সাধারণ মানুষ একজোট হয়েছিলেন, গড়ে তুলেছিলেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী তৃণমূল আন্দোলন। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর ২০২৪ ব্যপী এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) আয়োজন করে একাধিক ' শিখন বিনিময় সভা'।
এই দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের ঢেউ উপকূলীয় জেলা বরগুনা থেকে শুরু করে পাহাড়ঘেরা রাঙামাটি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। যশোর, কুমিল্লা, চকরিয়া, খুলনা, লক্ষ্মীপুর, পিরোজপুর, ঝিনাইদহ, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, চাঁদপুর, ঝালকাঠি, খাগড়াছড়ি, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফরিদপুর, নীলফামারী, বগুড়া, দিনাজপুর, রাজবাড়ী, জামালপুর এবং মধুপুরে সেশনগুলো আয়োজিত হয়। প্রতিটি সমাবেশেই সনাক, ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) গ্রুপ এবং অ্যাকটিভ সিটিজেন গ্রুপ (এসিজি) সদস্যরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে একজোট হন।
এই সভাগুলো শুধু আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার পথে বাধাগুলো চিহ্নিত করেন এবং এগুলো নির্মূলের নতুন কৌশল খুঁজে বের করেন। সরকারি সেবার ওপর নজর রাখা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা বাড়ানো, আর শাসন ব্যবস্থায় তরুণদের যুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলো এই আয়োজনে বিশেষ গুরুত্ব পায়। এই সব উদ্যোগে তরুণদের অংশগ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়। তরুণেরাই যে পরিবর্তনের প্রধান কারিগর, এ বিষয়ে বক্তারা একমত হন। তারা বলেন দেশের আগামী প্রজন্মের আশার বার্তা শোনাবে তরুণরাই। এই কথাটিই স্পষ্ট করে দিয়েছিল আন্দোলনের মূল লক্ষ্য – দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়তে সক্ষম এক নতুন প্রজন্ম তৈরি।
একজন সনাক সভাপতি বলেন, “আমরা যদি দেশকে আমূল পরিবর্তন করতে চাই, তাহলে ব্যক্তিগত চেতনার পরিবর্তন জরুরি।”
অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়তে দৃঢ় শপথ গ্রহণ করেন। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান অংশগ্রহণকারীদের মনে করিয়ে দেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করতে গেলে কেউ কেউ অসন্তুষ্ট হতে পারে, কিন্তু এই আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে!”
এই সেশনগুলো তরুণদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে এবং শক্ত অবস্থান নিতে উৎসাহিত করেছে। শুধু তাই নয়, এই সভাগুলো তাদের দুর্নীতির বিপক্ষে সক্রিয় নাগরিক হতে প্রয়োজনীয় জ্ঞান আর দক্ষতা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। বলা যায় এই সেশনগুলোর মাধ্যমে তৈরি হয়েছে সচেতন নাগরিকদের এক শক্তিশালী দল যারা বাংলাদেশের সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।