প্রকাশকাল: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জনগণের আমানতকৃত অর্থ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করলেও এই সঞ্চিত অর্থের ওপর আমানতকারীদের সরাসরি কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। আমানতকারীদের পক্ষ থেকে এই আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ বা তদারকি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বাংলাদেশ ব্যাংক অধ্যাদেশ, ১৯৭২-এর মাধ্যমে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক গঠিত ও পরিচালিত এবং ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ অনুসারে কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ হিসেবে ব্যাংকিং খাত তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ব্যাংকের সংখ্যা ও এর শাখার সংখ্যা, সঞ্চয় এবং ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বিস্তার লাভ করে এবং কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য, জ্বালানী, পরিবহন ইত্যাদি উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। কিন্তু গত এক দশকে ব্যাংকিং খাতে চলমান অস্থিরতা ও নৈরাজ্য তথা অনিয়ম-দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার, মূলধনের অপর্যাপ্ততা, উচ্চ সুদের হার, তারল্য সংকট ইত্যাদি বিষয় বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন এবং গণমাধ্যমে বহুলভাবে প্রকাশিত হয়। ব্যাংকিং খাত থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমানতকারী তথা সাধারণ জনগণের অর্থ দীর্ঘদিন ধরেই খেলাপি ঋণের মাধ্যমে আত্মসাৎ হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে খেলাপি ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেলেও ২০১২ সাল থেকে পরবর্তী সময়ে খেলাপি ঋণের হার পুনরায় বৃদ্ধি পেতে থাকে। এই খেলাপি ঋণসমূহ সকল ক্ষেত্রেই অনিচ্ছাকৃত ও ব্যবসা সংকটজনিত নয়। অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে গৃহীত ঋণ ইচ্ছেকৃতভাবে খেলাপি হওয়ার মাধ্যমে আত্মসাতের ঘটনাসমূহ ব্যাংকিং খাত বিশেষত খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন