প্রকাশকাল: ০১ নভেম্বর ২০১৭
গবেষণার প্রেক্ষাপট ও যৌক্তিকতা
বাংলাদেশের বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) অনুপ্রবেশ একটি ঐতিহাসিক এবং চলমান সংকট। এ সংকট শুধুমাত্র বাংলাদেশ মায়ানমার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে না বর্তমানে এ সংকট জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বহিঃবিশ্বের অনেক দেশের সরকার ও মানুষের উদ্বেগের বিষয় হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। জাতিসংঘ ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের বিশ্বের সবচেয়ে ‘‘নিগৃহীত জনগোষ্ঠী’ হিসেবে মায়ানমার কর্তৃপক্ষের পরিচালিত এই সাম্প্রতিক নৃশংসতাকে “জাতিগত নিধন” হিসেবে চিহ্নিত করে। বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রচন্ড নিন্দার মধ্যেও এ নিধন চলমান রয়েছে এবং প্রতিদিনই বাংলাদেশে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৯৭৮ সালের প্রথম দিকে অপরেশান নাগমিন (ড্রাগন কিং) এর মাধ্যমে মায়ানমার সরকার রাখাইন এবং কাচিন রাজ্যে রোহিঙ্গা নাগরিকদের উপর দমন পীড়ন শুরু করে। এ দমনপীড়নের প্রতিক্রিয়ায় প্রায় দুই লক্ষ মায়ানমারের নাগরিক বাস্তুচ্যূত হয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় আশ্রয় নেয়। সেই সময়ে আন্তর্জাতিক মহলের চাপে বাংলাদেশ ও মায়ানমার আলোচনার মাধ্যমে বাস্তুচ্যূত রোহিঙ্গাদের নিজ বাসভ‚মিতে ফেরত নেয়ার ব্যাপারে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ১৯৭৮ সালের আগস্ট মাস থেকে ১৯৭৯ সাল নাগাদ ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে মায়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। বাকি ২০ হাজার এর মধ্যে ১০,০০০ জন বিভিন্ন সময়ে মারা যায় এবং ১০ হাজার এর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে নিপীড়নের শিকার হয়ে পুনরায় প্রায় আড়াই লাখ আশ্রয়প্রার্থী বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় তখন বাংলাদেশ সরকার সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোকে সঙ্গে নিয়ে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কাঠামোগত কিছু সুনির্দিষ্ট কর্মসূচী হাতে নেয় এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন ( জজজঈ) গঠন করে। এই কমিশনের সাহায্যে জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক হাই কমিশনের মধ্যস্থতায় ২ লাখা ৩০ হাজার শরনার্থীকে মায়ানমারে প্রত্যাবাসন করা সম্ভব হয়। ২০১২ সালের জুন থেকে অক্টোবরের মধ্যে নতুন করে সহিংসতার প্রেক্ষিতে ১ লাখা ২০ হাজার এবং একই সহিংসতার ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সাল নাগাদ আরো ৮৭,০০০ নতুন আশ্রয়প্রার্থী বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। ২০১৬ সালে মায়ানমার সামরিক বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত অভিযানের সময় নতুন করে পালিয়ে আসে আরো ৯০,০০০ এবং ২০১৭ সালে এর সঙ্গে যুক্ত হয় ৭৪,০০০ জন আশ্রয়প্রার্থী। সর্বশেষ চলতি বছরের আগস্ট মাসে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রেক্ষিতে প্রায় ৫ লাখা ৩৬ হাজার রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ করে যা স্মরণকালের ভয়াবহতম অনুপ্রবেশ।
বিস্তারিত জানতে নিচে ক্লিক করুন