হাওরে বাঁধ নির্মাণ: সুনামগঞ্জ পাউবো’র স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সমস্যা ও উত্তরণের উপায়

Published: 09 May 2017

পাউবো-সুনামগঞ্জ এ পর্যন্ত সুনামগঞ্জের ৩৪টি হাওরে ১,৩৬৭ কিলোমিটার ডুবো বাঁধ, ৪.৫ কিলোমিটার কো¬জার ড্যাম২ এবং ৮৪টি স্লুইচ গেট নির্মাণ করেছে। এর জন্য গত পাঁচ অর্থবছরে (২০০৩-০৪ থেকে ২০০৭-০৮) মোট ৫৩ কোটি ১৩ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা বরাদ্দ পায় যার বাৎসরিক গড় ১০,৬২,৯০,৪০০ টাকা। এর মধ্যে ৫১ কোটি ৮০ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা যার বাৎসরিক গড় ১০,৩৬,১৬,৬০০ টাকা উনয়œনমলূক কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে ব্যয় হয়। ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাউবোসুনামগঞ্জ চারটি পদ্ধতিতে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করেছে৪। এগুলো হলো, ১- কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) পদ্ধতি; ২- কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) পদ্ধতি; ৩- ওপেন টেন্ডার পদ্ধতি; এবং ৪- প্রজেক্ট ইমপি−মেন্টেশন কমিটি (পিআইসি) পদ্ধতি। উপরোক্ত পদ্ধতিগুলোর মধ্যে বিগত কয়েক বছর টেন্ডার পদ্ধতি এবং পিআইসি পদ্ধতির মাধ্যমে বাঁধ নির্মিত হয়েছে।

বতর্মানে সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় বাঁধ নির্মাণে পাউবো- সুনামগঞ্জের এর ভূমিকায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবের বিষয়টি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ কারণে স্থানীয় জনগণ প্রতিষ্ঠানটির কমর্কর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং ঠিকাদারদের সাথে অবৈধ আঁতাত সম্পর্কে অভিযোগ করছে। এর ফলে অত্যন্ত দুর্বল বাঁধ তৈরি হচ্ছে বলে তারা মনে করে। এই সকল কারণে হাওরের ফসল হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে, যা হাওরবাসী মানুষের দারিদ্র্য বৃদ্ধিতে ভূিমকা রাখছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সকল শ্রেণীর জনগণকে প্রকৃত সেবা দেওয়া সম্ভব, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি একটি সুষম সমাজ ব্যবস্থা তৈরিতে অবদান রাখবে। সেই লক্ষ্যে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর অনুপ্রেরণায় গঠিত সুনামগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ডুবো বাঁধ নির্মাণে পাউবো-সুনামগঞ্জ এর ভূমিকার ওপর একটি তথ্যানুসন্ধানমূলক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেয়।