• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

Integrity Watch in Flood 2019 Preparedness and Relief Operations

নানা কারণে বাংলাদেশ একটি বন্যাপ্রবণ দেশ। এর মধ্যে একটি অন্যতম কারণ হলো বাংলাদেশ গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা এই তিন বৃহৎ নদীর অববাহিকায় অবস্থিত এবং এর ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবণভূমি। আবার উজান থেকে বয়ে আসা আন্তঃমহাদেশীয় নদীর পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি মাত্রাতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি পায়। এর পাশাপাশি নানা কারণে নদী ভরাট হওয়ায় নদীগুলোতে পানি ধারণ ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে হিমালয়ের বরফ গলা ও বৃষ্টিপাতের সময়সীমায় অসামঞ্জস, অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল-বিল, জলাভূমি ও নদী দখলসহ নানা কারণে নদী ভরাট হওয়ায় বাংলাদেশে বন্যা ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতি এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিনিয়ত বেড়ে যাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করা যায়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০০৯-২০১৫ সময়কালে বন্যায় প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৩০৭০ কোটি ৮০ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতির ফলে বাংলাদেশ প্রতিবছর জিডিপির অতিরিক্ত ০.৩০% প্রবৃদ্ধি অর্জন থেকে বঞ্চিত হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, বন্যার আকার ও ভয়াবহতার বিচারে ২০১৯ সালের বন্যা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ বন্যার সময় যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ১৬৪ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত, যা ১৯৮৮ সালের বন্যায় বিপদসীমার ১৩৪ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। বন্যাপ্রবণ কিছু এলাকার ৮০ শতাংশ পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিলো। এছাড়া যমুনা নদীতে ১৯৮৮ সালের চেয়ে ৩৩ শতাংশ কম পানি প্রবাহিত হলেও এবারের বন্যায় ক্ষতির ব্যাপকতা বেশি। এর কারণ পলি পড়ে নদী ভরাট হওয়া এবং পানি নদীর তীর ছাপিয়ে যাওয়া। এ বন্যায় স্থানভেদে ৪০ লাখ মানুষ ১০-১৫ দিন পর্যন্ত পানিবন্দী ছিল। বন্যার কারণে সারা দেশে মোট ১০৮ জনের প্রাণহানি (বেসরকারি হিসেবে ১১৯ জন) হয়েছে। এ বন্যায় মোট ২৮টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ১১.৫-এ ২০৩০ সালের মধ্যে সমন্বিত দুর্যোগ মোকাবেলায় কার্যকর নীতি এবং পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে সকল পর্যায়ে সামগ্রিক দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সেনডাই ফ্রেমওয়ার্ক ফর ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশান ২০১৫ অনুসারে ২০১৫-২০৩০ সময়কালে দুর্যোগের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সুশাসন এবং কার্যকর সাড়া প্রদান ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আবার বাংলাদেশ সরকারের সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ২০১৫, দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী ২০১০, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১৫ অনুসারে বন্যা পূর্ববর্তী প্রস্তুতি এবং জরুরি সাড়া প্রদানের ক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। 
২০১৯ সালের বন্যা মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সেগুলোর কার্যকরতা বৃদ্ধিতে পর্যবেক্ষণ করার প্রয়োজনীয়তা থেকে এ গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে। আবার গণমাধ্যমেও বন্যা মোকাবেলায় সুশাসনের ঘাটতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে টিআইবি’র বিভিন্ন কর্মকা-ের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন থেকে ত্রাণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানানো হয়েছিলো। টিআইবি ইতোপূর্বে ঘূর্ণিঝড় সিডর (২০০৭), আইলা (২০০৯) ও রোয়ানুর (২০১৬) মতো দুর্যোগের পর গবেষণা পরিচালনা করেছিলো। সেসব গবেষণায় দুর্যোগ মোকাবেলায় সুশাসনের ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। বাংলাদেশের দুর্যোগ মোকাবেলা ও ব্যবস্থাপনা মডেল বিশ্বব্যাপী নন্দিত ও অনুসৃত হলেও প্রায় প্রতিবছর সংঘটিত বন্যার মতো দুর্যোগের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি, বন্যাকালীন সহায়তা ও পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমের মাধ্যমে বন্যা মোকাবেলায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ সুশাসনের দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা থেকেও এ গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে।
বিস্তারিত জানতে নিচে ক্লিক করুন
মূল প্রতিবেদন (বাংলা)
সার-সংক্ষেপ (বাংলা)
Executive Summary (English)
উপস্থাপনা
FAQ