• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

ভূমি ব্যবস্থাপনা ও সেবা কার্যক্রমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় করণীয়

‘সেবাখাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ’ টিআইবি’র একটি অন্যতম প্রধান গবেষণা কার্যক্রম। ১৯৯৭ সাল থেকে টিআইবি এই জরিপ ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করে আসছে। এই জরিপের মূল উদ্দেশ্য বাংলাদেশের খানাগুলোর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা খাতে দুর্নীতির প্রকৃতি ও মাত্রা নিরূপণ করা এবং জরিপে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে দিক-নির্দেশনামূলক সুপারিশ প্রদান করা। ২০১৭ সালের জরিপে বিভিন্ন সেবাখাত বা প্রতিষ্ঠান থেকে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর’ ২০১৭ পর্যন্ত নির্বাচিত বাংলাদেশের খানাসমূহ সেবা গ্রহণকালে যে দুর্নীতির সম্মুখীন হয় তার ওপর তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ জরিপে ভূমি সেবাসহ ১৫টি খাতের ওপর বিশ্লেষণধর্মী ফলাফল উপস্থাপন করা হয়, যা ৩০ আগস্ট ২০১৮ তারিখে প্রকাশিত হয়। 
জরিপে অংশ নেওয়া মোট ১৫,৫৮১টি খানার মধ্যে ১৬.০ শতাংশ খানা বিভিন্ন ধরনের ভূমি সেবা গ্রহণ করেছেন। ভূমি সেবা গ্রহণকারী খানাগুলোর মধ্যে মোট ৪৪.৯ শতাংশ খানা দুর্নীতির শিকার হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে এ হার ৪৩.৩ শতাংশ ও শহরাঞ্চলে ৪৬.১ শতাংশ। সেবা গ্রহণকারী খানাগুলোর ৩৭.৯ শতাংশ ঘুষ বা নিয়ম-বহির্ভূত অর্থ দিয়েছে, যার পরিমাণ গড়ে ১১,৪৫৮ টাকা। এছাড়াও ৯.৯ শতাংশ খানা সময়ক্ষেপণ, ৩.১ শতাংশ খানা দালাল বা উমেদার কর্তৃক হয়রানি, ১.৩ শতাংশ খানা জরিপের সময় ভূমির পরিমাণ কম দেখানো ও প্রকৃতি পরিবর্তন এবং ২.৪ শতাংশ খানা অন্যান্য ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের শিকার হয়েছে। প্রতিষ্ঠানভেদে দুর্নীতির বিশ্লেøষণে দেখা যায় সর্বাধিক সংখ্যক খানা জেলা রেকর্ডরুমে সেবা নিতে যেয়ে দুর্নীতির শিকার হয়েছে (৭১.১%) । এছাড়া উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে ৬৮.৬ শতাংশ, উপজেলা ভূমি অফিসে ৬২.৬ শতাংশ, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৪২.০ শতাংশ এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ২৭.৮ শতাংশ খানা দুর্নীতির শিকার হয়েছে। অন্যদিকে, সেবাভেদে দুর্নীতির বিশ্লেøষণে দেখা যায় সেবাগ্রহীতা খানাগুলোর মধ্যে নামজারিতে সর্বাধিক সংখ্যক খানা অনিয়ম-দুর্নীতির শিকার হয়েছে (৬৫.২%)। এছাড়া ভূমি জরিপে ৫৯.৬ শতাংশ, ডকুমেন্ট উত্তোলন ও তল্লাশির ক্ষেত্রে ৫২.৬ শতাংশ, হেবা এবং দলিল রেজিস্ট্রেশনে ৪২.৫ শতাংশ খানা দুর্নীতির শিকার হয়েছে। ঘুষ বা নিয়ম-বহির্ভূত অর্থ দেওয়া খানাগুলোর মধ্যে ঘুষ দেওয়ার কারণ হিসেবে ৭২.৮ শতাংশ ’ঘুষ না দিলে সেবা পাওয়া যায় না’ বলে উল্লেখ করেছে। 
এই জরিপের প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে এবং এ খাতের ওপর ইতোপূর্বে সম্পাদিত বিভিন্ন গবেষণা ও অধিপরামর্শ কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে ভূমি সেবায় উৎকর্ষ বৃদ্ধি ও গ্রাহক হয়রানি হ্রাস সর্বোপরি দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সেবা কার্যক্রমে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সহায়ক হিসেবে নি¤œলিখিত সুপারিশসহ টিআইবি প্রণীত এ পলিসি ব্রিফটি উপস্থাপন করা হল।
পলিসি ব্রিফ এখানে