• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

21 eminent citizens condemn Jamaat-Shibir violence

২মার্চ, ২০১: দেশের বিভিন্নমানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ দেশে বিদ্যমান সহিংস পরিস্থিতিতেগভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা জানিয়ে আজ সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য নিম্নোক্ত বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। যৌথভাবে স্বাক্ষরিত এইবিবৃতিতে তারা বলেন:

“আমরা গভীরতম উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা নিয়ে লক্ষ করছি যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক গত বৃহস্পতিবার যুদ্ধাপরাধী জামাত নেতা মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চরায় ঘোষণার পর থেকে এই রায় প্রত্যাখ্যান করার নামে একটি মহল অতি পরিকল্পিত উপায়ে দেশকে নৈরাজ্য ও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে সহিংস পথ বেছে নিয়েছে। এর পরিণতিতে ইতিমধ্যে প্রায় অর্ধ শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং শত শত মানুষ আহত বা সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন। নিহত এবং আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আইন শৃংখলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীর সদস্য এবং নারী, শিশুসহ নিরীহ সাধারণ নাগরিক রয়েছেন।

আমরা সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করতে চাই যে, ১৯৭১ সালে যারা মুক্তিযুদ্ধের সশন্ত্র বিরোধিতা করেছিল এবং পাক-হানাদার বাহিনীর সাথে সর্বাত্মক সহযোগিতায় নারী, পুরুষ, শিশু নির্বিশেষে দেশের মানুষ, বুদ্ধিজীবী,লেখক, শিক্ষক, সাংবাদিক, ডাক্তার ও অন্যান্য পেশাজীবীদের হত্যা করেছিল তাদের সেই জঘণ্য যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিটি দলমত, জাতি- ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে গণমানুষের দাবি হিসেবে গত ৪২ বছর ধরে নানা ভাবে ধ্বনিত ও উচ্চারিত হয়ে এসেছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে দেশে প্রথম বারের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে। অতএব এই যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় নিয়ে সন্ত্রাস বা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে চরম অরাজক ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে যারা দেশকে ঠেলে দিতে চাচ্ছে তারা আসলে নতুনভাবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধেরই বিরোধিতায় নেমেছে। তাদের এই তৎপরতা দেশের স্বাধীন অস্তিত্ব অস্বীকার করারই নামান্তর। একাত্তরের গণহত্যা, বাড়ি ঘরে অগিড়ব সংযোগ, লুটপাট, নারী নির্যাতন এবং হানাদারদের সাথে সশস্ত্র সহযোগিতার মাধ্যমে যারা যুদ্ধাপরাধ করেছে তাদের বিচারকে বাধাগ্রস্থ করা কার্যত একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থলক্ষ লক্ষ পরিবার, সাধারণ নাগরিক এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবীদের শ্রেষ্ঠ অবদান ও সর্বোচ্চআত্মত্যাগকেই অবমাননা করার শামিল।

আমরা তাদের এই অপতৎপরতা, বিশেষত সাধারণ নিরীহ নাগরিকদের উপর আক্র, হত্যা, পুলিশের উপর সশস্ত্র হিংস্র আক্রমন ও খুন এবং সর্বোপরি আক্রমনের বিশেষ লক্ষ্যবস্তুহিসেবে চিহ্নিত করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের বাড়িঘরে একাত্তরের মতোই অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, হত্যা, তাদের মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয় ধংস করার বিরুদ্ধে ধিক্কার ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

আমরা সংশ্লিষ্ট সকলকে সহিংস ও সশস্ত্র আক্রমনের পথ পরিহার করে প্রতিবাদ করার বিষয় থাকলে শান্তিপূর্ণ পথে তা জানাবার আহবান জানাচ্ছি। সরকার ও প্রধান বিরোধী দলসহ সকল রাজনৈতিক দল যাতে তাদের কথা ও আচরণে যথেষ্ট সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেন, সেটাই আশা করি। দেশের পুলিশ,র‌্যাব, বিজিবিসহ আইন শৃংখলা রক্ষাকারী সকল বাহিনীকে মনোবল অটুট রেখে সাধারণ মানুষ-নারী, শিশু, সংখ্যালঘু ও আদিবাসীসহ সকলের জান-মালের নিরাপত্তা দিতে কঠোর ব্যবস্থা নেবার পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়ে আরো বেশি মনোযোগী হবারও আহবান জানাচ্ছি।

ইতিমধ্যে যে সকল স্থানে বোমা হামলা, গুলি ও অন্যান্য সহিংস ঘটনায় সাধারণ মানুষ ও আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরাসহ অনেকে নিহত ও আহত হয়েছেন, বাড়ি ঘরে আগুন লাগানো, লুটপাট, মসজিদ, মন্দির ভাঙ্গার মতো ঘৃণ্য কাজ করা হয়েছে, জাতীয় পতাকায় আগুন দেয়া হয়েছে, শহীদ মিনার ভাঙ্গা হয়েছে-ঐ সকল ঘটনার দ্রুত সুষ্ঠু অনুসন্ধানএবং তদন্তের ভিত্তিতে দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের আইন অনুযায়ী শাস্তিদেবারও দাবি জানাচ্ছি।”

বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেছেন তারা হচ্ছেন :

অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী-প্রফেসর এমিরিটাস, ইংরেজী বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ড. জাফর ইকবাল-বিশিষ্ট লেখক ও অধ্যাপক, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট

কামাল লোহানী- বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

অ্যাড: সুলতানা কামাল-মানবাধিকার নেত্রী;সাবেক উপদেষ্টা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার;নির্বাহী পরিচালক,আইন ও সালিশ কেন্দ্র

খুশী কবির-মানবাধিকার কর্মী ও সমন্বয়কারী, নিজেরা করি

ব্যারিস্টার সারা হোসেন-মানবাধিকার কর্মী, অনারারি পরিচালক,

বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট।

ড. আবুল বারকাত-অধ্যাপক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সভাপতি, বাংলাদেশ

অর্থনীতি সমিতি

ড. সাদেকা হালিম-অধ্যাপক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

অ্যাড. সুব্রত চৌধুরী-সাধারণ সম্পাদক, অর্পিত সম্পত্তি আইন প্রতিরোধ আন্দোলন

সুপ্রিয় চক্রবর্তী-আইনজীবি

ড. ইফতেখারুজ্জামান নির্বাহী পরিচালক, টিআইবি

মনীন্দ্র কুমার নাথ-সাধারন সম্পাদক, বাংলাদেশ পূজা পরিষদ

ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা-নির্বাহী পরিচালক, রিব

কাজল দেবনাথ-সভাপতি মন্ডলীর সদস্য, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ

সঞ্জীব দ্রং-সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম

শামসুল হুদা-মানবাধিকার কর্মী, নির্বাহী পরিচালক, এএলআরডি

অ্যাড. তোবারক হোসেইন-সাধারণ সম্পাদক সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন

মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন-সমন্বয়কারী, আরবান

ড. ইয়াসমিন হক-অধ্যাপক, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়

দিল মনোয়ারা মনু-সাংবাদিক ও নারী অধিকার কর্মী

সাইদা কামাল-শিল্পী

বার্তা প্রেরক:

খুশী কবির

সমন্বয়কারী, নিজেরা করি

মোবাইল: ০১৭১১৫৬৫১৫২