• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

তৈরি পোশাক খাতে দুর্ঘটনাজনিত মামলাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ টিআইবির: সুশাসন নিশ্চিতে ১২ দফা সুপারিশ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
 
তৈরি পোশাক খাতে দুর্ঘটনাজনিত মামলাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ টিআইবির: সুশাসন নিশ্চিতে ১২ দফা সুপারিশ
 
ঢাকা, ২৩ এপ্রিল ২০১৯: রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পরবর্তী ছয় বছরে তৈরি পোশাক খাতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের ফলে কারখানা নিরাপত্তা, তদারকি, শ্রমিকের মজুরি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি ইত্যাদি ক্ষেত্রে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। তবে মালিকপক্ষ এখনও ব্যবসা টিকিয়ে রাখা এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধিকে প্রাধান্য দিলেও শ্রমিক অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তাকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এছাড়া বিভিন্ন অংশীজন কর্তৃক গৃহীত উদ্যোগসমূহের ৩৯ শতাংশ বাস্তবায়িত হলেও অপর ৪৯ শতাংশ উদ্যোগের বাস্তবায়ন এখনো চলমান এবং ১২ শতাংশ উদ্যোগ ধীর গতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে বা স্থবির হয়ে আছে। ‘তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন: অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আজ এসব তথ্য তুলে ধরে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংবাদ সম্মেলনে তৈরি পোশাক খাতে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়ে ১২ দফা সুপারিশ করে সংস্থাটি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান, আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক শেখ মনজুর-ই-আলম এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার ও গবেষণাটির তত্ত্বাবধায়ক আবু সাঈদ মো. জুয়েল মিয়া। গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রণয়ন ও উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজমুল হুদা মিনা এবং ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. মোস্তফা কামাল। 
গবেষণায় দেখা যায়, গত ছয় বছরে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের ফলে তৈরি পোশাক খাতে আইন প্রয়োগ, ব্যবসা বান্ধব নীতি সহায়তা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও কারখানার নিরাপত্তা বৃদ্ধি, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, শ্রমিক অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং শুদ্ধাচার চর্চাসহ নানা খাতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ ও অগ্রগতি হলেও এসমস্ত ক্ষেত্রে এখনও নানাবিধ চ্যালেঞ্জ আছে। আইনি ক্ষেত্রে দেখা যায়, গেজেট আকারে প্রকাশিত বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন ২০১৮-এ ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের ক্ষেত্রে কারখানার মোট শ্রমিকের ৩০ শতাংশের সমর্থনের পরিবর্তে ২০ শতাংশ সমর্থনের বিধান করা হয়েছে এবং কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ যথাক্রমে দুই লক্ষ ও দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া শ্রম বিধিমালা ২০১৫ প্রণয়ন করে শ্রমিকদের জন্য বছরে দুটি উৎসব ভাতার বিধান এবং ইপিজেড শ্রম অধ্যাদেশ ২০১৯ প্রণয়ন করাসহ আরো বেশ কিছু আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে উৎসবকালীন ছুটি, প্রসূতিকালীন সুবিধা, মালিকের শাস্তি কমানো, শ্রম আইনের বিভিন্ন ধারা অপপ্রয়োগের সুযোগ ইত্যাদি নানাবিধ চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে। 
আবার ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নীতি সহায়তা প্রদানের আওতায় তৈরি পোশাক খাতের কর্পোরেট ট্যাক্স ১৫% থেকে ১২% এবং গ্রিন ফ্যাক্টরির ক্ষেত্রে ১৪% থেকে ১০% করার পাশাপাশি প্রস্তাবিত উৎস কর ০.৬% থেকে ০.২৫%-এ নির্ধারণ, অগ্নি নিরাপত্তার সরঞ্জাম আমদানিতে ৫% ডিউটি নির্ধারণ, বন্দর সেবা গ্রহণে নির্ধারিত ১৫% ভ্যাট মওকুফ ও নতুন বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে ৪% নগদ সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোট নগদ সহায়তা ১০% থেকে ১২% উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া, বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ নেওয়ার সীমা বৃদ্ধি (২ কোটি ডলার) করা হয়েছে। পরিবহন ব্যয়, ল্যাবরেটরি টেস্ট, তথ্য প্রযুক্তি ব্যয় ও শ্রমিক কল্যাণ ব্যয় সম্পূর্ণ ভ্যাটমুক্ত করা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে এখনও নানাবিধ চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। যেমন, দেশি কাপড় ব্যবহারে রপ্তানির ৪% নগদ সহায়তার অর্থ প্রাপ্তিতে ৩-৪ বছরের দীর্ঘসূত্রতা এবং অর্থ প্রাপ্তির জন্য ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ইত্যাদি। সংসদে উত্থাপিত শীর্ষ ১০০ ঋণখেলাপির তালিকায় দেখা যায় তৈরি পোশাক খাতের ২৬টি প্রতিষ্ঠান এবং পোশাক খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার ৭ শত ৯০ কোটি টাকা। 
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তর, শ্রম অধিদপ্তর এবং রাজউক ও ফায়ার সার্ভিসের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগের পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানসমূহের লজিস্টিকস বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ এবং আইএলওর সহযোগিতায় ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন ইত্যাদি ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। কিস্তু এখনও আইএলওর সহযোগিতায় এসওপি তৈরির পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হয়নি। যৌথ দরকষাকষির পরিবেশ না থাকায় শ্রম অধিদপ্তরের সালিশী কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। এছাড়া ৩০ মিটারের ঊর্দ্ধে কোন ভবনের আগুন নির্বাপণে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। 
গবেষণা অনুযায়ী, কারখানা নিরাপত্তা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাতীয় উদ্যোগ, অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স কর্তৃক তালিকাভুক্ত প্রায় সকল কারখানা (৪৩৪৬টি) প্রাথমিক পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই সমন্বিত উদ্যোগের ৭৩% (২২০৭) কারখানার সংস্কারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও প্রায় ২৮% কারখানার অগ্রগতি ৫০% এর নিচে, যার অধিকাংশই জাতীয় উদ্যোগে পরিচালিত কারখানা। এছাড়া, নতুন বা স্থানান্তরিত ৯৫০টি কারখানা এখনও কোনো পরিদর্শন কার্যক্রমে যুক্ত হয়নি। অন্যদিকে, বিজিএমইএ কর্তৃক সরকারি নির্দেশনা না মেনে ২০০ নন-কমপ্লায়েন্ট কারখানায় ইউডি (ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন) সুবিধা অব্যাহত রাখার দৃষ্টান্ত রয়েছে। 
গবেষণায় দেখা যায়, তৈরি পোশাক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাদিহিতা নিশ্চিতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেমন, কলকারখানা অধিদপ্তরের পরিদর্শনে জবাবদিহিতা নিশ্চিতে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে মনিটরিং টিম গঠন এবং ডিজিটাল মনিটরিং-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে গণশুনানী, পরিদর্শন, মামলা দায়ের, হেল্পলাইনে অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এছাড়া কমপ্লায়েন্ট কারখানাসমূহে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরে কারখানার পরিদর্শনকৃত তথ্যের ডাটাবেজ তৈরি, কারখানাসমূহের সবধরণের তথ্য সংরক্ষণের জন্য ‘ডিজিটাল ফ্যাক্টরি ম্যাপিং ফর আরএমজি ইন বাংলাদেশ’ নামক প্রকল্প চালু এবং ৩১টি বায়ার কর্তৃক সাপ্লাই চেইনে পণ্য উৎপাদন করে এমন প্রায় ২৫০০ কারখানার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এসব ইতিবাচক উদ্যোগ সত্ত্বেও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের দায়েরকৃত ৪৯৪৭টি মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার দৃষ্টান্তটি (২০১৩-২০১৯) মামলাজট ও দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টিকে ¯পষ্ট করে। এছাড়া কলকারখানা অধিদপ্তর ও শ্রম অধিদপ্তরের অধীন বিভাগীয় দপ্তরসমূহে জবাবদিহিতার ঘাটতিও বিদ্যমান। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও কলকারখানা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে সংস্কার কার্যক্রম সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়না। কিছু কারখানার বিরুদ্ধে বিজিএমইএ তৈরিকৃত সেন্ট্রাল ডাটাবেজের বায়োমেট্রিক তথ্যের অপব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে, যা চাকুরিচ্যুত শ্রমিকের জন্য অন্য কারখানায় চাকুরি পেতে পতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। 
গবেষণা অনুযায়ী, শ্রমিক অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তায় বিভিন্ন অগ্রগতি হলেও এখনও নানাবিধ চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। যেমন, মজুরি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে ২০১৮ সালে নূন্যতম মজুরি ৬৬% বৃদ্ধি করে ৮,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও অধিকাংশ সাবকন্ট্রাক্টনির্ভর কারখানায় ন্যূনতম মজুরি প্রদান করা হয়না। আবার প্রকৃত হিসেবে ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে যে মূল মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে তা বর্তমান বাজার মূল্যের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মালিকপক্ষের দাবি অনুযায়ী, মূল মজুরির বৃদ্ধি ২৩ থেকে ৩৬ শতাংশ বলা হলেও প্রকৃত হিসেবে ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে তা প্রায় ২৬ শতাংশ কম। মজুরি নির্ধারণে বৎসরিক ৫% ইনক্রিমেন্ট-এর বিধান প্রয়োগ করা হয় না।  শ্রমিক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ছয়টি গ্রেডে পুনরায় মূল মজুরি বৃদ্ধি করা হলেও গ্রেড নির্ধারণে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি না থাকায় মালিকপক্ষের ইচ্ছানুযায়ী গ্রেড নির্ধারণ করা হয়। ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০১৮ সালে নিবন্ধিত ১০২টিসহ বর্তমানে ট্রেড ইউনিয়নের সংখ্যা ৭৫৩টি। কিন্তু কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের জরিপ অনুযায়ী মাত্র ৩% কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন রয়েছে,  যেখানে আবার অধিকাংশ ইউনিয়ন মালিকপক্ষ নিয়ন্ত্রিত (পকেট ইউনিয়ন)। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে অসঙ্গত মজুরি বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে শ্রমিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রায় ৩৫টি মামলায় পাঁচ হাজার শ্রমিককে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ১৬৮টি কারখানায় প্রায় ১০ হাজার শ্রমিককে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। ৪০ বছর উর্ধ্ব শ্রমিক এবং নানা অজুহাতে শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুতি এবং জোর করে ইস্তাফাপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। অ্যাকর্ড, অ্যালায়েন্স ও জাতীয় উদ্যোগভুক্ত পরিদর্শনকৃত কারখানাসমূহের মধ্যে ১১শ ৭১টিসহ মোট ১২শ ৫০টি কারখানা বন্ধ বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে প্রায় ৪ লক্ষ শ্রমিক চাকুরিচ্যুত হয়েছে। আবার দায় এড়ানোর জন্য কারখানা বন্ধের পরিবর্তে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছে, যা কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার শামিল। এছাড়া, কেন্দ্রিয় কল্যাণ তহবিলের আপদকালীন হিসাব থেকে গ্রুপ বিমার প্রিমিয়াম এবং বিজিএমইএ সদস্যভুক্ত বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের পাওনা বাবদ অর্থ পরিশোধের কারণে কল্যাণ তহবিলের প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।
তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে টিআইবির প্রস্তাবিত ১২ দফা সুপারিশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- তৈরি পোশাক খাতে তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য একক কর্তৃপক্ষ গঠন করা; শ্রমিককে চাকুরিচ্যুত করার বিষয়ে নিয়োগকারীর একচ্ছত্র ক্ষমতা বিলোপ করা; শ্রমিকদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বৃদ্ধি করা; দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাসমূহের দ্রুত নিষ্পত্তি করা; শ্রম অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রসমূহ তৈরি পোশাক শিল্পাঞ্চলসমূহে প্রতিস্থাপন করা; শ্রমিক আন্দোলন পরবর্তী চাকুরিচ্যুত শ্রমিকদের চাকুরিতে পুনর্বহালের ব্যবস্থা গ্রহণ ও দায়েরকৃত উদ্দেশ্যমূলক মামলাসমূহ প্রত্যাহার করে ভয়-ভীতিহীন শান্তিপূর্ণ শ্রম পরিবেশ সৃষ্টি করা; ত্রিপক্ষীয় কাউন্সিল কার্যকর করার লক্ষ্যে সুস্পষ্ট কার্যবিধি প্রণয়ন, নির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি অনুসরণ, সকল পক্ষের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত এবং পর্যবেক্ষক হিসেবে নাগরিক সমাজকে অন্তর্ভুক্ত করা; সরকার, বায়ার ও আইএলওর সমন্বিত উদ্যোগে আরসিসির আর্থিক ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। 
সংবাদ সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “রানা প্লাজা দূর্ঘটনা পরবর্তী ছয় বছরে তৈরি পোশাক শিল্পখাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় লক্ষণীয় উন্নতি হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইনগত দূর্বলতা ও প্রায়োগিক ঘাটতির কারণে প্রত্যাশিত অগ্রগতি ব্যহত হচ্ছে। গবেষণা প্রতিবেদনে চিহ্নিত ঘাটতিগুলো উত্তরণ বিলম্বিত হলে অর্জিত অগ্রগতির টেকসই-এর সম্ভাবনা ঝুঁকিপূর্ণ হবে। আইনি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে রানা প্লাজায় দুর্ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের ন্যায়বিচার হয়নি। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে কয়েক হাজার মামলা ঝুলে আছে। আমরা দাবি জানাচ্ছি যে, রানা প্লাজা ট্রাজেডিসহ অত্যন্ত গুরুতর অপরাধের মামলাসমূহ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল করে দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি করতে হবে এবং যারা অপরাধের জন্য দায়ী তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। সেটি করতে না পারলে এ ধরণের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যাবে। কারণ যারা মালিকপক্ষ তারা ভেবে নিবেন যে- অন্যায় করে, অপরাধ করে, আইনের লঙ্ঘন করে পার পাওয়া যায়। পাশাপাশি এই দীর্ঘসূত্রতার ফলে যারা ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক তারা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। এটি আমরা দেখতে চাই না। আমরা আশা করবো, টিআইবির পক্ষ থেকে যে ১২ দফা সুপারিশ করা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অংশীজন তা বাস্তবায়নে উদ্যোগী হবেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ড. ইফতেখারুজ্জামান আরো বলেন, “তৈরি পোশাক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন রেয়াতসহ যে সমস্ত সুবিধা পান রাষ্ট্রীয় বৃহত্তর স্বার্থে তা অনেকাংশেই যথার্থ বিবেচিত হতে পারে। কিন্তু এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়গুলোর প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে আমরা প্রত্যাশিত দৃষ্টির ঘাটতি দেখতে পাই; মালিকপক্ষ এ বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব দিতে সবসময়ই অনীহা দেখিয়েছেন। বিদেশী ক্রেতারাও আমাদের দেশে কমপ্লায়েন্স কার্যকরে যেভাবে ভুমিকা রেখেছেন এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পণ্যমূল্য নির্ধারণে তারা সেভাবে রাজি হননি।”
উল্লেখ্য, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গৃহীত উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপসমূহের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে মে ২০১৮ থেকে এপ্রিল ২০১৯ সময়ের মধ্যে এ গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষণাটিতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, শ্রম মন্ত্রণালয়, রাজউকের কর্মকর্তা, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা-কর্মী, কারখানা মালিক, পোশাক শ্রমিক, অ্যাকর্ড, অ্যালায়েন্স ও পোশাক খাত বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং চেকলিস্টের মাধ্যমে শ্রমিক ও শ্রমিক প্রতিনিধির কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হয়েছে। পরোক্ষ তথ্যের উৎস হিসেবে বিদ্যমান আইন ও বিধিসমূহ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, দাপ্তরিক নথি, গবেষণা প্রতিবেদন ও প্রবন্ধ এবং সংবাদপত্রে প্র্রকাশিত প্রতিবেদন ব্যবহৃত হয়েছে।
 
গণমাধ্যম যোগাযোগ,
 
শেখ মন্জুর-ই-আলম
পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন)
মোবাইল: ০১৭০৮৪৯৫৩৯৫
ই-মেইল: This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.