• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮’ এ সম্মতি প্রদান না করে পুনর্বিবেচনার জন্য সংসদে ফেরত পাঠাতে রাষ্ট্রপতির প্রতি টিআইবি’র আবেদন

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
 
‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮’ এ সম্মতি প্রদান না করে পুনর্বিবেচনার জন্য সংসদে ফেরত পাঠাতে রাষ্ট্রপতির প্রতি টিআইবি’র আবেদন
 
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮: বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অন্তর্নিহিত উপাদান ও সংবিধান বিধৃত মুক্তচিন্তা ও বাক্-স্বাধীনতার জন্য ব্যাপকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ধারা অন্তর্ভুক্ত রেখে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮’ গতকাল জাতীয় সংসদে পাস হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সাথে সংবিধানের ৮০(৩) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আইনটিতে এ পর্যায়ে সম্মতি প্রদান না করে আইনটির বিতর্কিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ধারাসমূহ পুনর্বিবেচনার জন্য সংসদে ফেরত পাঠানোর জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট আবেদন জানিয়েছে টিআইবি।
আজ এক সংবাদ বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সংবিধানের মূলনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অন্তর্নিহিত উপাদান মুক্তচিন্তা ও বাক্্-স্বাধীনতার পরিপন্থী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, বিশেষ করে এর ৮, ২৮, ২৯ ও ৩১ ধারাগুলোর ব্যাপারে গণমাধ্যমকর্মী ও অন্যান্য অংশীজনের উদ্বেগ ও মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছে, যা তাদের স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনে ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে বিতর্কিত ৩২ ধারায় ডিজিটাল গুপ্তচর বৃত্তির ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক আমলের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩ অন্তর্ভুক্ত করায় দুর্নীতি সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আইনটি দেশে গণতন্ত্র বিকাশের পথে বিরাট প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবে, মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করবে; এবং ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে সকল নাগরিকের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতাবোধ সৃষ্টি করবে। স্বল্প মেয়াদে সরকারের জন্য উপযোগী বিবেচনা করা হলেও দীর্ঘ মেয়াদে ও চূড়ান্ত বিবেচনায় আইনটি আত্মঘাতী প্রতীয়মান হবে।” এ প্রেক্ষিতে ড. জামান মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রতি আবেদন করেন, সংবিধানের ৮০(৩) অনুচ্ছেদ বলে আইনটিতে এ পর্যায়ে সম্মতি প্রদান না করে বিতর্কিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ধারাসমূহ পুনর্বিবেচনা করার জন্য যেন সংসদে ফেরত পাঠানো হয় এবং সংশ্লিষ্টজনের মতামত সাপেক্ষে আইনটি সংশোধন করা হয়।
ড. জামান আরো বলেন, “ আইনটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নিবর্তনমূলক ধারা অন্তর্ভুক্ত থাকায় মৌলিক অধিকার হরণের ব্যাপক সম্ভাবনার কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে নাগরিকদের নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। তদুপরি ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন’ এর বহুল বিতর্কিত ৫৭ ধারায় বর্ণিত নির্বতনমূলক বিধানাবলি ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ এর বিভিন্ন ধারায় পুনর্বিন্যাস করায় জনমনে ভীতির সঞ্চার করেছে। সরকার ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিশ্চিতের যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি সেক্ষেত্রে বাধা হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টসমূহ অর্জনে সরকারের পাশাপাশি জনগণ, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের ভূমিকাও সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।” 
উল্লেখ্য, মন্ত্রিসভা কর্তৃক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া অনুমোদনের পর টিআইবিসহ সম্পাদক পরিষদ, গণমাধ্যমকর্মী ও অন্যান্য অংশীজন আইনটির ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৮ ধারার ব্যাপারে আপত্তি জানালেও অংশীজনদের অধিকাংশ সুপারিশ আমলে না নিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীন বিকাশ ও সাধারণ জনগণের মুক্তচিন্তা ও বাক্-স্বাধীনতা খর্বকারী ধারাসমূহ অপরিবর্তিত রেখে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলটি সংসদে পাস হয়। 
 
গণমাধ্যম যোগাযোগ,
শেখ মনজুর-ই-আলম
পরিচালক, আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন
মোবাইল: ০১৭০৮৪৯৫৩৯৫
ই-মেইল: This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.