• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

সেবাখাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০১৭ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন’র বক্তব্যের প্রেক্ষিতে টিআইবি’র অবস্থান

১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
 
সেবাখাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০১৭ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন’র বক্তব্যের প্রেক্ষিতে টিআইবি’র অবস্থান
 
টিআইবি কর্তৃক পরিচালিত ‘সেবাখাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০১৭’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনের ফলাফল গত ৩০আগস্ট ২০১৮ তারিখে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনের ওপর গত ১১ সেক্টেম্বর ২০১৮ তারিখে “‘সেবা খাতে দুর্নীতি : জাতীয় খানা জরিপ ২০১৭’ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন’র বক্তব্য” শীর্ষক এক প্রতিবাদলিপি গণমাধ্যমসূত্রে  টিআইবি’র হাতে পৌঁছেছে। এ প্রতিবাদলিপিতে উত্থাপিত বিভিন্ন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে টিআইবি’র অবস্থান নিম্নে তুলে ধরা হলো:
 
"আদৌ কেউ প্রত্যক্ষভাবে উল্লেখিত সময়ে পুলিশি সেবা নিতে গিয়েছিল কিনা স্পষ্ট নয়"
১. ‘সেবা খাতে দুর্নীতি : জাতীয় খানা জরিপ ২০১৭’ এ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে জরিপে অন্তর্ভুক্ত খানা সমূহের প্রত্যক্ষলব্ধ দুর্নীতির অভিজ্ঞতা বিবেচনা করা হয়েছে। দৈবচয়নের মাধ্যমে নির্বাচিত যে সকল খানা সংশ্লিষ্ট খাতে সেবা গ্রহণ করেছেন কেবল তাদের অভিজ্ঞতা ভিত্তিক তথ্যই সংগ্রহ করা হয়েছে; কোনো খাতে যদি কোনো খানার জরিপের আওতাভুক্ত সময়ে সেবা গ্রহণের অভিজ্ঞতা না হয়ে থাকে তাহলে সেই খাত সম্পর্কে উক্ত খানার নিকট প্রশ্ন করা হয় নি। খানাগুলোর সদস্যদের কাছ থেকে কেবল তাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দুর্নীতি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যারা সংশ্লিষ্ট খাতে সেবা গ্রহণ করেছেন। সুতরাং "পুলিশি সেবা নিতে আদৌ কেউ গিয়েছিল কিনা স্পষ্ট নয়" এ ধরনের সংশয়ের কোনো সুযোগ নেই।
 
"শ্রুতি জ্ঞান ও পূর্বধারণার ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন তৈরি"
২. এ খানা জরিপে সামাজিক বিজ্ঞানের বহুল প্রচলিত পদ্ধতি সরাসরি বা ফেস-টু-ফেস সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। জরিপকালীন সময়ে সংগৃহীত তথ্যের নির্ভুলতা মাঠ পর্যায়ে যাচাই করা হয়েছে এবং প্রযোজ্যক্ষেত্রে দৈবচয়নসহ যথাযথ প্রক্রিয়ায় পূরণকৃত প্রশ্নপত্র যাচাই করা হয়েছে। চূড়ান্তভাবে, পরিসংখ্যান বিজ্ঞানের প্রচলিত পদ্ধতি ব্যবহার করে অন্যান্য খাতের মত একইভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাছাড়া ঘুষ আদায়সহ সকল প্রকার দুর্নীতির ক্ষেত্রে শুধু অভিজ্ঞতাভিত্তিক তথ্যই সংগ্রহ করা হয়েছে, কোনো প্রকার ধারণা বা মতামত নির্ভর কোনো তথ্য জরিপে স্থান পায় নি। তাই একে শ্রুতি জ্ঞানের ওপর বা কোনো প্রকার পূর্বধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি প্রতিবেদন বলা যাবে না।
 
"মুষ্টিমেয় কতিপয় লোকের মতামতের ভিত্তিতে নেতিবাচক ভাবে জরিপ প্রতিবেদন উপস্থাপন"
৩. পরিসংখ্যান বিজ্ঞানের স্বীকৃত পদ্ধতি অনুযায়ী এমনকি শত কোটি জনসংখ্যা বা খানার জন্যেও দ্বৈবচয়নকৃতভাবে নির্বাচিত স্বল্প সংখ্যক খানার দ্বারাই সঠিক, বস্তুনিষ্ঠ, গ্রহণযোগ্য ও প্রতিনিধিত্বশীল তথ্য উপাত্ত তুলে ধরা সম্ভব। যেমন চীন বা ভারতের জনসংখ্যা শত  কোটির ঊর্ধ্বে হলেও দ্বৈবচয়নকৃতভাবে নির্বাচিত মাত্র ১০০০ বা তারও কম লোকের প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতেও গ্রহণযোগ্য জরিপ ফলাফল প্রকাশ করা হয়ে থাকে। উল্লেখ্য, দেশভেদে খানা বা জনসংখ্যা পরিবর্তন হলেও নমুনার আকার পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয় না। যেমন একটি দেশের জনসংখ্যা এক কোটি এবং অপর একটি দেশের জনসংখ্যা দশ কোটি হলেও উভয় দেশের জন্যই দৈবচয়নকৃতভাবে নির্বাচিত ১০০০ লোকের প্রতিনিধিত্বশীল নমুনায়নের মাধ্যমে জরিপ সম্পন্ন করা যায়। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা যে সকল জরিপ পরিচালনা করে থাকে সেগুলোও প্রতিনিধিত্বশীল কয়েক হাজার  নমুনার ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হয়ে থাকে। টিআইবি’র বর্তমান খানা জরিপে ফলাফলের যথার্থতা ও গ্রহণযোগ্য ত্রুটি সীমার আলোকে চূড়ান্তভাবে ১৫,৫৮১টি খানা নির্বাচিত করা হয় যা পরিসংখ্যান সূত্র মতে সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্বশীল চিত্র প্রদান করেছে। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে জরিপের তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে “মার্জিন অব এরর” দুর্নীতির ক্ষেত্রে ১.৭% ও ঘুষের ক্ষেত্রে ১.৮% হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে যা গ্রহণযোগ্য সীমারেখার অন্তর্ভুক্ত। তাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার অন্যতম অংশ পুলিশবাহিনীকে “মুষ্টিমেয় কতিপয় লোকের মতামতের ভিত্তিতে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা” হয়েছে, এ অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়।
 
‘‘সেবা গ্রহণকারী খানার হারের সমষ্টি ১০০ শতাংশ অতিক্রম”
৪. প্রতিবাদলিপিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা থেকে সেবা গ্রহণের মোট হার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ অতিক্রম করার ওপর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এটি মূলত: একই প্রশ্নের জবাবে উত্তরদাতা কর্তৃক একাধিক উত্তর প্রদান বা মালটিপল রেসপন্সের জন্য হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, একই খানা হয়তো জরিপের তথ্যের মেয়াদে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থা থেকে সেবা গ্রহণ করেছে, যেক্ষেত্রে সরলভাবে যোগ করে হার নির্ধারণ করা যাবে না। এক্ষেত্রে এ সকল খানাকে পৃথক পৃথক ভাবে বিবেচনা করে সংস্থাভেদে সেবা গ্রহণের হার নির্ণয় করা হয়েছে, যা পরিসংখ্যান বিজ্ঞানের তথ্য বিশ্লেষণের প্রচলিত নিয়ম।
 
‘‘উপাত্তের মানের গড়মিল ও একই উপাত্তের দুইবার ব্যবহার’’
৫. সারণি ৪.১ এ স্পেশাল ব্রাঞ্চের শতকরা হার ১৫.২ এর পরিবর্তে ৫.৬ শতাংশ উল্লেখ করা এবং হাইওয়ে পুলিশকে অন্যান্য সংস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এ ত্রুটি গুলো টাইপো বা প্রতিবেদন কম্পোজ কালীন ত্রুটি। জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই তা চিহ্নিত ও সংশোধিত হয়েছিল, তবে প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে অসংশোধিত প্রতিবেদনটি ওয়েবসাইটে উত্তোলিত হয় এবং কোনো কোনো অংশীজনের নিকট ভুলবশত প্রেরিত হয়। যদিও এটি অত্যন্ত বিরল, এবং যদিও তা বিশ্লেষণের ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি, এ অনাকাঙ্খিত ত্রুটির জন্য টিআইবি দুঃখ প্রকাশ করছে, ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মীর জবাবদিহিতা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ তারিখে পুলিশ সদর দফতরের পক্ষ হতে মৌাখিক অনুরোধের প্রেক্ষিতে যে প্রতিবেদনটি প্রেরণ করা হয়েছে সেটি সংশোধিত সংস্করণ ছিল। উপরোল্লিখিত এই ত্রুটি কেবলমাত্র টাইপজনিত, এবং লক্ষণীয় যে কোনো অবস্থাতেই তা প্রতিবেদনের বিশ্লেষণের ওপর প্রভাব ফেলেনি।
 
"নিরক্ষর ও সাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন খানার অংশগ্রহণ ও তাদের অনিয়ম বা দুর্নীতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকা"; "নিরক্ষর ও সাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন খানার পূর্বধারণাকে প্রাধান্য দেয়া"
৬. পরিসংখ্যান ও জরিপ বিজ্ঞানের সর্বোৎকৃষ্ট ও সর্বাধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে এবং জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক সুখ্যাতি সম্পন্ন বিশেষজ্ঞ প্যানেলের পরামর্শে পরিচালিত এই জরিপে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর সকল অংশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে এবং  দৈবচয়িতভাবে খানা নির্বাচন করা হয়েছে, যেখানে খানাগুলোর মধ্যে থেকে নিরক্ষর ও স্বাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন খানা প্রধান পাওয়া গিয়েছে ৩০ শতাংশ, যা বিবিএস-এর পরিসংখ্যানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রতিবাদলিপিতে দুর্নীতি সম্পর্কে নিরক্ষর বা সাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন খানার “সুস্পষ্ট ধারণা” নেই বলে যে মন্তব্য করা হয়েছে সেটি যৌক্তিক নয়। জরিপভুক্ত খানা কর্তৃক প্রদত্ত উত্তর প্রশ্নপত্রে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত দুর্নীতি সমূহের এক বা একাধিকের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হলে উক্ত খানাকে দুর্নীতির শিকার গণ্য করা হয়েছে। সুতরাং এই জরিপে নিরক্ষর ও সাক্ষরজ্ঞান সম্পন্নদের পূর্বধারণাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে একথার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। বরং সম্পূর্ণ নৈর্ব্যক্তিকভাবে জরিপের সকল তথ্য সংগৃহীত হয়েছে। সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে শিক্ষিত ও পেশাগতভাবে উচ্চতর পর্যায়ের খানার তুলনায় নিম্নআয় এবং নিরক্ষর ও স্বাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন এবং কৃষক, শ্রমিক ও জেলেসহ সমাজের নিম্নতর অংশের ওপর তুলনামূলকভাবে দুর্নীতির প্রভাব বেশি। 
 
“প্রচলিত আইনে দুর্নীতিকে সংজ্ঞায়িত করা হলেও গবেষণা জরিপে এর প্রতিফলন দেখা যায় নি”
৭. এ জরিপে ব্যবহৃত দুর্নীতির সংজ্ঞা হচ্ছে ‘সেবা খাতে ব্যক্তিগত স্বার্থে ক্ষমতার অপব্যবহার’। এক্ষেত্রে ঘুষ নেওয়া বা ঘুষ দিতে বাধ্য করা ছাড়াও অর্থ বা সম্পদ আত্মসাৎ, প্রতারণা, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, স্বজনপ্রীতি ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানিকে দুর্নীতির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্বেচ্ছায় বা বাধ্যতামূলকভাবে প্রদত্ত ঘুষ, প্রতারণার মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ ইত্যাদি নিয়ম-বহির্ভূত অর্থের লেনদেনকে এ জরিপে ঘুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। অর্থ বা সম্পদ আত্মসাৎ বলতে জনগণের অর্থ বা সম্পদ অন্যায়ভাবে নিজের আয়ত্তে আনা বা হস্তগত করাকে বোঝানো হয়েছে। দুর্নীতির এই সংজ্ঞা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টান্যাশনাল প্রদত্ত সংজ্ঞার আলোকে নির্ধারিত। উল্লেখ্য এখানে সংজ্ঞায়িত দুর্নীতির উপাদানসমূহের অধিকাংশই দেশের প্রচলিত কোনো না কোনো আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য।
 
"জরিপের প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকরণে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা দেখানো হয়েছে.........পুলিশের ক্ষেত্রে উত্তরদাতা যাতে অস্পষ্ট উত্তর দেয় এমন প্রশ্ন করা হয়েছে"
৮. এই জরিপে সকল খাতের জন্য কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন যেমন“কি ধরনের সেবা গ্রহণ করেছে”, “দুর্নীতির শিকার হয়েছে কিনা”, “কি ধরনের দুর্নীতির শিকার হয়েছে” এবং “ঘুষ দেওয়ার কারণ কি” ইত্যাদির ভিত্তিতে দুর্নীতির ধরন, মাত্রা ও কারণ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসকল প্রশ্ন এত সুনির্দিষ্ট যে এর উত্তরে উত্তরদাতার পক্ষ থেকে অস্পষ্ট উত্তরের কোনো সুযোগ নেই।এছাড়া খাতভেদে অতিরিক্ত তথ্যের প্রয়োজনীয়তা থাকায় কোনো কোনো খাতে খাতভিত্তিক প্রয়োজন মাফিকঅতিরিক্ত প্রশ্ন যোগ করা হয়েছে। তবে খাতভিত্তিক বা সার্বিকবিশ্লেষণে এই অতিরিক্ত প্রশ্ন কোনো প্রভাব ফেলেনি। 
 
"ট্রাফিক সেবায় গড় ঘুষের পরিমাণ অবাস্তব ও কল্পনাপ্রসূত"
৯. ট্রাফিক সেবার ক্ষেত্রে দৈবচয়িতভাবে নির্বাচিত খানা এক বা একাধিকবার জরিপের বিবেচ্য সময়কালে (জানুয়ারি-ডিসেম্বর ২০১৭) যে পরিমাণ ঘুষ বা নিয়ম-বহির্ভূত অর্থ প্রদান করেছে তার ভিত্তিতে গড় ঘুষের পরিমাণ নির্ণয় করা হয়েছে। এখানে লক্ষণীয় যে এই গড় ঘুষ এক বছর সময়কালে একটি খানা কর্তৃক প্রদত্ত ঘুষের মোট পরিমাণের ওপর নির্ভরশীল।
 
"জিডি ও এফআইআর সেবাগ্রহীতা খানার হারের অসঙ্গতি"
১০. এই জরিপে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার জন্য নির্বাচিত খানাসমূহ কোনোভাবেই উদ্দেশ্যমূলক বা টার্গেট ভিত্তিক নির্বাচন করা হয় নি। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পরিসংখ্যান বিজ্ঞানের মানদ- অনুসরণ করে দৈবচয়িতভাবে সেবাগ্রহীতা খানাসমূহ নির্বাচিত হয়েছে। অন্য সকল ক্ষেত্রের ন্যায়  জিডি এবং এফআইআর সেবাগ্রহীতা খানার হারও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
 
"আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার ক্ষেত্রে ২০১৫ এর তুলনায় ২০১৭ সালে দুর্নীতি হ্রাস বিষয়ে মন্তব্য না করা"
১১. জরিপের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা থেকে সেবাগ্রহীতা খানার হার ২০১৫ সালের ৭৪.৬ শতাংশ হতে হ্রাস পেয়ে ২০১৭ সালে ৭২.৫ শতাংশ হয়েছে। অনুরূপভাবে, ঘুষ ও নিয়ম-বহির্ভূত অর্থ দেওয়ার হার ৬৫.৯ শতাংশ হতে হ্রাস পেয়ে ৬০.৭ শতাংশ হয়েছে। এসকল তথ্য জরিপ প্রতিবেদনের ২৬, ২৭ ও ২৯ পৃষ্ঠায় সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত মন্তব্য করা হয়নি এ কথা সত্য নয়।
 
পুলিশের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশীদারিত্ব ও গতিশীলতা বৃদ্ধি
১২. প্রতিবাদলিপিতে বাংলাদেশ পুলিশের মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করে কর্মক্ষেত্রে পুলিশের সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃক গৃহীত নানাবিধ পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। টিআইবি এ সকল ইতিবাচক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানায়। টিআইবি আশা করে জরিপে প্রাপ্ত ফলাফল ও উপস্থাপিত সুপারিশমালা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে বাংলাদেশ পুলিশ তার সেবা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সর্বোপরি দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। টিআইবি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করতে চায় যে, এই জরিপের উদ্দেশ্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মত জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহকে ঢালাওভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করা নয়; বরং এর উদ্দেশ্য হলো বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের আলোকে দুর্নীতির ধরন,মাত্রা ও কারণ চিহ্নিত করা, যাতে করে প্রতিষ্ঠানসমূহ জরিপে প্রাপ্ত ফলাফলের আলোকে নিজ নিজ সুশাসন পরিস্থিতির অধিকতর উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।