• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সন্নিকটে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগে টিআইবি উদ্বিগ্ন; পরিবেশ ও প্রতিবেশের জন্য ব্যাপক ঝুঁকিপূর্ণ এ উদ্যোগ প্রত্যাহারের আহ্বান

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
 
পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সন্নিকটে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগে টিআইবি উদ্বিগ্ন; পরিবেশ ও প্রতিবেশের জন্য ব্যাপক ঝুঁকিপূর্ণ এ উদ্যোগ প্রত্যাহারের আহ্বান
 
ঢাকা, ৭ মে ২০১৮: পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই বরগুনার টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সন্নিকটে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগে এবং নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এর বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে (পিপিএ) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। পরিবেশ ও প্রতিবেশ এবং জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এ উদ্যোগ অবিলম্বে বাতিলের আহবান জানিয়েছে টিআইবি।
আজ এক বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই দেশের দ্বিতীয় সুন্দরবন হিসেবে পরিচিত সংরক্ষিত টেংরাগিরি বন থেকে এক কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে ৩০৭ মেগাওয়াটের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান আইসোটেক ও বিদেশি দুটি প্রতিষ্ঠান। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় করতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ইতিমধ্যে ২৫ বছর মেয়াদী পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (পিপিএ) করেছে। অথচ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৭ এর ৭(৪) ধারা অনুযায়ী, ‘লাল’ শ্রেণীভুক্ত যেকোনো শিল্প স্থাপনে পূর্ণ পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) সাপেক্ষে পরিবেশ অধিদপ্তরের ‘পরিবেশ ছাড়পত্র’ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা ছাড়াই এই কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, পরিবেশ আইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ধরনের শিল্পকারখানা স্থাপন নিষেধ হলেও তা অমান্য করে একতরফা এ ধরনের উদ্যোগ সরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে দেশের আইনের উদ্বেগজনক লঙ্ঘন। অবস্থানগত ছাড়পত্র প্রাপ্তির বিষয়ে পিডিবি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ভিন্ন বক্তব্য পুরো বিষয়টির ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সমন্বয়ের সুস্পষ্ট ঘাটতি নির্দেশ করে। তাছাড়া, একই এলাকায় পর্যায়ক্রমে আরও একটি ৩০৭ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।”
ড. জামান বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত সাংবিধানিক ও আইনি বাধ্যবাধকতাকে সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। আইন ও সংবিধান রক্ষায় সরকার যেখানে অঙ্গীকারাবদ্ধ সেখানে এই ধরনের উদ্যোগ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান পিডিবি’র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি দুর্ভাগ্যজনক। নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও সুখ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক যথাযথভাবে পূর্ণ পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) না করে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর নামে এসব কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে সীমিত বনাঞ্চলকে আরো ধ্বংসের ঝুঁকিতে ফেলে ইতিমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের উপক‚লীয় জনগণের জীবন, জীবিকা ও জীববৈচিত্র্যকে আরো ঝুঁকিতে কেন ফেলা হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়। আত্মঘাতি এ উদ্যোগ অবিলম্বে বাতিলের জন্য টিআইবি আহ্বান জানাচ্ছে।” 
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের অক্টোবরে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় টেংরাগিরি বনাঞ্চলকে বন্য প্রাণীর অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করে। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা টেংরাগিরি বনাঞ্চল অতীতে সুন্দরবনের অংশ ছিল। ১৯৬০ সালে টেংরাগিরি বা ফাতরার বনকে সংরক্ষিত বনাঞ্চল হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। গেওয়া, জাম, ধুন্দুল, কেওড়া, সুন্দরী, বাইন, করমচা, গরান প্রভৃতি গাছের সমারোহ ছাড়াও এ বনে বসত গড়েছে কাঠবিড়ালি, বানরসহ প্রায় ৪০ প্রজাতির প্রাণি। ইতিমধ্যে টেংরাগিরি বনের গাছ কেটে উজার করছে বনদস্যুরা। এছাড়া, জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন বৃক্ষ মারা যাওয়ায় এমনিতেই বনটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে।   
ড. জামান সংবিধান এবং আইন লঙ্ঘন করে এ ধরনের প্রাণ ও প্রতিবেশ বিধ্বংসী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ বিষয়ে আশু পদক্ষেপের আহবান জানান।

 

গণমাধ্যম যোগাযোগ,
 
 
মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম
সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার, আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগ
মোবাইল: ০১৭১৪০৯২৮৬৪
ই-মেইল: This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.