• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

জাগ্রত বিবেক নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুঁখে দাঁড়ানোর প্রত্যয় টিআইবি স্বেচ্ছাসেবকদের দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ৯ দফা দাবি উত্থাপন টিআইবি’র জাতীয় সম্মেলনে

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জাগ্রত বিবেক নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুঁখে দাঁড়ানোর প্রত্যয় টিআইবি স্বেচ্ছাসেবকদের
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ৯ দফা দাবি উত্থাপন টিআইবি’র জাতীয় সম্মেলনে
 
ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮: দুর্নীতিকে সর্বান্তকরণে ঘৃণা করার সম্মিলিত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে আজ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে টিআইবি’র অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ইয়ুথ ইনগেইজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস), স্বজন, ইয়েস ফ্রেন্ডস ও ওয়াইপ্যাক এর দিনব্যাপী জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। টিআইবি কর্মী ও সদস্যসহ দেশের ৪৫টি অঞ্চল ও ঢাকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আড়াই হাজারেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা প্রত্যেকে নিজ অবস্থান থেকে একক ও সমষ্টিগতভাবে দুর্নীতিকে কার্যকরভাবে প্রতিরোধের চেষ্টা করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একটি দুর্নীতিমুক্ত ও সুশাসিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেসম্মেলনের ঘোষণাপত্রেনয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে ব্যক্তিগত এবং পেশাগত জীবনে দুর্নীতি থেকে বিরত থেকে প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান অনুযায়ী একক ও সমষ্টিগতভাবে দুর্নীতিকে কার্যকরভাবে প্রতিরোধের চেষ্টাসহ ন্যায্য, সুশাসিত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সবাই একযোগে কাজ করতে সচেষ্ট থাকার অঙ্গীকার করা হয়। এছাড়া সকল স্তরে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানের বিকাশের দাবিসহ সমান অধিকার নিশ্চিতে আইনের শাসন, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক চর্চা প্রতিষ্ঠা; তৃণমূলে কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়। একইসাথে তথ্যের অধিকার, অবাধ তথ্য প্রবাহ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা; জাতীয় উন্নয়নে স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ ও পরিবেশের প্রতি সংবেদনশীলতা; কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ বাতিল ও আর্থিক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ এবং দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে কার্যকর দুর্নীতি দমন কমিশনের দাবিসহ ৯ দফা দাবি উত্থাপন করা হয় সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে।

সকালে টিআইবি’র থিম সংগীত-ভিত্তিক কোরিওগ্রাফি প্রদর্শনের পর দুর্নীতিবিরোধী শপথ পাঠের মধ্য দিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একসাথে প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের উদ্বোধন করেন টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম. হাফিজউদ্দিন খান। উদ্বোধন পর্বের পর সনাক পরিবারের আনন্দ ও বেদনার সংবাদ উপস্থাপন এবং অনুষ্ঠানের খসড়া কর্মসূচি উপস্থাপন করেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্যে ড. ইফতেখারুজ্জামান সম্মেলনে আগত দুর্নীতিবিরোধী কর্মীদের স্বাগত জানিয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে নাগরিকের দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে অগ্রগতির জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার দৃশ্যমান বাস্তবায়ন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এছাড়া জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় দুদকের পাশাপাশি এ খাতে নিয়োজিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহহসহ নাগরিক সংগঠন, গণমাধ্যম ও সামাজিত সংগঠনগুলোকে কাজ করতে দেয়ার সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করাজন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।

এর পর সম্মেলনে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন টিআইবি সাধারণ পর্ষদে সনাক প্রতিনিধি মোঃ দেলোয়ার হোসেন মজুমদার, ইয়েস প্রতিনিধি মো. নোমান মজুমদার ও ওয়াইপ্যাক প্রতিনিধি শাহ মোঃ ইমরান।

দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা বিষয়ে প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ, টেন মিনিট স্কুল এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আইমান সাদিক এবং চামড়া পণ্যজাত প্রতিষ্ঠান কারিগর এর তরুণ উদ্যোক্তা ও ম্যানেজিং পার্টনার তানিয়া ওয়াহাব।

‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে একসাথে’ শীর্ষক আলোচনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, “সামাজিক সংগঠনসমূহের কার্যকর ও দৃশ্যমান সম্পৃক্ততা ছাড়া দুর্নীতি বিরুদ্ধে অসম লড়াইয়ে বিজয় অর্জন সম্ভব নয়।” তিনি আরো বলেন,  “সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মূল প্রতিবন্ধকতা দুর্নীতি আর এ বাধা পেরিয়ে অগ্রসর হওয়ার জন্য অধিকার আদায়ে সক্ষম সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও জনগণের সম্মিলিত প্রয়াস এর বিকল্প নেই”। এছাড়া সামাজিক দুর্নীতি সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে টিআইবি’র অব্যাহত কার্যক্রম বিশেষ করে অর্থপূর্ণ সমালোচনা ও সুপারিশমালাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি ব্যতিরেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ন্যায্য অধিকার আদায় সম্ভব নয় এবং এ ধরণের চাপ প্রয়োগ ও দাবি উত্থাপন অব্যাহত রাখতে হবে, পাশাপাশি সামাজিক নানা পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে দুনীতিবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম. হাফিজউদ্দিন খান দেশের নানা প্রান্ত থেকে আগত দুর্নীতিবিরোধী কর্মী-সংগঠকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দুর্নীতির মত সমস্যার মূলোৎপাটনে তৃণমূলের অপরিসীম ভূমিকা এ লড়াইয়ে অগ্রগতির ভিত গড়ে দেয়। এ লড়াইয়ে বিজয় অর্জনে সকলকে সজাগ ও সক্রিয়ভাবে যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী টিআইবি’র স্বেচ্ছাসেবকগণ গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও বেগবান ও কার্যকর করতে একযোগে কাজ করতে সচেষ্ট ও সক্রিয় থাকার অঙ্গীকার করেন। বিবেককে চির জাগ্রত রেখে অন্য সকলের, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে দুর্নীতি প্রতিরোধে উদ্বুদ্ধ করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তারা।
 
দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তরুণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে টিআইবি’র অনুপ্রেরণায় গঠিত ইয়েস সদস্যদের মধ্যে সেরা ইয়েস ও ইয়েস ফ্রেন্ডস পুরস্কার বিতরণের পর বিকেলে জাতীয় সম্মেলন ২০১৮ এর ঘোষণা পাঠ করা হয়। এ সময় দুর্নীতিকে সর্বান্তকরণে ঘৃণা করার সম্মিলিত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ব্যক্তিগত এবং পেশাগত জীবনে দুর্নীতি থেকে বিরত থেকে প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান অনুযায়ী একক ও সমষ্টিগতভাবে দুর্নীতিকে কার্যকরভাবে প্রতিরোধের চেষ্টা করার অঙ্গীকার করা হয়। ন্যায্য, সুশাসিত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সবাই একযোগে কাজ করতে সচেষ্ট থাকার অঙ্গীকারও করা হয়। এছাড়া সকল স্তরে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানের বিকাশের দাবিসহ সমান অধিকার নিশ্চিতে আইনের শাসন, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক চর্চা প্রতিষ্ঠা; তৃণমূলে কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিতের দাবি উত্থাপন করা হয়। এছাড়াও তথ্যের অধিকার, অবাধ তথ্য প্রবাহ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা; জাতীয় উন্নয়নে স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ ও পরিবেশের প্রতি সংবেদনশীলতা; কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ বাতিল ও আর্থিক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ এবং দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে কার্যকর দুর্নীতি দমন কমিশনের দাবিসহ ৯ দফা দাবি জানানো হয় সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে।

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ও উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের এর পরিচালনায় একটি অধিবেশনে টিআইবি’র চলমান প্রকল্প ‘বিবেক’ পরবর্তী ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা বিষয়ে টিআইবি’র সেচ্ছাসেবকদের মতামত গ্রহণ করা হয়। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন টিআইবি’র সিভিক ইনগেইজমেন্ট বিভাগের পরিচালক ফারহানা ফেরদৌস।  সন্ধ্যায় টিআইবি’র স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই সম্মেলন শেষ হয়।

গণমাধ্যম যোগাযোগ,

রিজওয়ান-উল-আলম
পরিচালক  (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন)
মোবাইল: ০১৭১৩০৬৫০১২
ই-মেইল: This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.