• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

সেবাখাতে দুনীতি প্রতিরোধে গণশুনানিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার পাশাপাশি এর কার্যকরতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত ফলোআপসহ আট দফা সুপারিশ টিআইবি’র

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
সেবাখাতে দুনীতি প্রতিরোধে গণশুনানিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার পাশাপাশি এর কার্যকরতা বৃদ্ধিতে
নিয়মিত ফলোআপসহ আট দফা সুপারিশ টিআইবি’র
 
ঢাকা, ৫ নভেম্বর ২০১৭: “দুর্নীতি প্রতিরোধের ক্ষেত্রে গণশুনানি একটি সম্ভাবনাময় কার্যক্রম। এর মাধ্যমে একদিক থেকে সেবাগ্রহীতা হিসেবে জনগণের কাছে সেবাপ্রদানকারীদের জবাবদিহিতার সম্ভাবনা যেমন সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি স্থানীয় পর্যায়ে সেবাপ্রদানকারীদের সাথে সেবাগ্রহীতাদের সম্পর্ক উন্নয়ন ও আস্থার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার একটি সম্ভাবনাও সৃষ্টি হয়েছে। তবে এধরণের কার্যক্রমের বাস্তব সুফল পেতে হলে এটিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে”। আজ সকালে টিআইবি’র ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পরিচালিত গণশুনানি: কার্যকরতা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
 
গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবি’র সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. ওয়াহিদ আলম ও ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. শহিদুল ইসলাম। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র উপদেষ্টা- নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান এবং প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. রেযাউল করিম। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া এ গবেষণা কার্যক্রমে দুদক পরিচালিত ডিসেম্বর ২০১৪ থেকে জুন ২০১৬ সময়কালে আয়োজিত মোট ১৩টি গণশুনানির তথ্য ব্যবহৃত হয়েছে। সেবাখাতে দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদকের গণশুনানি’র ভূমিকা পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে পরিচালিত এ গবেষণায় সুনির্দিষ্টভাবে হয়রানিবিহীন ও দুর্নীতিমুক্ত সেবাপ্রদানের ক্ষেত্রে গণশুনানি’র ভূমিকা, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহে এর প্রভাব, এর কার্যক্রম আয়োজন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় চ্যালেঞ্জসমূহ চিহ্নিত করার পাশাপাশি গণশুনানি’র কার্যকরতা বৃদ্ধিতে আট দফা সুপারিশ করা হয়েছে টিআইবি’র পক্ষ থেকে।
প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, গণশুনানি’র মাধ্যমে সেবাপ্রদানকারী ও সেবাগ্রহণকারীদের সংযুক্ত করার মাধ্যমে জনসাধারণেকে ক্ষমতায়িত করার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসনের ঘাটতিসমূহ দূর করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এছাড়া গণশুনানিতে উত্থাপিত অভিযোগ সমাধানকল্পে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি মোতাবেক পদক্ষেপ গ্রহণের হারও উল্লেখযোগ্য। তবে অধিকাংশ অভিযোগকারী গবেষণার তথ্য সংগ্রহকালীন সময় পর্যন্ত কাঙ্খিত সমাধান পান নি। এর কারণ হিসেবে গণশুনানি পরবর্তী ফলোআপের ক্ষেত্রে ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে পুনরায় সেবা নিতে গিয়ে অভিযোগকারী অনিয়মের শিকার হয়েছেন। তাই শুনানি পরবর্তীতে অভিযোগকারীদের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সমাধান দেয়া হচ্ছে কিনা তার ফলোআপে ঘাটতির বিষয়টি গণশুনানির সাফল্যের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আবার শুনানির পর প্রায় সব প্রতিষ্ঠান সেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করা সত্ত্বেও কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে সেবাপ্রদানে পেশাদারিত্বের ঘাটতিও লক্ষণীয়। এছাড়া গণশুনানি আয়োজনে দুদক ও আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, যেমন -জনবল, লজিস্টিকস ও অর্থবরাদ্দের ঘাটতি রয়েছে বলেও গবেষণার পর্যবেক্ষণে উঠে আসে।
সংবাদ সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “গণশুনানির প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে একধরণের প্রভাব সৃষ্টি হলেও দুদকের পক্ষে সারাদেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠান সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ সম্ভব নয়। তাই সেবাপ্রদানকারী ও সেবাগ্রহীতাদের মধ্যকার আস্থার সংকট আরো কমিয়ে আনতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ক্ষেত্রগুলোতে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরীবিক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দুদককেও খেয়াল রাখতে হবে যেন গণশুনানির এই কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকতায় পর্যবসিত না হয়।” 
গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, গণশুনানি চলাকালে দুই-তৃতীয়াংশের অধিক (৭৮%) অভিযোগকারী অভিযোগ সমাধানের প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন। অভিযোগ সমাধানের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষের সাড়া প্রদানের বিষয়ে এটি একটি ইতিবাচক চিত্র। কিন্তু পরবর্তীতে ২৭ শতাংশ অভিযোগকারী চূড়ান্তভাবে অভিযোগের সমাধান পেলেও প্রায় দুই তৃতীয়াংশ অভিযোগকারী (৭৩%) টিআইবি’র জরিপকালীন সময় পর্যন্ত অভিযোগের কোন সমাধান পাননি। অভিযোগকারীদের মতামত অনুযায়ী অভিযোগের সমাধান না পাওয়ার অন্যতম কারণগুলো হলো- কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতা (৬৯%), নিয়ম-বহির্ভূত অর্থ দাবি (২৭%), উদ্যোগের অভাব (২৪%) ইত্যাদি। এছাড়া জরিপের তথ্য অনুযায়ী সেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গণশুনানির পর কিছু উদ্যোগ গৃহীত হয়েছে ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সেবার মান উন্নয়নে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে দুদক এর উদ্যোগে বিভিন্ন সেবা খাতের উপর আয়োজিত গণশুনানিতে যে সব খাতের উপর অভিযোগ উঠেছে সেগুলো হলো- উপজেলা ভূমি অফিস, সাব- রেজিস্ট্র অফিস, সেটেলমেন্ট অফিস, পল্লী বিদ্যুৎ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ইত্যাদি।  গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ, হয়রানি, দায়িত্বে অবহেলা, খারাপ আচরণ ও প্রতারণার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। আর ভূমি খাতে প্রতারণার মাধ্যম ভূমি আত্মসাৎ, ভূমি দখল, সঠিক কাগজপত্র ছাড়া জমি দখল, পেশী শক্তি ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
গবেষণায় দেখা যায়, গণশুনানিতে তিন পর্যায়ে যথা- আয়োজন, গণশুনানি চলাকালে ও গণশুনানি পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষসহ অন্যান্য অংশীজনকে নানামুখি চ্যালেঞ্জের সম্মুখিন হতে হয়। যার মধ্যে আয়োজন পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জসমূহ হল গণশুনানি সম্পর্কে সচেতনতার অভাব, সেবা সম্পর্কে ধারণা ও পর্যাপ্ত প্রচারণার অভাব, প্রান্তিক অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর কম অংশগ্রহণ, অভিযোগ জমা দিতে দ্বিধা ও উত্থাপনে বাধা, সরকারি কর্মকর্তাদের একাংশের অনাগ্রহ ও অনুপস্থিতি এবং  দুদকের জনবল, লজিস্টিকস ও অর্থবরাদ্দের ঘাটতি। গণশুনানি চলাকালে বিলম্বে অনুষ্ঠান শুরু হওয়া ও অতিথিদের দীর্ঘ বক্তৃতা এবং গণশুনানি-পরবর্তীতে কর্মকর্তাদের বদলি ও অবসরজনিত সমস্যা, প্রতিশ্রুতির ফলো-আপ না হওয়া ইত্যাদি চ্যালেঞ্জ পরিলক্ষিত হয়। 
এই গবেষণার পর্যবেক্ষণের উপর ভিত্তি করে টিআইবি’র পক্ষ থেকে গণশুনানিকে আরো কার্যকর করার লক্ষ্যে আট দফা সুপারিশ করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে: প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযোগের সমাধান নিশ্চিতকল্পে দুদকের ফলো-আপসহ অভিযোগ নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা, গণশুনানির জন্য নির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ, অধিকতর প্রচারণা, অভিযোগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি, প্রতিষ্ঠান/খাতভিতিক আলাদা গণশুনানির আয়োজন, গণশুনানিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং সময়মতো গণশুনানি শুরু করা।
মিশ্র পদ্ধতির এ গবেষণায় পরিমাণগত পদ্ধতির অংশ হিসেবে অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উপর দুটি পৃথক জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে মুখ্য তথ্যদাতার সাক্ষাতকার ও কেস স্টাডিসহ কিছু গুণগত পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে।  তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে মুখ্য তথ্যদাতার সাক্ষাতকার ও কেস স্টাডিসহ কিছু গুণগত পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে। মুখ্য তথ্যদাতা হিসেবে গণশুনানি আয়োজন ও বাস্তবায়নে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার ও তথ্যের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উৎস হিসেবে গণশুনানিতে অভিযোগকারী, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সাক্ষাৎকারসহ প্রাসঙ্গিক বই, প্রবন্ধ, গবেষণা ও প্রকাশিত প্রতিবেদন, নথি ও গণশুনানির কার্যবিবরণী পর্যালোচনার মাধ্যমে সংগৃহিত তথ্য গবেষণায় ব্যবহৃত হয়েছে।
 
গণমাধ্যম যোগাযোগ
রিজওয়ান-উল-আলম
পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগ)
মোবাইল: ০১৭১৩০৬৫০১২
ই-মেইল: This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.