• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

দশম জাতীয় সংসদের ৭ম থেকে ১৩তম অধিবেশন সম্পর্কে টিআইবি’র পার্লামেন্টওয়াচ প্রতিবেদন সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে প্রধান বিরোধী দলের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশিত

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
 
দশম জাতীয় সংসদের ৭ম থেকে ১৩তম অধিবেশন সম্পর্কে টিআইবি’র পার্লামেন্টওয়াচ প্রতিবেদন  সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে প্রধান বিরোধী দলের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশিত 
 
ঢাকা, ৯ এপ্রিল ২০১৭: দশম জাতীয় সংসদের ৭ম-১৩তম অধিবেশনের গড় বৈঠককাল, আইন প্রণয়নে ব্যয়িত মোট সময়ের শতকরা হার পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, প্রতি কার্যদিবসে সদস্যদের গড় উপস্থিতির হার বৃদ্ধি এবং কোরাম সংকট তুলনামূলকভাবে হ্রাস পেলেও, আইন প্রণয়নে জনমত গ্রহণের বিদ্যমান পদ্ধতিগুলোর সীমিত প্রয়োগ সহ একাধিক কারণে সংসদের প্রত্যাশিত কার্যকরতার ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। আজ দশম জাতীয় সংসদের সপ্তম থেকে ত্রয়োদশ অধিবেশনের কার্যক্রম ওপর টিআইবি’র পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ ভিত্তিক গবেষণা প্রতিবেদন ‘পার্লামেন্টওয়াচ’ প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল তুলে ধরে সংসদকে কার্যকর করতে ১১ দফা সুপারিশ উত্থাপন করা হয়। সংস্থার ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রতিবেদনের সারাংশ উপস্থাপন করেন টিআইবি’র গবেষণা ও পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি এবং অ্যাসিসট্যান্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার অমিত সরকার। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান।
গবেষণা প্রতিবেদনটিতে সেপ্টেম্বর ২০১৫- ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত (সপ্তম থেকে ত্রয়োদশ অধিবেশন) বিভিন্ন পরিমাণবাচক এবং গুণবাচক তথ্য সংগৃহীত হয়। প্রত্যক্ষ তথ্যের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে সংসদ টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি প্রচারিত সংসদ কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য ক্ষেত্রে টিআইবি’র গবেষণা দলের সদস্য কর্তৃক অধিবেশন সরাসরি পর্যবেক্ষণ। এছাড়া পরোক্ষ তথ্যের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয় সংসদ কর্তৃক প্রকাশিত বুলেটিন ও কমিটি প্রতিবেদন, সরকারি গেজেট, প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন, বই ও প্রবন্ধ ও সংবাদপত্রের তথ্য ইত্যাদি। 
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দশম সংসদের ৭ম থেকে ১৩তম অধিবেশনে সংসদ নেতার উপস্থিতি ছিল মোট কার্যদিবসের ৮৪% এবং বিরোধী দলীয় নেতার উপস্থিতি ছিল ৮৩%। দশম সংসদে অধিবেশনের গড় বৈঠককাল, প্রতি কার্যদিবসে সদস্যদের গড় উপস্থিতির হার তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি এবং কার্যদিবসের গড় কোরাম সংকট তুলনামূলকভাবে হ্রাস পাওয়ার মতো কতিপয় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেলেও সংসদের প্রত্যাশিত কার্যকরতা অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাহত হচ্ছে। কার্যপ্রণালী বিধি ২৭০ এর ৬ উপবিধি লঙ্ঘন করে সরকার ও বিরোধী দলীয় সদস্যদের অসংসদীয় আচরণ ও ভাষার ব্যবহার এখনো বন্ধ হয়নি। আন্তর্জাতিক চুক্তিসমূহের ওপর আলোচনা না হওয়ার পাশাপাশি, আইন প্রণয়ন পর্বে সদস্যদের অংশগ্রহণ কম এবং বিরোধী সদস্যদের মতামত ও প্রস্তাব যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আইন প্রণয়নে জনমত গ্রহণের বিদ্যমান পদ্ধতিগুলোর প্রয়োগের ঘাটতির ফলে জন-অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত আলোচিত হত্যাকান্ড, জঙ্গী অপতৎপরতা, আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি বিষয়ে বাজেট আলোচনা, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা এবং অনির্ধারিত আলোচনা পর্বে আলোচিত হলেও জনগুরুত্বপূর্র্ণ নোটিস পর্বে উক্ত বিষয়সমূহ আলোচিত হয় নি। তিন-চতুর্থাংশের বেশী কার্যদিবসে নারী সদস্যদের উপস্থিতি পুরুষ সদস্যদের তুলনায় বেশী হলেও আইন প্রণয়ন ও প্রশ্নোত্তর পর্বে নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম ছিল। তাছাড়া সংসদীয় কমিটিতে স্বার্থের দ্বন্দ্ব, বিধি অনুযায়ী কমিটি সভা না হওয়া, কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের সময়সীমা ও বাধ্যবাধকতা না থাকা এবং সংসদের কার্যবিবরণী ও কমিটি প্রতিবেদনসমূহের উন্মুক্ততা ও অভিগম্যতার ঘাটতি ইত্যাদি চ্যালেঞ্জসমূহ লক্ষণীয় ছিল।
দশম সংসদের ৫০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির মধ্যে এই সাতটি অধিবেশন সময়ে বিধি অনুযায়ী ৪৭টি কমিটি মোট ৩৩৭টি সভা করেছে। এর মধ্যে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি সর্বোচ্চ ২২টি সভা করেছে। কমিটির সভাপতি ও সদস্য নির্বাচনে সরকার দলীয় প্রভাব এবং কমিটি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী নয়টি কমিটিতে সদস্যদের কমিটি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা দেখা যায় যা কার্যপ্রণালী বিধির লঙ্ঘন। অধিবেশন চলাকালীন ১০টি স্থায়ী কমিটিসমূহের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী কমিটি সভায় সদস্যদের সার্বিক গড় উপস্থিতি প্রায় ৬৫%। 
পার্লামেন্টওয়াচ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দশম সংসদের ৭টি অধিবেশনে দৈনিক গড়ে ২৮ মিনিট হিসেবে মোট কোরাম সংকট হয়েছে ৪৮ ঘন্টা ২৬ মিনিট যার অনুমিত অর্থমূল্য প্রায় ৪৭ কোটি ২০ লক্ষ ৩৩ হাজার ২০৪ টাকা। অধিবেশনে আইন প্রণয়নে মোট অধিবেশনের সময়ের মাত্র ১৬% ব্যয়িত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব ও জবাবদিহিতা কার্যক্রমের আওতায় কার্যপ্রণালী বিধি ৭১ অনুযায়ী মোট ৯০টি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিস আলোচনার জন্য গৃহীত হয়। এর ৩২টি নোটিস সংসদে আলোচিত হয়।
গবেষণার সার্বিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষের আলোচনায় ও বক্তব্যে সংসদের বাইরের রাজনৈতিক জোট নিয়ে অপ্রাসঙ্গিক সমালোচনা ও অশালীন ভাষার প্রধান্য, অসংসদীয় আচরণ ও ভাষার ব্যবহার বন্ধে স্পিকারের শক্তিশালী ভূমিকার অনুপস্থিতি, আইন প্রণয়ন, প্রশ্নোত্তর ও জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিসের আলোচনা পর্বে সদস্যদের কম অংশগ্রহণ, কমিটি সদস্যের কমিটি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা, বিধি অনুযায়ী সভা নিয়মিত না হওয়া, তথ্যের উন্মুক্ততা ও অভিগম্যতার ঘাটতি এবং নারী সদস্যদের তুলনামূলক কম অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
সংবাদ সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “অধিবেশনগুলোতে সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, আইন প্রণয়নে ব্যয়িত সময়ের পরিমাণ বৃদ্ধি, কোরাম সংকট পূর্বের তুলনায় অপেক্ষাকৃত হ্রাস, সংসদ কার্যক্রমে নারী সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের বর্ধিত প্রচেষ্টা বিষয়গুলি সংসদীয় কার্যক্রমের সক্রিয়তা বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরলেও প্রতিটি ক্ষেত্রেই অধিকতর অগ্রগতির সুযোগ রয়েছে।” বিরোধী দলের একই সাথে সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা পালনকে ‘দ্বৈত অবস্থান’ উল্লেখ করে এর ফলে সংসদ ও সংসদের বাইরে উভয় জায়গায় তারা ব্যর্থ হচ্ছেন বলে তিনি বাস্তব অবস্থা ও সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার দায় বিবেচনায় নিয়ে বিরোধী দলকে এ ভূমিকা থেকে সরে আসার আহবান জানান। এছাড়া তিনি সংসদ সদস্যদের বিব্রতকর শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত হওয়া, সংসদীয় কমিটির সুপারিশ আমলে নেওয়া, কমিটিসমূহে দৃশ্যমান স্বার্থের দ্বন্দ্ব কমিয়ে আনা ও সংসদীয় উন্মুক্ততা ঘাটতি নিরসনসহ টিআইবি’র সুপারিশ আমলে নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান।
টিআইবি ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল দেশ-বিদেশে স্বাক্ষরিত চুক্তিসমূহের বিস্তারিত সংসদে আলোচনা না হওয়াকে সংসদীয় কার্যক্রমের ব্যত্যয় বলে অভিহিত করেন। সংসদ অধিকতর কার্যকরকরণে ও সংসদে জনগণের দৃশ্যমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতে তিনি বিরোধী দলের স্পষ্ট অবস্থান, কমিটিসমূহের সুপারিশ আমলে নেওয়া ও সংসদের উপর সরকারের আধিপত্য হ্রাস করার আহবান জানান।
প্রতিবেদনে সংসদীয় গণতন্ত্র সুদৃঢ় করা, সংসদকে কার্যকর করা ও সর্বোপরি সংসদকে জবাবদিহিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে সংসদে সদস্যদের উপস্থিতি, সংসদে সদস্যদের আচরণ ও অংশগ্রহণ, তথ্য প্রকাশ, সংসদীয় কার্যক্রমে জনগণের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, সংসদীয় কমিটি কার্যকর করাসহ মোট ১১ দফা সুপারিশ উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো- ‘সংসদ সদস্য আচরণবিধি বিল’ চূড়ান্ত অনুমোদনের উদ্যোগ গ্রহণ; অসংসদীয় আচরণ এবং ভাষার ব্যবহার বন্ধে স্পিকারের অধিকতর শক্তিশালী ভূমিকা পালন; দ্বৈত অবস্থান পরিহার করে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ইতিবাচক চর্চাকে কার্যকর করা; সংসদীয় স্থায়ী কমিটিসমূহকে কার্যকর; আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে সদস্যদের অধিকতর অংশগ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করা এবং আইন প্রণয়নের বিভিন্ন পর্যায়ে জনগণের অধিকতর অংশগ্রহণের জন্য জনমত যাচাই-বাছাইয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করা। এক্ষেত্রে সংসদের ওয়েবসাইট, সংসদ টিভি, বেসরকারি সংস্থা কিংবা সংবাদপত্রের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। এছাড়াও অপরাপর সুপারিশসমূহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল জনগণের সাথে সংসদের সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য পিটিশন কমিটিকে কার্যকর করা; সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনসহ সদস্যদের মত প্রকাশ ও সমালোচনার বিধান এবং আন্তর্জাতিক চুক্তিসমূহ সদস্যদের আলোচনার বিধান গ্রহণের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া; এবং সংসদীয় কমিটির সুপারিশসহ কার্যবিবরণী জনগণ তথা সরকারি ও বেসরকারি রেডিও, টেলিভিশন এবং সংবাদপত্রসহ সকল গণমাধ্যমে সহজলভ্য করা।
র্বাতা প্ররেক,

রিজওয়ান-উল-আলম

পরিচালক- আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগ
ই-মেইল:  This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.
যোগাযোগ: ০১৭১৩০৬৫০১২