• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০১৬ এ বাংলাদেশের অবস্থানের দুই ধাপ উন্নতি: নিম্নক্রম অনুযায়ী অবস্থান ১৫তম

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০১৬ এ বাংলাদেশের অবস্থানের দুই ধাপ উন্নতি: নি¤œক্রম অনুযায়ী অবস্থান ১৫তম

জবাবদিহিতার শক্তিশালী দাবি উত্থাপনে গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি সংস্থাসহ জনগণের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির দাবি টিআইবি’র 

ঢাকা, জানুয়ারি ২৫, ২০১৭: বার্লিনভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) কর্তৃক প্রকাশিত দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০১৬ অনুযায়ী ২০১৫ সালের তুলনায় বাংলাদেশের স্কোর এক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নি¤œক্রম অনুযায়ী অবস্থানের দুই ধাপ উন্নতি হয়েছে। তবে বৈশ্বিক গড় স্কোরের তুলনায় বাংলাদেশের ২০১৬ সালের স্কোর এখনো অনেক কম। গতবারের চেয়ে এক স্কোর বৃদ্ধি পেলেও দক্ষিণ এশিয়ায় এবারও বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় সর্বনি¤œ হওয়ায় দেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা ও গভীরতা এখনও উদ্বেগজনক। এই প্রেক্ষাপটে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরো কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। 

আজ সকালে সিপিআই ২০১৬ এর বৈশ্বিক প্রকাশ উপলক্ষে ধানম-িস্থ টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের এই অবস্থান প্রকাশ করে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ০-১০০ স্কেলে ২৬ স্কোর পেয়ে ১৭৬টি দেশের মধ্যে ঊর্ধ্বক্রম অনুসারে ১৪৫তম এবং নি¤œক্রম অনুসারে ১৫তম অবস্থানে রয়েছে। এবারের সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ১ বৃদ্ধি পেয়ে ঊর্ধ্বক্রম অনুযায়ী অবস্থান ছয় ধাপ নিচে নেমেছে এবং নি¤œক্রম অনুযায়ী দুই ধাপ এগিয়েছে। ২০১৬ সালের সিপিআই অনুযায়ী ৯০ স্কোর পেয়ে দুর্নীতির কারণে সবচেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকার শীর্ষে যৌথভাবে অবস্থান করছে ডেনমার্ক ও নিউজিল্যান্ড। ৮৯ স্কোর পেয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফিনল্যান্ড এবং ৮৮ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন। আর সর্বনি¤œ ১০ স্কোর পেয়ে ২০১৬ সালে তালিকার সর্বনিম্নে অবস্থান করছে সোমালিয়া। ১১ ও ১২ স্কোর পেয়ে তালিকার সর্বনি¤েœর দ্বিতীয় ও তৃতীয় দেশ হিসেবে রয়েছে যথাক্রমে দক্ষিণ সুদান ও উত্তর কোরিয়া। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে বাংলাদেশের সাথে একই স্কোর প্রাপ্ত অন্য পাঁচটি দেশ হল: ক্যামেরুন, গাম্বিয়া, কেনিয়া, মাদাগাস্কার ও নিকারাগুয়া।  

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “২০১২ সালেও বাংলাদেশের স্কোর ২৬ ছিল। সূচক অনুযায়ী বৈশি^ক গড় ৪৩ হওয়ায় এবং দক্ষিণ এশিয়ায় শুধুমাত্র আফগানিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় সর্বনি¤œ হওয়ার প্রেক্ষাপটে বলা যায় বাংলাদেশের দুর্নীতির পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে মনে করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশের আইনী, প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতি কাঠামো তুলনামূলকভাবে সুদৃঢ়তর হয়েছে এই ধারণা থেকে সূচকে বাংলাদেশের স্কোর এক বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু প্রয়োগের ঘাটতির কারণে আমরা আরো ভালো করতে পারি নি।” 

তিনি আরে বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোরালো রাজনৈতিক ভূমিকা গ্রহণের পাশাপাশি আইনের শাসন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতকল্পে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যে কোন ধরনের প্রভাবমুক্ত থেকে স্বাধীন ও কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। একইসাথে জবাবদিহিতার জন্য শক্তিশালী দাবি উত্থাপনে গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি সংস্থাসহ আপামর জনগণের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।” 

সংবাদ সম্মেলনে বৈশ্বিক দুর্নীতি পরিস্থিতির তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, ২০১৬ সালের সিপিআই অনুযায়ী বৈশি^ক দুর্নীতি পরিস্থিতি আশংকাজনক। সূচকে অন্তর্ভুক্ত ১৭৬টি দেশের মধ্যে ৬৯ শতাংশ দেশই ৫০ এর কম স্কোর পেয়েছে। সিপিআই অনুযায়ী ২০১৬ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দুর্নীতির কারণে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ভুটান। এবছর দেশটির স্কোর ৬৫ এবং ঊর্ধ্বক্রম অনুযায়ী অবস্থান ২৭। এরপর ৪০ স্কোর নিয়ে ৭৯তম অবস্থানে রয়েছে ভারত। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এরপরে ৩৬ স্কোর পেয়ে ৯৫তম অবস্থানে যৌথভাবে রয়েছে মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা। এরপর ৩২ স্কোর পেয়ে ১১৬তম অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান। আর ২৯ স্কোর পেয়ে ১৩১তম অবস্থানে রয়েছে নেপাল। এরপর রয়েছে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের পরে ১৫ স্কোর পেয়ে সূচকে নি¤œক্রম অনুযায়ী ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান। অর্থাৎ বাংলাদেশ নি¤œক্রম অনুসারে দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় সর্বনি¤œ অবস্থানে রয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, টানা চার বছর পর (২০১২ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত) সূচকে অন্তর্ভুক্ত না হলেও ২০১৬ সালে মালদ্বীপ আবার অন্তর্ভুক্ত হয়।

উল্লেখ্য, নির্ণয়ন পদ্ধতির ক্রমবর্ধমান উৎকর্ষতা ও সূচকের সহজীকরণের জন্য টিআই ২০১২ সাল থেকে নতুন স্কেল ব্যবহার শুরু করে। ১৯৯৫ সাল থেকে ব্যবহৃত ০-১০ এর স্কেলের পরিবর্তে দুর্নীতির ধারণার মাত্রাকে ২০১২ সাল থেকে ০-১০০ এর স্কেলে নির্ধারণ করা হয়। এই পদ্ধতি অনুসারে স্কেলের ‘০’ স্কোরকে দুর্নীতির কারণে সর্বোচ্চ ক্ষতিগ্রস্ত এবং এবং ‘১০০’ স্কোরকে দুর্নীতির কারণে সবচেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত বা সর্বাধিক সুশাসিত বলে ধারণা করা হয়। যে দেশগুলো সূচকে অন্তর্ভুক্ত নয় তাদের সম্পর্কে এ সূচকে কোনো মন্তব্য করা হয় না। সূচকে অন্তর্ভুক্ত কোনো দেশই এখন পর্যন্ত সিপিআই-এ শতভাগ স্কোর পায়নি। অর্থাৎ, দুর্নীতির ব্যাপকতা সর্বনি¤œ এমন দেশগুলোতেও কম মাত্রায় হলেও দুর্নীতি বিরাজ করে।

 সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয় যে, সিপিআই সম্পর্কে যথাযথ ধারণার অভাবে অনেক সময় ‘বাংলাদেশ দুর্নীতিগ্রস্ত বা বাংলাদেশের অধিবাসীরা সবাই দুর্নীতি করে’ এ ধরনের ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। যদিও দুর্নীতি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য দূরীকরণ- সর্বোপরি, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে কঠিনতম অন্তরায়, তথাপি বাস্তবে দেশের আপামর জনগণ দুর্নীতিগ্রস্ত নয়। তারা দুর্নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভুক্তভোগী মাত্র। ক্ষমতাবানদের দুর্নীতি এবং তা প্রতিরোধে দেশের নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যর্থতার কারণে দেশ বা জনগণকে কোনোভাবেই দুর্নীতিগ্রস্ত বলা যাবে না। 

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয় যে, সিপিআই নির্ণয়ে টিআইবি কোনো ভূমিকা পালন করে না। এমনকি টিআইবি’র গবেষণা থেকে প্রাপ্ত কোনো তথ্য বা বিশ্লেষণ সিপিআই-এ প্রেরণ করা হয় না। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের টিআই চ্যাপ্টারের মতই টিআইবিও দুর্নীতির ধারণা সূচক দেশীয় পর্যায়ে প্রকাশ করে মাত্র। 

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম. হাফিজউদ্দীন খান ও জনাব আলী ইমাম মজুমদার। আরো উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র উপ-নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের। 

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, “এবারের স্কোর আমাদের এতটুকু স্বস্তি দিচ্ছে যে আমরা আগের চেয়ে আরো নিচে নেমে যাই নি। আমাদের অবস্থান কিছুটা ভালো হয়েছে। কিন্তু এতে আমাদের দুর্নীতিবিরোধী যে সংগ্রাম বা অবস্থান তাকে লঘু করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ এখনো আমরা খুশী হওয়ার মত অবস্থানে যেতে পারি নি। এজন্য দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে হবে।”

২০১৬ সালের সিপিআই-এ জানুয়ারি ২০১৫ থেকে সেপ্টেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য ব্যবহৃত হয়েছে। সূচকের তথ্য সংগ্রহে মূলত চারটি ধাপ অনুসৃত হয়। যেমন: উপাত্তের উৎস নির্বাচন, পুনঃপরিমাপ, পুনঃপরিমাপকৃত উপাত্তের সমন্বয় এবং পরিমাপের যথার্থতা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক ভিত্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ। জরিপগুলোতে মূলত ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, সংশ্লিষ্ট খাতের গবেষক ও বিশ্লেষকবৃন্দের ধারণার প্রতিফলন ঘটে থাকে। 

উল্লেখ্য যে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এর বার্লিনস্থ সচিবালয়ের গবেষণা বিভাগ কর্তৃক সিপিআই প্রণীত হয়ে থাকে। কলম্বিয়া বিশ^বিদ্যালয়ের স্ট্যাটিসটিকস ও পলিটিক্যাল সায়েন্স বিভাগ এবং লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স এর গভর্নমেন্ট বিভাগের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সিপিআই এর তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি বা মেথোডলজি প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া সিপিআই এর স্কোর জার্মান স্কুল অব ইকোনমিক রিসার্চ কর্তৃক যাচাই করা হয়েছে।

সিপিআই ২০১৬ এর জন্য বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তথ্যসূত্র হিসেবে ৭টি জরিপ ব্যবহৃত হয়েছে। জরিপগুলো হলো: বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল অ্যাসেসমেন্ট, ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম এক্সিউকিউটিভ ওপিনিয়ন সার্ভে, গ্লোবাল ইনসাইট কান্ট্রি রিস্ক রেটিংস্, বার্টেলসম্যান ফাউন্ডেশন ট্রান্সফরমেশন ইনডেক্স, ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট রুল অব ল ইনডেক্স, পলিটিক্যাল রিস্ক সার্ভিসেস ইন্টারন্যাশনাল কান্ট্রি রিস্ক গাইড এবং ইকোনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কান্ট্রি রিস্ক রেটিংস এর রিপোর্ট।

 

বার্তা প্রেরক 

রিজওয়ান-উল-আলম

পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন)

ফোন০১৭১৩ ০৬৫০১২ 

-মেইল This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.