• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

জলবায়ু অর্থায়নে উন্নত দেশের প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি টিআইবি’র: জিসিএফসহ অভিযোজন তহবিলে বাংলাদেশের অভিগম্যতা এবং তা ব্যবহারে অংশীজনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান

ঢাকা, ২৩ নভেম্বর ২০১৬মরক্কোর মারাকেশে অনুষ্ঠিত কপ ২২ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার দিকগুলো তুলে ধরে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে ঋণের পরিবর্তে উন্নত বিশ্বের প্রতিশ্রুত অনুদানের অধিকার আদায়ে বাংলাদেশ সরকারকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে জোরালো ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে তিনি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন তহবিল থেকে অর্থ প্রাপ্তিতে বাংলাদেশের বিবিধ সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জের পটভূমি তুলে ধরে দেশীয় অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত ট্রাস্ট তহবিলে উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিশ্রুত অর্থের যোগান দেওয়ার দাবি জানান।
আজ টিআইবি’র ধানমণ্ডিস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতি বছর জাতীয় বাজেট থেকে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট তহবিল (বিসিসিটিএফ) এ অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ ক্রমেই কমছে এবং ২০১২ সালের পর শিল্পোন্নত দেশসমূহ বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন রেজিলিয়েন্স তহবিল (বিসিসিআরএফ) এ নতুন কোনো অর্থায়ন না করায় অভিযোজন কার্যক্রম পরিচালনায় বাংলাদেশকে বেগ পেতে হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য গার্ডিয়ানে বিসিসিআরএফ এর জন্য বৃটিশ সরকারের (ডিএফআইডি) প্রদত্ত তহবিল ফিরিয়ে নেয়ার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে . জামান বলেন, উক্ত তহবিল প্রত্যাহার করা হলে প্রকৃতপক্ষে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ঝুঁকি আরো বাড়বে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের জন্য প্রকল্প অনুমোদনের ১ বছর পার হলেও সবুজ জলবায়ু তহবিল (জিসিএফ) হতে অর্থ ছাড়ে কোন অগ্রগতি হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র উপ-নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের। সংবাদ সম্মেলনে কপ ২২ সম্মেলন পরবর্তী পর্যায়ে জলবায়ু অর্থায়ন বিষয়ে টিআইবি’র অবস্থান তুলে ধরেন টিআইবি’র জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন বিভাগের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার এম. জাকির হোসেন খান।
এডিবি, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অর্থ লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান জলবায়ু তহবিলকে লাভজনক ব্যবসার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে চাচ্ছে বলে অভিযোগ করে ড. জামান বলেন, “সম্ভাব্য সর্বনিম্ন সুদ ও সর্বোচ্চ রেয়াতি সুবিধার মাধ্যমে এ ধরণের ঋণ প্রদান করা হলেও ঋণ ও সুদ বাবদ অতিরিক্ত বোঝা জলবায়ু অভিঘাতের শিকার মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন বা যুক্তি কোনটাই নেই।” জিসিএফ এর ন্যায় উৎস থেকে অনুদান প্রাপ্তিতে বাংলাদেশের অভিগম্যতাকে সহজতর করার ক্ষেত্রে তিনি এডিবি বা বিশ্ব ব্যাংকের মত প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সম্ভাব্য সামর্থ্য এবং দক্ষতার সদ্ব্যবহারের আহ্বান জানান।
কপ ২২ মারাকেশ সম্মেলন ঘোষণার আলোকে ২০১৮ সালের মধ্যে জলবায়ু অর্থায়ন সংক্রান্ত কৌশল প্রণয়নের ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে (বৈশ্বিক) অংশীজনের বিবেচনার জন্য টিআইবি’র পক্ষ থেকে কিছু প্রস্তাব উত্থাপন করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিবেচনার জন্য উত্থাপিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: শিল্পোন্নত দেশগুলোর প্রস্তাবিত ‘১০০ বিলিয়ন ডলার রুপরেখা’য় অভিযোজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যাপ্ত জলবায়ু তহবিল বরাদ্দ নিশ্চিতের পদ্ধতি নির্ধারণ করা; ‘দূষণকারী কর্তৃক ক্ষতিপূরণ প্রদান’ নীতি বিবেচনা করে ঋণ নয়, শুধু সরকারি অনুদান, যা উন্নয়ন সহায়তার ‘অতিরিক্ত’ এবং ‘নতুন’ প্রতিশ্রুতি কে স্বীকৃতি দিয়ে জলবায়ু অর্থায়নের সংজ্ঞায়ন ও তদনুযায়ী বরাদ্দ নিশ্চিত করা; শিল্পোন্নত দেশ কর্তৃক গৃহিতব্য জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা সংক্রান্ত কার্যক্রমে বিশেষকরে জলবায়ু অর্থায়নে স্বপ্রণোদিত তথ্যের উন্মুক্ততা, জবাবদিহিতা, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং শুদ্ধাচার চর্চার বিষয়টি যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা। এছাড়াও জলবায়ু-তাড়িত বাস্তুচ্যূতদের পুনর্বাসন, কল্যাণ এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিতে জিসিএফ এবং অভিযোজন তহবিল থেকে বিশেষ তহবিল বরাদ্দ নিশ্চিত করা; দারিদ্র্য হ্রাসে উন্নয়ন তহবিলের বরাদ্দ অব্যাহত রাখা
এবং পানি সম্পদ খাত সংশ্লিষ্ট সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এ খাতে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং কারিগরী সহায়তা নিশ্চিতে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত ‘বৈশ্বিক তহবিল’ গঠন করা; এবং জিসিএফ সচিবালয় হতে বাংলাদেশসহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জলবায়ু অর্থায়নে অভিগম্যতা নিশ্চিতে সক্ষমতা অর্জনে সুস্পষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার সুপারিশ করা হয়।
জাতীয় পর্যায়ে সরকার এবং অংশীজনের বিবেচনার জন্য টিআইবি’র প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে প্যারিসচুক্তি বাস্তবায়নের ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় পর্যায়ে ধারাবাহিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা; বিসিসিটিএফ এ বাৎসরিক বরাদ্দ বৃদ্ধি করা এবং অব্যাহত রাখাবিসিসিআরএফ বন্ধ হবার প্রেক্ষিতে উন্নয়ন সহযোগী দেশসমূহের প্রতিশ্রুত তহবিল বরাদ্দ ফিরিয়ে নেওয়া থেকে বিরত হয়ে সরাসরি বিসিসিটিএফ-এ অব্যাহত রাখা; জলবায়ু অর্থায়নে বিশ্বব্যাংক ও এডিবিসহ আন্তর্জাতিক অর্থ-লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের চাপ বা কৌশল অবজ্ঞা করে বাংলাদেশের ন্যায্য প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ বাবদ অনুদান সংগ্রহে সরকারকে আরো সক্রিয় হওয়া। এছাড়াও জিসিএফ হতে সরাসরি তহবিল সংগ্রহে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে জিসিএফ সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য নির্দিষ্ট বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা এবং সম্ভাব্য এনআইই এর দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনে বিসিসিটিএফ থেকে প্রাপ্ত সহায়তার সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানায় টিআইবি। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ও জাতীয়ভাবে অর্থবরাদ্দসহ কারিগরী সহায়তার কার্যক্রম বান্তবায়ন করা; জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা সংক্রান্ত সকল কার্যক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী বিশেষ করে নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং আদিবাসীদের ব্যাপক ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয়। একই সাথে জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিতে জলবায়ু তহবিল এর আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়নে সকল প্রকার আর্থিক লেনদেনের প্রতিবেদন স্বপ্রণোদিতভাবে প্রকাশের দাবি জানায় টিআইবি।
Media Contact