• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ, দুর্জয় তারুণ্য - দুর্নীতির বিরুদ্ধে একসাথে, তিন দিনব্যাপী ‘টিআইবি-কেডিএস আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক উৎসবের উদ্বোধন

খুলনা, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬:জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ; দুর্জয় তারুণ্য-দুর্নীতির বিরুদ্ধে একসাথে’ এই প্রতিপাদ্যে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আজ শুরু হল তিন দিনব্যাপী টিআইবি-কেডিএস আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক উৎসব ২০১৬। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর বির্তক সংগঠন কুয়েট ডিবেটিং সোসাইটি (কেডিএস) এর যৌথ উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। 
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে বিতর্ক উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা ঘোষণা করেন টিআইবি’র অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) খুলনা’র সহ-সভাপতি ও সাংবাদিক জনাব এ কে হিরু। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কেডিএস’র সঞ্চালক তন্ময় চক্রবর্তী ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর ছাত্র কল্যাণ বিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. সোবহান মিয়া। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। 
. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তরুণদেরকে উজ্জীবিত করতে পারলে একটি সুন্দর, উন্নত ও সম্মৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব। আমরা চাই যুক্তি ও তর্কের মাধ্যমে তরুণরা তাদের মেধার বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হবে এবং বাংলাদেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’’ 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, “বিতর্ক চর্চার মাধ্যমে তরুণদের মেধাকে শাণিত করে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে এগিয়ে আসতে হবে।” দুর্নীতিবিরোধী শপথ পাঠের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। উল্লেখ্য, আগামী ১ অক্টোবর ২০১৬ বিতর্ক উৎসবের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
এর আগে আজ সকালে টিআইবি’র অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) খুলনা’র আয়োজনে একই প্রতিবাদ্যে জলবায়ু অর্থায়নে উন্নত দেশের প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং জাতীয় পর্যায়ে এ তহবিল ব্যবহারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টায় খুলনা শহরের শহীদ হাদিস পার্কের সম্মুখ সড়কে এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) খুলনা’র সদস্যবৃন্দ, টিআইবি’র অনুপ্রেরণায় গঠিত ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) গ্রুপের সদস্য, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, বিতার্কিক, টিআইবি কর্মী, বিভিন্ন সমমনা সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ। অন্যান্যদের মধ্যে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে আসন্ন কপ-২২ সম্মেলনে প্যারিস চুক্তির আওতায় জলবায়ু অভিযোজনের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল এবং তহবিল বরাদ্দ ও ব্যবহারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণে টিআইবি ও সনাক খুলনা ১০ দফা সুপারিশ প্রস্তাব করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে দারিদ্র বিমোচনে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন তহবিলের বরাদ্দ অব্যাহত রাখা এবং প্রতিশ্রুত জলবায়ু তহবিল প্রদানের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার প্রদান ও তা বাস্তবায়নে দিকনির্দেশনা দ্রুত তৈরি ও অনুশীলন করা; প্যারিস চুক্তির আওতায় ‘দুষণকারী কর্তৃক ক্ষতিপূরণ’ নীতি মেনে কোনো অবস্থাতেই ঋণ নয়, উন্নয়ন সহায়তার “অতিরিক্ত” ও “নতুন” হিসাবে বরাদ্দ ও ব্যবহার নিশ্চিত করা; সবুজ জলবায়ু তহবিল (জিসিএফ) হতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহকে তহবিল প্রদানে অভিযোজনকে অগ্রাধিকার প্রদান; বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (বিসিসিটিএফ) এবং বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন রেজিলিয়েন্স ফান্ড (বিসিসিআরএফ) পরিচালনায় প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ অব্যাহত রাখা; এলাকা-ভিত্তিক জলবায়ু পরিবর্তনের বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রভাব যাচাই এর মাধ্যমে দীর্ঘ এবং স্বল্প মেয়াদী চাহিদা ভিত্তিক যথার্থ অর্থায়নের রুপরেখা (রোডম্যাপ) প্রণয়ন করা; এবং জলবায়ু তহবিলের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতে জলবায়ু তহবিল এর আওতায় যে কার্যক্রম চলছে তার সকল প্রকার আর্থিক লেনদেনের প্রতিবেদন স্বতঃপ্রণোদিতভাবে প্রকাশ করা ইত্যাদি।
Media Contact