• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

মোসাক ফনসেকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশীদের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ায় অপরাধ প্রমাণ সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান টিআইবি’র

ঢাকা, ১০ মে ২০১৬: গতকাল ৯ মে ইন্টারন্যাশনাল কনসোরটিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট (আইসিআইজি) কর্তৃক প্রকাশিত ‘পানামা পেপার্স’ নামক ডাটাবেইজে সম্ভাব্য কর ফাঁকি ও অর্থ পাচারের সাথে বাংলাদেশী নাগরিকদের সম্পৃক্ততায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এ ঘটনাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ‘প্রকট দুর্নীতি-সহায়ক পরিস্থিতির দৃষ্টান্ত’ উল্লেখ করে এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত এবং আইনী প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক অপরাধ প্রমাণ সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে টিআইবি।

আজ এক বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “প্রকাশিত তালিকায় যে বাংলাদেশীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনো না পাওয়া গেলেও সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ থেকে উদ্বেগজনক হারে টাকা পাচারের প্রবণতার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমে পাচারকৃত টাকা ফিরিয়ে আনা এবং এ ব্যাপারে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

ড. জামান বলেন, “দেশের বাইরে নামে-বেনামে কোম্পানী প্রতিষ্ঠা বা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অর্থ পাচারের মূল লক্ষ্য কর ফাঁকি; অর্থাৎ এর মূল্য চূড়ান্ত বিবেচনায় জনগণকেই দিতে হয়। সরকারের অন্যতম দায়িত্ব এরূপ কর ফাঁকি ও অর্থ পাচার বন্ধ করা। টিআইবি মনে করে, যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে তা কেবল আংশিক মাত্র। কারণ মোসাক ফনসেকার মতো আরো অনেক তথাকথিত আইন সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান অর্থ পাচার প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত রয়েছে। তাছাড়া এ দুষ্ট চক্রের সাথে জড়িত রয়েছে বিশ্বের নামী-দামী ব্যাংক ও অ্যাকাউন্টিং কোম্পানীসহ অসংখ্য মধ্যস্থতাকারী। অতএব একদিকে দেশীয় আইনী কাঠামো জোরদার ও কার্যকর করার মাধ্যমে অর্থ পাচার প্রতিরোধে সুদৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ ও অন্যদিকে জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনসহ আন্তর্জাতিক আইনী ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার মাধ্যমে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।”

তিনি আরো বলেন, “প্রকাশিত তথ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সম্পৃক্ততা আরো একবার প্রমাণ করল যে, দুর্নীতি একটি বৈশ্বিক সমস্যা যা থেকে কোনো দেশই মুক্ত নয়। অন্যদিকে কর ফাঁকি ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ পাচারের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা আন্তর্জাতিক অর্থ ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের গভীরভাবে উদ্বেগজনক ঘাটতির পরিচায়ক। বিশেষ করে, যে সকল তথাকথিত উন্নত দেশে অর্থপাচারের মাধ্যমে সহজেই কর ফাঁকি, লগ্নি ও বিনিয়োগের সহায়ক আইনী ও প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো বজায় রাখা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী দুর্নীতির প্রসারের জন্য তাদের দায় সবচেয়ে বেশী। তাই দুর্নীতি ও কর ফাঁকির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ পাচার ও তথাকথিত নিরাপদ স্বর্গে (Safe heaven) বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় কঠোরতর আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা অত্যন্ত জরুরি।”

এক্ষেত্রে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক আইনী ও কারিগরী সহযোগিতার সুযোগ গ্রহণ করতে পারে বলে টিআইবি মনে করে। অর্থ পাচার রোধ করা, পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনা ও সংশ্লিষ্টদের বিচারের মুখোমুখি করা জটিল হতে পারে, তবে তা মোটেও অসম্ভব নয়, প্রয়োজন সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের সদিচ্ছা ও সক্রিয় উদ্যোগ।

Media Contact