• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

CPI 2015 press release (Bangla)

দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০১৫ এ বাংলাদেশের স্কোর অপরিবর্তিত: অবস্থানের একধাপ অবনতি
দুর্নীতি প্রতিরোধে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের কার্যকর বাস্তবায়নের দাবি টিআইবি’র
ঢাকা, জানুয়ারি ২৭, ২০১৬: বার্লিনভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) কর্তৃক প্রকাশিত দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০১৫ অনুযায়ী ২০১৪ সালের তুলনায় বাংলাদেশের স্কোর অপরিবর্তিত থাকলেও অবস্থানের এক ধাপ অবনতি হয়েছে। এছাড়া, বৈশ্বিক গড় স্কোরের তুলনায় বাংলাদেশের ২০১৫ সালের স্কোর অনেক কম এবং গতবারের মত একই স্কোর নিয়ে এবারও দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় সর্বনিম্ন হওয়ায় দেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা ও গভীরতা এখনও উদ্বেগজনক। এই প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি দমনে রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আরো কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ জবাবদিহিমূলক অপরাপর প্রতিষ্ঠানসমূহের স্বাধীনতা কার্যকরতা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।
আজ সিপিআই ২০১৫ এর বৈশ্বিক প্রকাশ উপলক্ষে ধানমণ্ডিস্থ টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের এই অবস্থান প্রকাশ করে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, এ বছর বাংলাদেশ ০-১০০ স্কেলে ২৫ স্কোর পেয়ে ১৬৮টি দেশের মধ্যে ঊর্ধ্বক্রম অনুসারে ১৩৯তম এবং নিম্নক্রম অনুসারে ১৩তম অবস্থানে রয়েছে। ২০১৫ সালের স্কোর ২০১৪ সালের মতই অপরিবর্তিত থাকলেও অবস্থানের নিম্নক্রম অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০১৫ সালে এক ধাপ নিচে নেমেছে। তবে উচ্চক্রম অনুযায়ী ২০১৪ সালের তুলনায় বাংলাদেশ ২০১৫ সালে ছয় ধাপ এগিয়েছে।
সিপিআই অনুযায়ী ৯১ স্কোর পেয়ে ২০১৫ সালে দুর্নীতির কারণে সবচেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে ডেনমার্ক। ৯০ স্কোর পেয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফিনল্যান্ড এবং ৮৯ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন। আর সর্বনিম্ন ৮ স্কোর পেয়ে ২০১৫ সালে তালিকার সর্বনিম্নে যৌথভাবে অবস্থান করছে উত্তর কোরিয়া ও সোমালিয়া। ১১ ও ১২ স্কোর পেয়ে তালিকার সর্বনিম্নের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দেশ হিসেবে রয়েছে যথাক্রমে আফগানিস্তান ও সুদান।
. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “উচ্চক্রম অনুযায়ী ২০১৫ সালে বাংলাদেশের ছয় ধাপ অগ্রগতি কিছুটা সন্তোষজনক মনে হতে পারে, যদিও বাস্তবে তা হয়েছে এজন্য যে, যে সাতটি দেশ এবার জরিপের আওতাভুক্ত হয়নি তারা সবসময় বাংলাদেশের তুলনায় বেশি স্কোর পেয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ সমূহের মধ্যে এবারও বাংলাদেশের অবস্থান আফগানিস্তানের পর দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। নিম্নক্রম অনুযায়ী বাংলাদেশ এবার ২০১৪ সালের ১৪তম অবস্থানের একধাপ নিচে ১৩তম, যা ২০১৩ সালের তুলনায় ৩ ধাপ নিচে ও ২ পয়েন্ট কম। অর্থাৎ সার্বিক বিবেচনায় এবারও আমাদের অগ্রগতি হলো না।”
তিনি বলেন, “যেসব কারণে আমাদের অগ্রগতি হচ্ছে না, তার মধ্যে রয়েছে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কিছু কিছু দুর্নীতি বিরোধী উদ্যোগ স্বত্ত্বেও প্রয়োগ ও চর্চার ঘাটতির ফলে প্রকটতর হয়েছে কার্যকরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টান্তের সংকট। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান দুদকের কার্যকরতা ও স্বাধীনতা খর্ব করার অপপ্রয়াস যেমন অব্যাহত রয়েছে তেমনি দুদকের নিজস্ব সক্রিয়তা, দৃঢ়তা ও নিরপেক্ষতার ঘাটতি রয়েছে চলমান। এছাড়াও সরকারের নীতি কাঠামো দুর্নীতি সহায়ক, দুর্নীতিতে লাভবান ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয়দানকারী মহলের করাভূত হওয়ার ঝুঁকির সম্মুখিন হয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে বৈশ্বিক দুর্নীতি পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতির তথ্য তুলে ধরে জানানো হয় যে, ২০১৫ সালের দুর্নীতির ধারণা সূচকে বৈশ্বিকভাবেই অবস্থার অবনতি হয়েছে। সূচকে কোন দেশই শতভাগ স্কোর পায় নি। বিশ্বের সর্বোচ্চ উন্নত দেশসমূহের অনেকেই, যেমন অস্ট্রেলিয়া, আইসল্যান্ড, বেলজিয়াম, জাপান, অষ্ট্রিয়া, আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালী ইত্যাদি ৮০ শতাংশের কম স্কোর পেয়েছে। ১৬৮টি দেশের মধ্যে ১১৪টি, অর্থাৎ ৬৮ ভাগ দেশ ৫০ এর কম স্কোর পেয়েছে। ১০৩টি দেশ সূচকের গড় স্কোর ৪৩ এর চেয়ে কম পেয়েছে। এছাড়াও ২০১৪ সালে যেখানে ৯২টি দেশের স্কোর বেড়েছিল, ২০১৫ সালে সেখানে ৬৫টি দেশের স্কোর বেড়েছে। অন্যদিকে ২০১৪ সালে ৩৬টির তুলনায় ২০১৫ সালে ৪৯টি দেশের স্কোরে অবনতি হয়েছে। উদাহরনস্বরূপ, ডেনমার্ক গতবার ৯২ স্কোর নিয়ে দুর্নীতির কারণে সবচেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকার শীর্ষে থাকলেও এবার তাদের স্কোর ৯১। এছাড়া নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, লুক্সেমবার্গ ও সিঙ্গাপুরের মত দেশের স্কোরেও অবনতি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, সিপিআই সম্পর্কে যথাযথ ধারণার অভাবে বাংলাদেশ বা তার অধিবাসীদের দুর্নীতিগ্রস্ত মনে করা হয়। বাস্তবে দেশের আপামর জনগণ দুর্নীতিগ্রস্ত নয়। তারা দুর্নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভুক্তভোগী মাত্র। ক্ষমতাবানদের দুর্নীতি এবং তা প্রতিরোধে দেশের নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যর্থতার কারণে দেশ বা জনগণকে কোনোভাবেই দুর্নীতিগ্রস্ত বলা যাবে না বলে সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিমত প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয় যে, সিপিআই নির্ণয়ে টিআইবি কোনো ভূমিকা পালন করে না। এমনকি টিআইবি’র গবেষণা থেকে প্রাপ্ত কোনো তথ্য বা বিশ্লেষণ সিপিআই-এ প্রেরণ করা হয় না। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের টিআই চ্যাপ্টারের মতই টিআইবি’ও দুর্নীতির ধারণা সূচক দেশীয় পর্যায়ে প্রকাশ করে মাত্র। উল্লেখ্য, এবছর বাংলাদেশের সাথে একই স্কোর প্রাপ্ত অন্য পাঁচটি দেশ হল: গিনি, লাওস, কেনিয়া, পাপুয়া নিউ গিনি ও উগান্ডা।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। আরো উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র ট্রাস্টি এম. হাফিজউদ্দিন খান ও উপ-নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের।
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, “সিপিআই র‌্যাংকিংয়ে আমাদের স্কোর গতবারের চেয়ে কমে না যাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পেলেও আমাদের কিন্তু বসে থাকলে চলবে না। কারণ আমরা এখনও গড় যে স্কোর তার কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারি নি। তাছাড়া সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়ন হলেও উন্নয়নের সাথে আমাদের দেখতে হবে যে দুর্নীতি কমছে কিনা, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ঠিক আছে কিনা। গণতন্ত্রের বিনিময়ে উন্নয়ন কতটা গ্রহণযোগ্য সেটা নিয়েও ভাবার অবকাশ রয়েছে।”
এছাড়া টিআইবি’র ট্রাস্টি এম. হাফিজউদ্দিন খান বলেন, “যদি সংসদীয় কমিটিগুলো কার্যকর হয়, প্রশাসনযন্ত্র সংসদের জবাবদিহিতার মধ্যে থাকে, বিরোধী দল কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে তাহলে আমাদের অবস্থার আরো উন্নতি হতে পারে।”
সিপিআই সূচকে স্কেলের ‘০’ স্কোরকে দুর্নীতির ব্যাপকতার ধারণায় সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত এবং ‘১০০’ স্কোরকে দুর্নীতির ব্যাপকতার ধারণার মাপকাঠিতে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত বা সর্বোচ্চ সুশাসন প্রতিষ্ঠিত দেশ বলে ধারণা করা হয়। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের সিপিআই-এ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ থেকে আগস্ট ২০১৫ পর্যন্ত সময়ের তথ্য সংগৃহীত হয়েছে।
সিপিআই ২০১৫ এর জন্য বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সূত্র হিসেবে সাতটি জরিপ ব্যবহৃত হয়েছে। জরিপগুলো হলো: বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল অ্যাসেসমেন্ট ২০১৪, ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম এক্সিউকিউটিভ ওপিনিয়ন সার্ভে ২০১৫, বার্টেলসম্যান ফাউন্ডেশন ট্রান্সফরমেশন ইনডেক্স ২০১৬, ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট ‘রুল অব ল’ ইনডেক্স ২০১৫, পলিটিক্যাল রিস্ক সার্ভিসেস ইন্টারন্যাশনাল কান্ট্রি রিস্ক গাইড ২০১৫, ইকোনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কান্ট্রি রিস্ক রেটিংস্‌ ২০১৫ এবং গ্লোবাল ইনসাইট কান্ট্রি রিস্ক রেটিংস্‌ ২০১৪ এর রিপোর্ট। 

Media Contact