• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

TIB releases Parliament Watch report on 2-6 sessions of the 10th Parliament- the expected role of the main opposition to ensure government’s accountability is missing (Bangla)

দশম সংসদের ২য় থেকে ৬ষ্ঠ অধিবেশন সম্পর্কে টিআইবি’র পার্লামেন্টওয়াচ প্রতিবেদন প্রকাশ
সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে প্রধান বিরোধী দলের প্রত্যাশিত ভূমিকা অনুপস্থিত
ঢাকা, ২৫ অক্টোবর ২০১৫: দশম সংসদের ২য়-৬ষ্ঠ অধিবেশনের গড় বৈঠককাল, আইন পাসের ক্ষেত্রে বিল প্রতি ব্যয়িত গড় সময়, প্রতি কার্যদিবসে সদস্যদের গড় উপস্থিতির হার বৃদ্ধি এবং কোরাম সংকট তুলনামূলকভাবে হ্রাস পেলেও কথিত “প্রধান বিরোধী দল” কর্তৃক সরকারের কার্যক্রমের বিরোধিতার পরিবর্তে স্তুতি এবং সরকারি দলের সিদ্ধান্তের স্বপক্ষে নজিরবিহীন লেজুড়বৃত্তির কারণে সংসদের প্রত্যাশিত কার্যকরতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। আজ দশম জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ অধিবেশনের কার্যক্রম ওপর টিআইবি’র পর্যাবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ ভিত্তিক গবেষণা প্রতিবেদন ‘পার্লামেন্টওয়াচ’ প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল তুলে ধরে সংসদকে কার্যকর করতে ১২ দফা সুপারিশ উত্থাপন করা হয়। সংস্থার ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রতিবেদনের সারাংশ উপস্থাপন করেন টিআইবি’র গবেষণা ও পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি, ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ফাতেমা আফরোজ এবং মোরশেদা আক্তার। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান।
গবেষণা প্রতিবেদনটিতে জুন ২০১৪ - আগস্ট ২০১৫ পর্যন্ত (দশম সংসদের দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ অধিবেশন) পরিমাণবাচক এবং গুণবাচক তথ্য সংগৃহীত হয়। প্রত্যক্ষ তথ্যের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে সংসদ টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি প্রচারিত সংসদ কার্যক্রম এবং টিআইবি’র গবেষণা দলের সদস্য কর্তৃক অধিবেশন সরাসরি পর্যবেক্ষণ। এছাড়া পরোক্ষ তথ্যের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয় সংসদ কর্তৃক প্রকাশিত বুলেটিন ও কমিটি প্রতিবেদন, সরকারি গেজেট, প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন, বই ও প্রবন্ধ ও সংবাদপত্রের তথ্য ইত্যাদি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দশম সংসদের দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ অধিবেশনে সংসদ নেতার উপস্থিতি ছিল মোট কার্যদিবসের ৮৩% এবং বিরোধী দলীয় নেতার উপস্থিতি ছিল ৫৭%। দশম সংসদে অধিবেশনের গড় বৈঠককাল, আইন পাসের ক্ষেত্রে বিল প্রতি ব্যয়িত গড় সময় ও প্রতি কার্যদিবসে সদস্যদের গড় উপস্থিতির হার তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি এবং কার্যদিবসের গড় কোরাম সংকট তুলনামূলকভাবে হ্রাস পাওয়ার মতো কতিপয় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেলেও সংসদের প্রত্যাশিত কার্যকরতা অনেক ক্ষেত্রেই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর থেকে কথিত “প্রধান বিরোধী দল” কর্তৃক সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে প্রত্যাশিত জোরালো ভূমিকার ঘাটতি এবং অসংসদীয় আচরণ ও ভাষার ব্যবহার বন্ধে স্পিকারের শক্তিশালী ভূমিকার অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা য়ায়। সরকারের কার্যক্রমের প্রশংসা, বিভিন্ন কাজের পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান ও অনুরোধ ব্যতীত জোরালো সমালোচনা করে প্রধান বিরোধী দলকে প্রত্যাশিত অবস্থান নিতে দেখা যায়নি। এছাড়া সংসদের বাইরের রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে সরকার ও প্রধান বিরোধী দলকে সম্মিলিত সুরে আক্রমনাত্মক সমালোচনায় লিপ্ত হতে দেখা যায়। উল্লেখ্য, স্বতন্ত্র সদস্যদের মধ্যে ৬৩% সরকারি জোটের প্রধান দলের সাংগঠনিক পদে বহাল রয়েছে।
দশম সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সকল সংসদীয় (৫০টি) কমিটি গঠিত হলেও বিরোধী দলের মাত্র একজন সদস্যকে কমিটির সভাপতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে কমিটিগুলোতে সদস্যদের সার্বিক গড় উপস্থিতি ছিল ৫৬%। কমিটিতে অনেক সদস্যের কমিটি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। কমিটিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পদাধিকার বলে সদস্য হওয়ার কারণে এবং কোনো কোনো কমিটিতে পূর্বতন মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটির সভাপতি হওয়ায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। অষ্টম, নবম ও দশম সংসদের দ্বিতীয়-ষষ্ঠ অধিবেশনের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিজ দল ও সরকার দলের প্রশংসা হয়েছে ৭৫০০ বার, সংসদের বাইরের রাজনৈতিক জোটের সমালোচনা হয়েছে ৭২৬৮ বার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দশম সংসদের ২য়-৬ষ্ঠ অধিবেশনে দৈনিক গড়ে ২৬ মিনিট হিসেবে মোট কোরাম সংকট হয়েছে ৪৮ ঘন্টা ৪১ মিনিট যার অনুমিত অর্থমূল্য প্রায় ৩২ কোটি ৪২ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা। অধিবেশনে আইন প্রণয়নে মোট অধিবেশনের সময়ের মাত্র ৬% ব্যয়িত হয়েছে। বিভিন্ন বিলে সংসদ সদস্য কর্তৃক জনমত যাচাই বাছাইয়ের প্রস্তাব থাকলেও তা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। ‘সংবিধান (ষোড়শ সংশোধনী) আইন, ২০১৪’ পাসের ক্ষেত্রে প্রধান বিরোধী দল এবং অন্যান্য বিরোধী সদস্যরা জনমত যাচাই-বাছাই এর নোটিস দিলেও বিভক্তি ভোটের সময় নিজেদের নোটিসের বিপক্ষে ভোট দেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব ও জবাবদিহিতা কার্যক্রমের আওতায় কার্যপ্রণালী বিধি ৭১-ক বিধিতে মোট ৪৩৯টি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিসের ওপর আলোচনা করা হয়। ৭১ বিধিতে ৮২টি নোটিস গৃহীত হয় (৫৫টি সরকারি দলের, ১৮টি প্রধান বিরোধী দলের এবং ৯টি অন্যান্য বিরোধী সদস্যের)
গবেষণার সার্বিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষের আলোচনায় ও বক্তব্যে সংসদের বাইরের রাজনৈতিক জোট নিয়ে অপ্রাসঙ্গিক সমালোচনা ও অশালীন ভাষার প্রধান্য, অসংসদীয় আচরণ ও ভাষার ব্যবহার বন্ধে স্পিকারের শক্তিশালী ভূমিকার অনুপস্থিতি, আইন প্রণয়ন, প্রশ্নোত্তর ও জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিসের আলোচনা পর্বে সদস্যদের কম অংশগ্রহণ, কমিটি সদস্যের কমিটি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা, বিধি অনুযায়ী সভা নিয়মিত না হওয়া, তথ্যের উন্মুক্ততা ও অভিগম্যতার ঘাটতি এবং নারী সদস্যদের তুলনামূলক কম অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
সংবাদ সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন যে বর্তমান সংসদ ক্ষমতাসীন দলের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের ভুবনে পরিণত হয়েছে। আইন প্রণয়নে মোট কার্যদিবসের মাত্র ৬ শতাংশ সময় ব্যয়িত হয়েছে, যেখানে মাত্র ২৯ জন সাংসদ আইন প্রণয়ণ সংক্রান্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছেন। বর্তমান সংসদ সংসদের বাইরের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার প্রাতিষ্ঠানিক ফোরামে পরিণত হয়েছে, অন্যদিকে কথিত বিরোধী দলের লেজুড়বৃত্তির সংস্কৃতি প্রকট আকার ধারণ করেছে।
প্রতিবেদনে সংসদীয় গণতন্ত্র সুদৃঢ় করা, সংসদকে কার্যকর করা ও সর্বোপরি সংসদকে জবাবদিহিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে সদস্যদের উপস্থিতি, সংসদে সদস্যদের আচরণ ও অংশগ্রহণ, তথ্য প্রকাশ, সংসদীয় কার্যক্রমে জনগণের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, সংসদীয় কমিটি কার্যকর করাসহ মোট ১২ দফা সুপারিশ উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো- অসংসদীয় আচরণ এবং ভাষার ব্যবহার বন্ধে স্পিকারকে অধিকতর শক্তিশালী ভূমিকা পালন করা; সরকার এবং বিরোধী উভয় পক্ষকে অসংসদীয় আচরণ ও ভাষা পরিহার করা; সংসদে কথিত প্রধান বিরোধী দলকে বিতর্কিত অবস্থান পরিহার করে প্রকৃত ভূমিকা পালন করা; আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে সদস্যদের অধিকতর অংশগ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করা; প্রশ্নোত্তর ও জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিস পর্বে অধিক সময় বরাদ্দ এবং সদস্যদের অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি; অধিবেশনভিত্তিক সর্বোচ্চ উপস্থিতির জন্য স্বীকৃতি প্রদানের চর্চা পুনর্বহাল এবং সর্বনিম্ন উপস্থিত সদস্যদের নাম প্রকাশ করা; আইন প্রণয়নের বিভিন্ন পর্যায়ে জনগণের অধিকতর অংশগ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ; জনমত যাচাই-বাছাইয়ের প্রস্তাব বাতিল করার ধারাবাহিকতা থেকে বের হয়ে এসে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে জনমত যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রেরণ করা। এক্ষেত্রে সংসদের ওয়েবসাইট, সংসদ টিভি, বেসরকারি সংস্থা কিংবা সংবাদপত্রের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। এছাড়াও অপরাপর সুপারিশসমূহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল জনগণের সাথে সংসদের সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য পিটিশন কমিটিকে কার্যকর করা; আন্তর্জাতিক চুক্তিসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সকল বিষয়ে সংসদে আলোচনা করার বিধান কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া; কমিটির সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বার্থের দ্বন্দ্ব সম্পর্কিত তথ্য পুরোপুরিভাবে যাচাই করা এবং কোনো সদস্য কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির পর কমিটি-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক স্বার্থ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রমাণ সাপেক্ষে উক্ত সদস্যকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার বিধান প্রণয়ন এবং সংসদীয় কমিটির সুপারিশসহ কার্যবিবরণী জনগণ তথা সরকারি ও বেসরকারি রেডিও, টেলিভিশন এবং সংবাদপত্রসহ সকল গণমাধ্যমে সহজলভ্য করা।

Media Contact