• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

Ahead of COP-21 Paris summit; TIB places 10-point demand to ensure transparency and accountability in climate finance (Bangla)

কপ-২১ প্যারিস সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে
দশ দফা দাবি টিআইবি’র
ঢাকা, ১৫ অক্টোবর ২০১৫: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ‘সাধারণ কিন্তু স্ব-স্ব সক্ষমতা, ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্বশীলতা’ নীতির ভিত্তিতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ কমপক্ষে ২ ডিগ্রী সেলসিয়াসে সীমিত রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে প্রতিশ্রুত জলবায়ু তহবিল প্রদানে আইনী বাধ্যবাধকতা সম্বলিত আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনের দাবি উত্থাপনে বাংলাদেশকে যথাযথ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছে। ইউনাইটেড নেশনস ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (ইউএনএফসিসিসি)’র আয়োজনে আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর ২০১৫ ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন কপ-২১ (COP-Conference of the Parties) উপলক্ষে আজ টিআইবি’র ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন প্যারিস বৈঠকে ‘দুষণকারী দেশ কর্তৃক ক্ষতিপূরণ’ নীতি অবলম্বন করে ঋণের পরিবর্তে উন্নয়ন সহায়তার ‘অতিরিক্ত’ ও ‘নতুন’ অনুদানকে অন্তর্ভুক্ত করে জলবায়ু অর্থায়নের সর্বসম্মত সংজ্ঞা নির্ধারণ, শিল্পোন্নত দেশসমূহকে ২০১৬ হতে ২০৩০ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহকে প্রতিশ্রুত জলবায়ু অর্থায়নের পথনকশা (রোডম্যাপ) নির্ধারণ ও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল ব্যবস্থাপনার সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিতের ওপর জোর দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি’র অবস্থানপত্র উপস্থাপন করেন মু. জাকির হোসেন খান, সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার, জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন (সিএফজি)। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ও উপ-নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের।
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দা আর্থ’ পুরস্কার পাওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টিআইবি’র পক্ষ থেকে অভিনন্দন। এই পুরস্কার অর্জনের প্রেক্ষিতে পরিবেশ সুরক্ষায় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশসহ ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রগুলো যে ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে তা মোকাবেলা এবং বিশ্বের কোটি কোটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশকেই নেতৃত্ব দিতে হবে। তাই প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য কপ-২১ এ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দক্ষতার সাথে উন্নত রাষ্ট্রগুলোর সামনে এ সংক্রান্ত দাবি বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরতে হবে।”
২০১৪ সালে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউনেপ) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী অভিযোজনের জন্য ২০২৫ সাল নাগাদ প্রতি বছরে কমপক্ষে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন। বাস্তবে, শিল্পোন্নত দেশগুলো ২০১০ সাল হতে ২০১৫ এর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুত জলবায়ু তহবিলের বিপরীতে এ পর্যন্ত সর্বমোট মাত্র ২.৬ বিলিয়ন ডলার (.%) ছাড় করেছে। আসন্ন কপ-২১ সম্মেলনে ব্যাপকভিত্তিক কার্বন হ্রাসের চুক্তি সম্পাদিত না হলে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য শিল্পোন্নত দেশ কর্তৃক প্রতিশ্রুত প্রয়োজনীয় জলবায়ু তহবিলের ঘাটতির পরিমাণ আরো বেড়ে যাবে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের মত ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অভিযোজন কার্যক্রম পরিচালনা করা অনেকাংশেই অসম্ভব হবে বলে অবস্থানপত্রে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য, অভিযোজনের জন্য শুধুমাত্র অনুদানকে প্রাধান্য দিয়ে আইনী বাধ্যতামূলক কোন বিধান প্যারিস চুক্তির খসড়ায় উল্লেখ করা হয় নি।
সবুজ জলবায়ু তহবিল (জিসিএফ) ছাড়ের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শিল্পোন্নত ৩৪টি দেশ এই তহবিলে ১০.২ বিলিয়ন ডলার প্রদানের ঘোষণা দিলেও ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিশ্রুত তহবিলের ৫০% প্রদান করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন প্রকল্প/কর্মসূচির বিপরীতে তহবিল বরাদ্দ করা হয়নি।
অবস্থানপত্রে বলা হয়, বাংলাদেশে অভিযোজন কার্যক্রমের জন্য ২০১৫-২০৩০ সাল সময়ে প্রাক্কলিত সর্বমোট ৪০ বিলিয়ন ডলারের (গড়ে প্রতি বছর ২.৫ বিলিয়ন ডলার) বিপরীতে ২০১০ অর্থ বছর হতে ২০১৫ এর আগষ্ট পর্যন্ত মাত্র ১.০৭৪ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। অন্যদিকে ২০১০ সালে বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড (বিসিসিটিএফ) এবং শিল্পোন্নত দেশসমূহের অর্থে বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ রেজিলিয়েন্স ফান্ড (বিসিসিআরএফ) গঠিত হলেও দু’টো তহবিলেই বরাদ্দ ক্রমেই আশংকাজনক হারে কমায় অভিযোজনের লক্ষে অর্থ সরবরাহে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিসিসিটিএফ হতে গত ৬ বছরে অনুমোদিত ২৩৬ টি সরকারি প্রকল্পের মধ্যে মাত্র ৮৪টির কার্যক্রম (৩৬%) সমাপ্ত হয়েছে, ৮৫টি প্রকল্প ২০০৯ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এসব প্রকল্পের মাত্র ২০% কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে, অথচ এরই মধ্যে ৭০-৮০ শতাংশ তহবিল উত্তোলিত হয়েছে। বিসিসিআরএফ এ বরাদ্দকৃত প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলারও সরকার ব্যবহার করতে পারছেনা বলে জানা যায়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতা,আর্থিক,পরিবেশগত ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানদন্ড নিশ্চিত না করায় জিসিএফ হতে সরাসরি তহবিল সংগ্রহ করতে সক্ষম হচ্ছেনা।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি’র উত্থাপিত অন্যান্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- প্রতিশ্রুত জলবায়ু তহবিল প্রদানের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার/দিকনির্দেশনা প্যারিস চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা এবং জিসিএফ ও অন্যান্য উৎস হতে জলবায়ু তহবিল প্রদানে শিল্পোন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশসমূহের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ প্যারিস চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা। এ ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার সকল কার্যক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী বিশেষ করে নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং আদিবাসীদের ব্যাপক ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা; ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শুদ্ধাচার নিশ্চিত করা এবং নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টি প্যারিস চুক্তিতে সুস্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানানো হয়।
Media Contact 

আসন্ন কপ-২১ প্যারিস সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়নে শিল্পোন্নত দেশের প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং এ তহবিল ব্যবহারে বাংলাদেশ সহ সংশ্লিষ্ট সকল দেশ কর্তৃক স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতে টিআইবি’র আহবান