• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

TIB urges govt to refrain from enacting laws contrary to RTI (Bangla)

 

তথ্য অধিকার আইন পরিপন্থী আইন প্রণয়ন থেকে বিরত থাকতে সরকারের প্রতি আহ্বান টিআইবি’র
ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫: আজ বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর পরিপন্থী ও এর মূল চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক আইন বা নীতিমালা প্রণয়ন থেকে বিরত থাকার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একইসাথে সরকারের সকল কর্তৃপক্ষকে তথ্য অধিকার আইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ নীতিমালা প্রণয়ন করে তার কার্যকর বাস্তবায়নের আহ্বান জানায় টিআইবি।
এক বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সংবিধান স্বীকৃত বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অন্য সকল আইনের ওপর তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ প্রাধান্য পাওয়ার কথা থাকলেও সম্প্রতি সরকার উক্ত আইনের সাথে সাংঘর্ষিক বেশকিছু আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করেছে যা গভীর উদ্বেগজনক। তথ্য অধিকার আইন ও তার চেতনার পরিপন্থী যে কোন আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন থেকে সরকারের বিরত থাকা উচিত।” তিনি বলেন, “সরকারের জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা, তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা এবং প্রস্তাবিত সাইবার আইনের খসড়ায় অবাধ তথ্য প্রবাহ ও বাক স্বাধীনতাকে সংকুচিত করার অনেক উপাদান থাকায় তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ এর কার্যকর বাস্তবায়ন ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে। এরূপ স্ববিরোধী অবস্থান থেকে সরে এসে তথ্য অধিকার বাস্তবায়নে সরকারেরই নিজস্ব অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।”
তিনি আরো বলেন, “২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন প্রণীত হওয়ার অর্ধযুগ পার হওয়ার পরও আইনটি সম্পর্কে জনসচেতনতা এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ের নয়। অন্যদিকে সরকারের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে যথেষ্ট তৎপর ও উদ্যোগী না হওয়ায় সুশাসনের হাতিয়ার হিসেবে আইনটির যথাযথ প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।” সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্যের হালনাগাদ না হওয়াকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে ড. জামান সরকারের সকল কর্তৃপক্ষকে তথ্য প্রকাশের জন্য সহায়ক স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ নীতিমালা প্রণয়ন ও তার কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, দিবসটি উদযাপনের অংশ হিসেবে টিআইবি’র অনুপ্রেরণায় দেশের ৪৫টি এলাকায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও ইয়ুথ এনগেইজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) সদস্যগণের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে মাসব্যাপী নানা কার্যক্রম যেমন- তথ্য মেলা, আলোচনা সভা, সেমিনার, মানববন্ধন, সাইকেল র‌্যালি, তথ্যসেবা কেন্দ্র, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা, চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্যুইজ প্রতিযোগিতা, আলোকচিত্র ও কার্টুন প্রদর্শনী, গণশুনানি এবং থিয়েটারসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সেইসাথে পোস্টার, স্টিকার ও ভাঁজপত্রের মাধ্যমে তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে প্রচারণা কার্যক্রম চলছে। এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার ও জলবায়ু বিষয়ক চারটি টিভি বিজ্ঞাপন কয়েকটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে প্রচারিত হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার বিষয়ে তিনটি রেডিও স্পট ১৫টি কমিউনিটি রেডিওতে আজ প্রচারিত হচ্ছে।
জাতীয় পর্যায়ে টিআইবি দুর্নীতি দমন কমিশনের সকল দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তাকে নিয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তথ্য অধিকার আইন বিষয়ক এক কর্মশালার আয়োজন করে। তথ্য কমিশন ও তথ্য অধিকার ফোরাম এর সাথে যৌথভাবে টিআইবি আগামী ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী তথ্য মেলা এবং শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। সেইসাথে একটি র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে। 
Media Contact