• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

TIB clarifies it's position on Dhaka WASA allegations (Bangla)

ঢাকা ওয়াসার মতবিনিময় সভায় টিআইবি’র বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে টিআইবি’র অবস্থান
ঢাকা, ১১ অগাস্ট ২০১৫: গতকাল (১০ আগস্ট) ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়:নিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ঢাকা ওয়াসা) এর কার্যালয়ে গণমাধ্যমের সাথে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং বাংলাদেশ ওয়াটার ইন্টিগ্রিটি নেটওয়ার্ক (বাউইন) কর্তৃক ১২ জুলাই প্রকাশিত ‘‘বাংলাদেশ পানি ব্যবস্থাপনায় শুদ্ধাচার: বর্তমান প্রেক্ষিত ও উন্নয়ন সম্ভাবনা’’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন সম্পর্কে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রকৌশলী তাকসিম এ. খান কর্তৃক উক্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান এবং এতদসংক্রান্ত তাঁর বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে টিআইবি’র অবস্থান নিম্নে তুলে ধরা হল:
   ১. ঢাকা ওয়াসার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, প্রতিবেদন প্রণয়নের জন্য তাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়নি বা তাদের বক্তব্য নেয়া হয়নি। এ সম্পর্কে টিআইবি’র বক্তব্য হল: প্রতিবেদন প্রণয়নকালে ঢাকা ওয়াসার সাথে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা হলেও গবেষকগণ যোগাযোগ স্থাপনে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক উত্তম কুমারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় তিনি গবেষকদের কিছু রিপোর্ট এবং নথিপত্র প্রদান করেন। প্রথম খসড়া প্রতিবেদনটি ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে প্রেরণ করা হয় ১২ মার্চ ২০১৫। ১৫ মার্চ ২০১৫ টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক, উপ-নির্বাহী পরিচালক এবং বাউইন প্রকল্পের সমন্বয়কারী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে সাক্ষাৎ করেন। অন্যদিকে খসড়া প্রতিবেদন সম্পর্কে ঢাকা ওয়াসার অভিমত টিআইবি’কে পাঠানো হয় ৯ এপ্রিল ২০১৫। ওয়াসার অভিমত বিবেচনায় নিয়ে ওয়াসার প্রতিক্রিয়ার অধিকাংশ অন্তর্ভুক্ত করে প্রতিবেদনটি সংশোধিত আকারে ১৪ জুন ২০১৫ ওয়াসাকে পাঠানো হয়। এর ১ (এক) মাস পর ১২ জুলাই ২০১৫ প্রতিবেদনটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়। উল্লেখ্য, ওয়াসাকে ১৪ জুন ২০১৫ সংশোধিত প্রতিবেদনটি পাঠাবার পর ওয়াসার পক্ষ থেকে লিখিতভাবে কোন সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে পুরো প্রতিবেদনটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানানো হয়। সুতরাং ঢাকা ওয়াসার উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা বা নীতিনির্ধারকদের সাথে আলোচনা ব্যতিরেকেই টিআইবি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তা তথ্যনির্ভর নয়।
   ২. গতকালের মতবিনিময় সভায় ঢাকা ওয়াসার লিখিত বক্তব্যে “অনেক ডাটা অনুপস্থিত”, “কড়াইল বস্তিতে বৈধ পানি সংযোগ প্রদানের তথ্য গবেষণায় নেই”, “ওয়াসার তথ্য ও উপাত্ত না নিয়েই গবেষণার মূল্যায়ন করা হয়েছে”, “ওয়াসার ধারাবাহিক উন্নয়নের ইতিহাস নেই”- এ জাতীয় মন্তব্যের প্রেক্ষিতে টিআইবি’র বক্তব্য হল: পুরো প্রতিবেদনটি ছিল বাংলাদেশে পানি খাতের সততার উপর একটি বেসলাইন সমীক্ষা। ১০৯ পৃষ্ঠার পুরো প্রতিবেদনে ঢাকা ওয়াসা সংক্রান্ত মূল্যায়ন ছিল মাত্র সাত পৃষ্ঠার। যেহেতু পুরো প্রতিবেদনটির একটি অংশ মাত্র ঢাকা ওয়াসার জন্য বরাদ্দ ছিল এবং পুরো প্রতিবেদনটি ঢাকা ওয়াসার উপর কোন ডায়াগনস্টিক গবেষণা ছিল না, সেহেতু ঢাকা ওয়াসা সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় উক্ত গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। উল্লেখ্য, টিআইবি’র চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও উপস্থাপনায় ঢাকা ওয়াসার সুশাসন বিষয়ক বিবিধ চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির অর্জিত সাফল্যকে সমান গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়। চূড়ান্ত মূল প্রতিবেদনের ৩৮ পৃষ্ঠায় ঢাকা ওয়াসার পানি উৎপাদনের ক্ষমতা, চাহিদা ও সরবরাহের তথ্য সন্নিবেশিত আছে। প্রতিবেদনের পৃষ্ঠা ৪০-এ ঢাকা ওয়াসার সেবার মানের উন্নয়ন, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, কম্পিউটারাইজড বিল ব্যবস্থা, এসএমএস এর মাধ্যমে বিল প্রদানের তথ্য সন্নিবেশিত আছে। উন্নত সেবা প্রদানের স্বীকৃতি হিসেবে ঢাকা ওয়াসাকে ইউনেস্কো পুরষ্কার প্রদানের তথ্য রয়েছে প্রতিবেদনের পৃষ্ঠা ৪১-এ। তাছাড়া টিআইবি’র আলোচ্য প্রতিবেদনটি কোন অপরাধের তদন্তভিত্তিক প্রতিবেদন নয়। টিআইবি’র উক্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঢাকা ওয়াসাসহ অন্য যে কোন কর্তৃপক্ষ, যদি দুর্নীতি বা সুশাসনের সমস্যা বিষয়ে বিস্তারিত ফলো-আপ গবেষণার উদ্যোগ গ্রহণ করে তবে টিআইবি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলকে সহায়তা করতে সদা প্রস্তত।
   ৩গবেষকবৃন্দ তথা টিআইবি ‘‘বাস্তবতা বিবর্জিত’’ কনটেক্সটে’র ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করেছে বলে যে মন্তব্য করা হয়েছে তাও যথার্থ নয়। পানি খাত সংশ্লিষ্ট (২৯টি) সরকারি নথি পর্যালোচনা, প্রাতিষ্ঠানিক ম্যাপিংসহ আলোচ্য গবেষণায় আস্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সকল পদ্ধতিই অনুসৃত হয়েছে।
   ৪. “টিআইবি নির্বিচার পদ্ধতিতে স্টেকহোল্ডার নির্বাচন করেছে এবং বেসরকারি স্টেকহোল্ডারের মধ্যে কাদের সাথে কথা বলেছে তাদের নাম প্রকাশ করা উচিত” বলে ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষের লিখিত বক্তব্যে উপস্থাপিত পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে টিআইবি’র বক্তব্য হল: পানি খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সহ সরকারি ও বেসরকারি ২৬টি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ইনস্টিটিউশনাল ম্যাপিং সংক্রান্ত মূল্যায়ণধর্মী পর্যবেক্ষণ টিআইবি’র প্রতিবেদনে সন্নিবেশিত আছে।
   ৫. “ঢাকা ওয়াসা ই-টেন্ডারিং চালু করেছে এই তথ্য টিআইবি’র প্রতিবেদনে নেই” এবং “ঢাকা ওয়াসার কল সেন্টার সম্পর্কে গবেষকরা অবগত ছিলেন না”, মর্মে টিআইবি’র বক্তব্য হল: প্রতিবেদনের ৪১ পৃষ্ঠা ওয়াসার ই-টেন্ডারিং এবং কল -সেন্টারের উল্লেখ রয়েছে।
   ৬. “ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক নেতা ও দালালদের হস্তক্ষেপ নেই” - মর্মে ওয়াসা কর্তৃপক্ষের অভিমত সম্পর্কে টিআইবি’র বক্তব্য হল: প্রতিবেদনের ৩৯ পৃষ্ঠায় সন্নিবেশিত সংশ্লিষ্ট তথ্যটি ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধ থেকে উদ্ধৃত হয়েছে।
   ৭টিআইবি’র পুরো প্রতিবেদন “বিজ্ঞান সম্মত” নয়, “ভিত্তিহীন স্টোরি”, “দালিলিক প্রমাণাদি” নেই মর্মে মতবিনিময় সভায় উত্থাপিত বক্তব্য সম্পর্কে টিআইবি’র বক্তব্য হল: টিআইবি তার গবেষণা পদ্ধতির মান, তথ্যের যথার্থতা, সঠিকতা সম্পর্কে দৃঢ়ভাবে আস্থাশীল এবং দ্ব্যর্থহীনভাবে জানাতে চায় যে সামাজিক বিজ্ঞানের বিশ্বব্যাপি অনুসৃত গুণগত গবেষণার সকল মানদন্ড কঠোরভাবে অনুশীলন করেই টিআইবি উক্ত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। টিআইবি’র গবেষণা ফলাফলে ঢালাওভাবে কোন সাধারণীকরণ করা হয়নি।
   ৮গতকালের মতবিনিময় সভায় টিআইবিকে আমন্ত্রণ জানানোয় ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে টিআইবি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানায়। উল্লেখ্য, স্বল্পতম নোটিশে সভার আমন্ত্রণ জানানোয় গবেষকদ্বয় গতকালের মতবিনিময় সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি।
   ৯টিআইবি ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণ এবং অভিমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং গতকালের মতবিনিময় সভায় ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রতিবেদনটি প্রত্যাখান করার পরও টিআইবি’র সাথে ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজ করার জন্য সাংবাদিকদের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, টিআইবি ওয়াসা কর্তৃপক্ষের উক্ত অবস্থানকে স্বাগত জানায়।
   ১০. কোন প্রতিষ্ঠানকে হেয় করা নয় বরং বাংলাদেশে পানি খাতে সুশাসন স্বচ্ছতা ও সততা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আলোচ্য গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। টিআইবি মনে করে কৌশলগত ও ব্যবহারিক পর্যায়ে সুশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্র, যেমন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, জনঅংশগ্রহণ, ন্যায্যতা এবং সকলকে অন্তর্ভুক্তিকরণের মত বিষয়গুলোতে আরো অগ্রগতি অর্জিত হলে তা ঢাকা নগরবাসীর জন্য অধিকতর কার্যকর পানি সরবরাহ প্রক্রিয়া সুনিশ্চিতকরণে ব্যাপকভাবে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
Media Contact