• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

TIB-BAWIN propose nine recommendations to ensure good governance in Bangladesh water sector (Bangla)

বাংলাদেশের পানি খাতের সুশাসন নিশ্চিতকরণে টিআইবি ও বাউইন এর নয় দফা সুপারিশ
ঢাকা, ১২ জুলাই ২০১৫: বহুমুখী সমস্যা ও দুর্নীতির ভারে জর্জরিত বাংলাদেশের পানি খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে পানি ব্যবস্থাপনাকে জাতীয় শুদ্ধাচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও বাংলাদেশ ওয়াটার ইন্টেগ্রিটি নেটওয়ার্ক (বাউইন)। টিআইবি’র ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনায় শুদ্ধাচার: বর্তমান প্রেক্ষিত ও উন্নয়ন সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক বেইজলাইন গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে টিআইবি ও বাউইন পানিখাতের শুদ্ধাচারের জন্য নয় দফা দাবি উত্থাপনপূর্বক পানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে পানি সংক্রান্ত হুমকী মোকাবেলায় সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিকার গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ হাফিজুর রহমান এবং অধ্যাপক ড. শেখ তৌহিদুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে এ সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেন অধ্যাপক ড. শেখ তৌহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপ-নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, অধ্যাপক ড. সৈয়দ হাফিজুর রহমান এবং বাউইন সমন্বয়কারী সনজীব বিশ্বাস সঞ্জয়।
উল্লেখ্য, বাউইন হলো ২০০৯ সালে টিআইবি’র উদ্যোগে পানি খাতের ১৭টি বিভিন্ন সংস্থা ও বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত একটি নেটওয়ার্ক।
বেইজলাইন প্রতিবেদনটিতে দেশে বিদ্যমান পানি বিষয়ক নীতি আইন ও বিধি সংশ্লিষ্ট ২৯টি সরকারি নথিপত্র বিশ্লেষণ এবং ঢাকা ওয়াসা ও বাংলাদেশ ওয়াটার ডেভলপমেন্ট বোর্ডের পানি ব্যবস্থাপনা ও সেবাদান প্রক্রিয়ায় সততার মাত্র নিরূপন করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্বল আইন এবং তার সঠিক বাস্তবায়নের নির্দেশিকার অভাবে পানি ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। এক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হালনাগাদ ও আধুনিকায়ন না হওয়ায় নাগরিক সেবা প্রদানে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও সেবাগ্রহীতাদের কার্যকর যোগাযোগের (অংশগ্রহণসহ) ঘাটতির কারণে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি; দুর্নীতির জন্য দৃষ্টান্তমূলক ও দৃশ্যমান শাস্তি না হওয়ায় দুর্নীতি করার প্রতি উৎসাহ বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এই গবেষণায় ঢাকা ওয়াসা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের নিয়ম লংঘন, আর্থিক দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়া, দুর্নীতির শাস্তি না হওয়া এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়ার তথ্য উদঘাটিত হয়েছে। ঢাকা ওয়াসায় অনানুষ্ঠানিকভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে রাজনৈতিক নেতা ও দালাল কর্তৃক পানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রিত;নিয়ম-বহির্ভূতভাবে কার্যাদেশ পরিবর্তন ও অতিরিক্ত কাজের অনুমোদন, নিয়ম-বহির্ভূতভাবে কর্মকর্তা নিয়োগ-বিজ্ঞাপন না দিয়ে নিয়োগ প্রদান, কর্মকর্তাদের একাংশ কর্তৃক ওয়াসার ভূমি দখল ইত্যাদি। অন্যদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর ক্ষেত্রে প্রকল্প প্রস্তাবনায় উল্লিখিত কারিগরি নির্দেশনা না মেনে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা, - বাঁধের জন্য উল্লিখিত জিওব্যাগ ব্যবহার না করা, ২৬" ড্রেজারের পরিবর্তে ২২" ব্যবহার ও ভুয়া বিলের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় সততার বিষয়টি তুলে ধরার জন্য ঢাকা ওয়াসার কর্মকা- বিশ্লেষণ করা হয়। চাহিদার বিপরীতে পানি সেবা/সরবরাহ প্রদানে ক্ষমতার অভাব, পানি বিতরণ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে অনানুষ্ঠানিক ও অনুমোদনহীন ব্যক্তিদের (যেমন দালাল) হস্তক্ষেপ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের অংশগ্রহণের সীমিত সুযোগ, কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনার জন্য স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা, বৈধতা ও আইনসিদ্ধতা, সমতা এবং অন্তর্ভুক্তির মতো প্রয়োজনীয় আচরণরীতির অভাবকে ঢাকা ওয়াসার জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঢাকায় পানি সংকটের মূল কারণ হলো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের (সরকারি ও বেসরকারি উভয় প্রকার) অবৈধ/অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অক্ষমতা; বেআইনিভাবে নদী/খাল দখল থেকে শুরু করে শিল্পবর্জ্য ফেলা এবং অপরিকল্পিতভাবে নগর এলাকার উন্নয়ন অন্যতম।
অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)বাংলাদেশে নতুন পানি প্রকল্পের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন এবং বিদ্যমান পানি-নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পসমূহের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান কাজ হলো হলো বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ। অধিকন্তু, বিভিন্ন খাতে পানির বর্ধিষ্ণু চাহিদা, উৎপত্তিস্থলে পানির ঘাটতি, পানি ব্যবহারের প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ চরিত্র, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত হুমকিসহ দুর্যোগের নতুন ধরন এবং সংঘটনের অধিক হার, বিষাক্তকরণ (যেমন আরসেনিক ও ক্লোরিন) ও পানি দুষণ, এবং খাল ও জলপথের অবৈধ দখল পানি খাতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে; এগুলো বিদ্যমান সমস্যাসমূহকে আরও জটিল করে তুলেছে। এসব পুরোনো ও নতুন চ্যালেঞ্জ সম্মিলিতভাবে বিদ্যমান সমস্যাগুলোয় নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেগুলো সমাধানে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নতুন নীতির অভাব রয়েছে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মসূচি ও কাজে তা অল্পই প্রতিফলিত হচ্ছে।
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “গ্রাহকের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী সব এলাকায় ঢাকা ওয়াসা তাদের সেবা প্রদান করতে পারে না। এক্ষেত্রে সেবা প্রদানে আয় অনুযায়ী এলাকা ভিত্তিক বৈষম্য বিরাজ করছে। দালালদের কারণে পানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে এলাকা-ভিত্তিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের একাংশের উৎপাত এখনো বিরাজমান। ঢাকা ওয়াসা সম্পর্কে গ্রাহকের সন্তুষ্টির মানও সন্তোষজনক নয়। অনেক অভিযোগ গ্রহণ করা হয় কিন্তু সে অনুযায়ী পদক্ষেপ না নেওয়ায় এর সুফল অনেকেই পান না। যথাযথ সেবা প্রদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।”
গবেষণায় উত্থাপিত নয় দফা সুপারিশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সংশ্লিষ্ট নীতিমালা, আইন, কৌশলপত্র, নির্দেশিকা ইত্যাদি হালনাগাদ করা এবং এর ভিত্তিতে ইস্যুভিত্তিক কার্যপ্রণালী প্রণয়ন করা; জাতীয় পানি আইন, ২০১৩ এর আলোকে জাতীয় পানিসম্পদ কাউন্সিলকে পর্যবেক্ষক (watchdog) হিসেবে কার্যকর করা; প্রকল্পগুলোকে শুদ্ধাচারের মানদন্ডের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্ল্যানিং কমিশনের ডিপিপি (ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রফর্মা) পুনঃনিরীক্ষা ও সংস্কার করা; কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন করা; আইএমইডি’কে শক্তিশালীকরণ ও পানি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রকল্প মূল্যায়নে দক্ষতা বৃদ্ধি করা; সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন পর্যায়ে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং পানি ব্যবস্থাপনায় শুদ্ধাচার নিশ্চিত করার জন্য ইস্যুভিত্তিক গবেষণা করা ইত্যাদি। 

Media Contact