• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

টিআইবি সম্পর্কে পিকেএসএফ চেয়ারম্যানের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ টিআইবি’র

ঢাকা, ০৪ জুলাই ২০১৫: গত ২রা ও ৩রা জুলাই কয়েকটি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত এবং অনলাইন ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত ‘টিআইবি কিছু স্বার্থান্বেসী দেশ এবং গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে’ মর্মে পিকেএসএফ চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জামানের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে টিআইবি।

আজ এক বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ এবং তথ্য ব্যতিরেকে টিআইবি সম্পর্কে পিকেএসএফ চেয়ারম্যানের অযাচিত ও অনভিপ্রেত মন্তব্যে টিআইবি গভীরভাবে মর্মাহত। টিআইবি’র জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন সংক্রান্ত কার্যক্রম সহ চলমান ‘বিবেক’ প্রকল্প এবং পূর্বের সকল কার্যক্রম বাংলাদেশ সরকারের এনজিও ব্যুরো, আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের যথাযথ অনুমতি সাপেক্ষে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ ধরনের মন্তব্যের মাধ্যমে পিকেএসএফ চেয়ারম্যান প্রকারান্তরে সরকারের অবস্থানকেই প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন বলে টিআইবি মনে করে।”

তিনি আরও বলেন, “জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের দাবি উত্থাপন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে প্রতারণা চিহ্নিত করার কারণে যদি ‘বিদেশিদের স্বার্থে প্রোপাগান্ডা’র অপবাদ শুনতে হয় তাতে টিআইবি মোটেই বিচলিত নয়। বরং যারা এধরণের উদ্দেশ্যমূলক অপব্যাখ্যা করেন, এবং প্রকারান্তরে অনিয়মের প্রশ্রয় ও সুরক্ষা দেন তাদের আচরণে টিআইবি বিব্রত হয়।”

 টিআইবি’র এই ভূমিকায় বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুন্ন হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক তহবিল থেকে অর্থ পাওয়া জটিল হতে পারে” মর্মে ড. কাজী খলিকুজ্জামানের মন্তব্য সত্যকে পাশ কাটানোর অপচেষ্টাও বটে। উল্লেখ্য, টিআইবি’র পাশাপাশি ২০১৩ এর ২৯ মে সরকারি প্রতিশ্রুতি সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ৫৩তম সভায় জলবায়ু জনিত ট্রাস্ট ফান্ডে সকল অনিয়ম দূর করার সুপারিশ করা হয়। শুধু তাই নয়, সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৯ জুলাই তারিখে টিআইবি’র সভায় মাননীয় পরিবেশ মন্ত্রী বিসিটিএফ’র তহবিল ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ উত্তরণে বিসিসিটি’র পক্ষ থেকে পদক্ষেপ গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন এবং টিআইবি’র কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।

ড. জামান বলেন “জলবায়ু পরিবর্তনে অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসাবে বাংলাদেশের চলমান প্রচেষ্টাকে তুলে ধরতে টিআইবি জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন বিষয়ক গবেষণায় সচেষ্ট। এরই ধারাবাহিকতায় টিআইবি ২০১৪-১৫ এবং ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটে বিসিসিটিএফ’র জন্য পর্যাপ্ত তহবিল বরাদ্দের দাবি জানিয়েছিল। একইসাথে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতিপূরণ প্রদানে প্রয়োজনীয় ‘নতুন ও অতিরিক্ত’ বরাদ্দ প্রদান এবং বরাদ্দকৃত তহবিল যেন উন্নয়ন সহায়তা বা ঋণের সাথে মিশ্রিত করা না হয় সেজন্য টিআইবি বরাবরই এনেক্স-১ (জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী) তালিকাভুক্ত দেশের প্রতি সুস্পষ্ট ভাবে তার অবস্থান ব্যক্ত করছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ২০১৪ সালে জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনের পূর্বে জাতিসংঘ মহাসচিবের নিকট টিআইবি প্রেরণ করেছিল।”

ড. কাজী খলীকুজ্জামান পিকেএসএফ’র ১০টি প্রকল্পের বিষয়ে টিআইবি’র অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে যে মন্তব্য করেছেন সে ব্যাপারে টিআইবি একাধিকবার উল্লেখ করেছে যে পিকেএসএফ প্রদত্ত তালিকা অনুসারে ১৪ অক্টোবর ২০১২ হতে ৩০ জুন ২০১৩ পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে টিআইবি’র তথ্য অনুসন্ধানে পিকেএসএফ হতে অনুদানপ্রাপ্ত ১০টি এনজিও প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় খুঁজে পাওয়া যায়নি, পরিদর্শনে কোনোটি অসম্পূর্ণ, কোনোটি বাসস্থান অথবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান হিসাবে পাওয়া যায়, এমনকি দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি, ফলে প্রাপ্ত তথ্যই টিআইবি’র গবেষণা প্রতিবেদনে উপস্থাপিত হয়েছিলো। টিআইবি’র গবেষণা প্রতিবেদন ‘বাংলাদেশে জলবায়ু অর্থায়ন: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ প্রকাশের পরই পিকেএসএফ উক্ত ১০টি এনজিওর কার্যালয়/লিয়াজোঁ অফিস বা তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে নিশ্চিত হয় মর্মে দাবি করে, যা টিআইবি প্রকাশিত প্রতিবেদনের ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অর্জিত অগ্রগতির দৃষ্টান্ত হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে। যেহেতু পিকেএসএফ কর্তৃক পুনঃ পরিদর্শনের আগেই টিআইবি’র গবেষণাটি সম্পন্ন ও প্রকাশিত হয়েছিল, সেহেতু টিআইবি’র উক্ত প্রতিবেদন প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ ছিলনা। সুতরাং এ ব্যাপারে ড. কাজী খলিকুজ্জামানের উল্লিখিত মন্তব্য অযৌক্তিক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বৈশ্বিক উৎস হতে বাংলাদেশের জলবায়ু তহবিল সংগ্রহে পূর্বনির্ধারিত আর্থিক, পরিবেশ এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মান অর্জনের চেষ্টার দাবি যখন  জোরালো হচ্ছে তখন ড. খলিকুজ্জামানের এ ধরনের মন্তব্য প্রকারান্তরে ব্যর্থতার দায় অন্যের উপর চাপানোর অপচেষ্টা বলে টিআইবি মনে করে এবং আশা করে যে টিআইবি’র বর্তমান অবস্থানের প্রেক্ষিতে ড. কাজী খলিকুজ্জামানের উদ্দেশ্যমূলক বক্তব্যের ফলে সৃষ্ট বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে।

Media Contact