• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

Youth has clean conception about integrity: TIB urges to include Youth's role in NIS to fight corruption and establishing integrity (Bangla)

সততা সম্পর্কে যুবদের ধারণা স্বচ্ছ, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সততা প্রতিষ্ঠায়
যুবদের ভূমিকা অন্তর্ভুক্তির দাবি টিআইবি’র
ঢাকা, ৩০ জুন ২০১৫: দুর্নীতিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠা করা, শাস্তি থেকে অব্যাহতির সংস্কৃতি বন্ধ, যুবদের মধ্যে সততার প্রসার ও চর্চার বিষয়টিকে জাতীয় যুব নীতিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব প্রদানসহ ছয় দফা সুপারিশ তুলে ধরে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সততা প্রতিষ্ঠায় যুবদের ভূমিকা অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আজ সংস্থার ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে ‘জাতীয় যুব-সততা জরিপ ২০১৫’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেন গবেষণা ও পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মনজুর--খোদা এবং শাম্মী লায়লা ইসলাম। টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান।
বহুপর্যায়ী স্তরায়িত গুচ্ছ নমুনায়ন পদ্ধতির মাধ্যমে সততা ও দুর্নীতি সম্পর্কে যুবদের ধারণা, মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গী নিরূপণ, বিভিন্ন সেবা খাতে যুবদের দুর্নীতির অভিজ্ঞতা, দুর্নীতি প্রতিরোধে যুবদের জ্ঞান, আগ্রহ ও অঙ্গীকারের মাত্রা যাচাইয়ের লক্ষ্যে উক্ত জরিপটি ২০১৫ সালের ২২ এপ্রিল থেকে ৭ মে সময়ের মধ্যে পরিচালিত হয়। এই জরিপে ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সের ব্যক্তিদের যুব হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। জরিপে বাংলাদেশের ৬৪ জেলা থেকে ৩১টি জেলার মোট ৩,৬৫৬ জন তথ্যদাতার অভিমত সন্নিবেশিত হয়। উত্তরদাতাদের এক-তৃতীয়াংশ হলো নারী।
জরিপের ফল অনুযায়ী, যুবদের প্রায় সবাই সততার অভাবকে দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের জন্য একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কখনো দুর্নীতি করে না, কোন পরিস্থিতিতেই ঘুষ নেয়ও না, দেয়ও না এমন মানুষকে প্রায় ৯৮% যুব সৎ বলেছে। অধিকাংশ যুবরাই ধনী হওয়ার চেয়ে সৎ হওয়াকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। অসৎ ব্যক্তির চেয়ে সৎ ব্যক্তির জীবনে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশী বলে জরিপে বেশীর ভাগ যুবরা একমত পোষণ করেছে। আবার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পাস করা/গুরুত্বপূর্ণ কোনো চাকরি পাওয়ার জন্য ব্যর্থ হতে পারেন জেনেও কোন প্রতারণার আশ্রয় নেবেন না বরং সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে মনে করেন জরিপের অংশগ্রহণকারী ৭৩% নারী ও ৬৫% পুরুষ। কোনো আত্মীয় নিয়ম-বহির্ভূতভাবে ভাল কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, অথবা কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি দিতে চাইলে বেশীরভাগ যুবই সরাসরি না বলবেন বলে জরিপে জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন ও সততা প্রতিষ্ঠায় যুবদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে ৮২% যুব মতামত দিয়েছে। অধিকাংশ যুবরাই (৮০%) দুর্নীতির মুখোমুখি হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করবেন এমন অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেছেন। বেশিরভাগ যুব জানিয়েছে পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীরা সততার ধ্যান-ধারণা, চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গী গঠনে তাদের প্রভাবিত করে।
সার্বিকভাবে সততা সম্পর্কে যুবদের ধারণার মাত্রা বেশ স্বচ্ছ হলেও বাস্তবে সততা চর্চার ক্ষেত্রে যুবদের একটি বড় অংশের মধ্যে বিপরীত বা নেতিবাচক আচরণ পরিলক্ষিত হয়। দেশের বিদ্যমান দুর্নীতিবিরোধী আইন-কানুন, বিধিমালা সম্পর্কে জানেন মাত্র ১% এবং ৫৮% কিছুই জানে না বা তাদের কাছে এ সম্পর্কে কোন তথ্য নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
জরিপের ফল অনুযায়ী, সততা সম্পর্কে জোরালো নৈতিক ধারণা থাকা সত্ত্বেও যুবদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাস্তব জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সততা বিসর্জন দিতে বা সমঝোতা করতে রাজি আছে; অনেক ক্ষেত্রে তারা দুর্নীতি মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে। যারা অভিযোগ করতে আগ্রহী নয় তাদের মধ্যে ৬২% যুব মনে করে এ ধরনের অভিযোগে কোনো কাজ বা ফল হবে না। যুবরা
রাজনীতি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে; একইসাথে সরকারি সেবা খাতগুলোকে তারা বেসরকারি সেবা খাতগুলোর তুলনায় বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত বলে মনে করছে।
টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ দেখতে চাইলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো উন্নত ও যুগোপযোগী করা অত্যন্ত জরুরি। সমাজে যুবদের সংখ্যা অনেক বেশি, তাই তারা যাতে সততার চর্চা করতে পারে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণদের ভূমিকা পালনের যথাযথ পরিবশে নিশ্চিত করতে হবে।”
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিকসহ দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিটি আন্দোলনে তরুণদের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। কিন্তু অধিকাংশ যুবদের মধ্যে দুর্নীতি সম্পর্কে ধারণা কম। অনেকেই অন্য কোন উপায় নেই জেনে দুর্নীতির আশ্রয় নেয়। সে বিষয়টি মাথায় রেখে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি তরুণদের মধ্যেও দুর্নীতিবিরোধী চেতনা জাগিয়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি প্রতিরোধে দায়িত্বপ্রাপ্তদের যুবদের ভাবনাকে বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর দুর্নীতি প্রতিরোধ কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।”
গবেষণার ছয় দফা সুপারিশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: দুর্নীতি যে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ তা বাস্তবিক অর্থে সমাজে প্রতিষ্ঠা করা এবং এর মাধ্যমে তরুণদের সামনে এর সঠিক দৃষ্টান্ত স্থাপন ও শাস্তি থেকে অব্যাহতির সংস্কৃতি বন্ধ করা; যুবদের মধ্যে সততার প্রসার ও চর্চার বিষয়টিকে জাতীয় যুব নীতিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে এর কার্যকর বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণ করা এবং জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সততা প্রতিষ্ঠায় যুবদের ভূমিকা ও কর্মপরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা। এছাড়া যুবদের জন্য দুর্নীতির অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত সৃষ্টি করা; পাঠ্যক্রমে বিদ্যমান সততা ও দুর্নীতি দমন বিষয়ক শিক্ষা আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা; যুবদেরকে মাঝে সততা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য সকল অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিত কর্মসূচি ও প্রচারাভিযান কর্মসূচি গ্রহণ ছিল অপরাপর সুপারিশের অন্তর্ভুক্ত।

Media Contact