• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

টিআইবি’র বার্ষিক সদস্য সভা অনুষ্ঠিত: দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে দীর্ঘস্থায়ী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান

ঢাকা, শনিবার, ১৩ জুন ২০১৫: দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে দীর্ঘস্থায়ী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সরকার, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, নাগরিক সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি’র সদস্যরা। আজ শনিবার (১৩ জুন) সকালে সংস্থার ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত টিআইবি’র সদস্যদের বার্ষিক সভায় এই আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু না হওয়া, কালো টাকা বৈধের সুযোগ রাখা, মানব পাচার, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের অভাব, গুম ও বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ড বৃদ্ধিতে সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। 
দুদক ও টিআইবি’র সমঝোতা স্মারকের উল্লেখ করে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে একযোগে কাজ করলে জনসাধারণকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতন করা সম্ভব হবে বলে সদস্যরা বার্ষিক সভায় অভিমত ব্যক্ত করেন। সম্প্রতি সংসদে উত্থাপিত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে সদস্যরা নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সকল সদস্য, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্যসহ বিচারপতি, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং রাজনীতিকদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ নিশ্চিত ও নিয়মিত হালনাগাদ করা; কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সমর্পূণরূপে বিলোপ করা; মানি-লন্ডারিং প্রতিরোধে এবং পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করা এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ প্রকল্পকে নিরুৎসাহিত করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানান। 
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত তিনটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থতা, ভোট জালিয়াতি, কারচুপি এবং ভোট কেন্দ্র দখলে সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারায় নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়ী করেন সদস্যরা। এছাড়া সভায় টিআইবি’র সদস্যগণ জানুয়ারি - মার্চ মাসের রাজনৈতিক সংকট দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার পাশাপাশি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করেছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। 
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র ট্রাস্টি এম. হাফিজ উদ্দিন খান। এতে সভাপতিত্ব করেন টিআইবি’র সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) ইমামুজ্জামান বীর বিক্রম, পিএসসি এবং সঞ্চালনা করেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। 
এম. হাফিজ উদ্দিন খান তাঁর বক্তব্যে বলেন “টিআইবি’র কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশী। সুতরাং বিভিন্ন খাতের ওপর গবেষণা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশেষ করে তরুণদেরকে সম্পৃক্ত করে সবাই মিলে একসাথে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।”
বার্ষিক সদস্য সভা শেষে এক ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়। এতে ন্যায্যতা, সুশাসিত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দমনে দরকার কার্যকর, স্বাধীন ও সক্ষম প্রতিষ্ঠান; ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জাতীয় সম্পদ ব্যবহারে জবাবদিহিতা; আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা; শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ; বিনিয়োগের নিরাপত্তা; জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টিতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা; জনগণের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন; নারী ও সকল সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে আরো সক্রিয় ও উদ্যোগী হতে সরকারকে আহ্বান জানান। 
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের কার্যক্রমে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে আগ্রহী বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাধারণ নাগরিককে টিআইবি সদস্যভুক্ত করে আসছে। বার্ষিক সদস্য সভা ছাড়াও ত্রৈমাসিক সদস্য দিবসে অংশগ্রহণ করে তারা টিআইবি’র বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে মূল্যবান পরামর্শ প্রদান করেন।
Media Contact