• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

Candidates overspent in recently concluded three City Corporation Election: TIB recommends for reforms of electoral laws (Bangla)

সম্প্রতি সমাপ্ত তিনটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের মাত্রাতিরিক্ত ব্যয়
নির্বাচনী আইন সংস্কারের সুপারিশ টিআইবি’র
ঢাকা, ১৮ মে ২০১৫: প্রার্থী কর্তৃক অনুমোদিত ব্যয়সীমার অতিরিক্ত নির্বাচনী খরচ, ব্যাপকহারে নির্বাচনী আইন লঙ্ঘ এবং তা প্রতিরোধে নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতার জন্য গত মাসের তিনটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বলা যায় না বলে মনে করছে টিআইবি। গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আইনের সংস্কার ও হালনাগাদের সুপারিশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আজ সকালে সংস্থার ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে ‘ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ২০১৫: প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি জানায় অধিকাংশ প্রার্থীর বিভিন্ন আচরণবিধি লঙ্ঘ, প্রার্থী কর্তৃক অনুমোদিত সীমার তিনগুণের বেশী ব্যয় এবং নির্বাচন কমিশনের দৃঢ় ভূমিকার অভাব ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষপাতিত্বে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী একটি প্রার্থীর নির্বাচনে প্রতিযোগিতার মনোভাবের ঘাটতির কারণে গত ২৮ এপ্রিল সমাপ্ত তিনটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। প্রতিবেদনের সারাংশ উপস্থাপন করেন গবেষণা ও পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. রেযাউল করিম। উক্ত গবেষণায় আরো সংযুক্ত ছিলেন গবেষণা ও পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার দিপু রায় ও তাসলিমা আক্তার। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এ টি এম শামসুল হুদা, নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং মোহাম্মদ রফিকুল হাসান, পরিচালক, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তিনটি সিটি কর্পোরেশনের ১৩৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ডকে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে নমুনা এলাকা নির্ধারণ করে ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ৯ জন মেয়র এবং ১০১ জন সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীর উপর গবেষণাটি পরিচালনা করা হয় তবে এই গবেষণার পর্যবেক্ষণ সকল প্রার্থী ও কেন্দ্রের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য নয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা উত্তরের জন্য নির্ধারিত ৫০ লক্ষ টাকা সীমার বাইরে তিনজন মেয়র প্রার্থী ২০ লক্ষ থেকে ৩ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করেছেন। ঢাকা দক্ষিণের তিনজন মেয়র প্রার্থী অনুমোদিত ৩০ লক্ষ টাকার সীমার বিপরীতে ১ কোটি ৪৬ লক্ষ থেকে ৩ কোটি ৫১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করেন। অন্যদিকে চট্টগ্রামের তিনজন মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬ কোটি ৪৭ লক্ষ থেকে ৩৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ের চিত্র উদঘাটিত হয়েছে, যদিও এখানে অনুমোদিত ব্যয়ের সীমা ছিল ৩০ লক্ষ টাকা।
ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থীরা গড়ে ২.৭ কোটি টাকা, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থীরা গড়ে ২.২ কোটি টাকা এবং চট্টগ্রামের মেয়র প্রার্থীরা গড়ে ২.৭ কোটি টাকা নির্বাচনে ব্যয় করেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীরা ঢাকায় গড়ে যথাক্রমে ১৫.৯৫ লক্ষ টাকা এবং ৮.২৬ লক্ষ টাকা এবং চট্টগ্রামে যথাক্রমে ১৬.৫৮ লক্ষ এবং ১১.৫২ লক্ষ টাকা ব্যয় করেন। উল্লেখ্য, হলফনামায় মেয়র প্রার্থীদের মাসিক আয় ৪.৫৬ লক্ষ থেকে ১.২২ কোটি, কাউন্সিলরা ৭ লক্ষ ৪৭ হাজার থেকে ৭১.৫০ লক্ষ এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলরা ৫ হাজার থেকে ৭ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত তথ্য সন্নিবেশ করেছেন। অন্যদিকে নয় জন মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে তিনজন এবং ১০১ জন সাধারণ কাউন্সিলরদের মধ্যে ৩০ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা রয়েছে। পক্ষান্তরে সংরক্ষিত কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই।
উল্লেখ্য, আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে যে সকল বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল তা হল: ক্যাম্পে পানীয় ও খাদ্য পরিবেশন, বকশিশ, নির্ধারিত সময়ের বাইরে মাইকিং, ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রচারণা, মনোনয়নপত্র দাখিলকালে যানবাহনসহ শো-ডাউন, আলোকসজ্জা, টি-শার্ট প্রদান উল্লেখযোগ্য।
গবেষণায় বিভিন্ন পর্যায়ের ৮৭২ জন তথ্য দাতার কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী দলীয় সমর্থন পেতে চট্টগ্রামের মেয়র প্রার্থীদের কাছ থেকে ২০ লক্ষ টাকা থেকে ৭ কোটি টাকা সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, দলীয় তহবিল এবং ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক নেতাদেরকে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মেয়র প্রার্থীদের পক্ষে এই অবৈধ অর্থ প্রদানে প্রার্থী নিজে ছাড়াও অর্থদাতা হিসেবে স্থানীয় ঠিকাদার, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের একাংশ জড়িত ছিলেন। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীরা উভয় ক্ষেত্রেই ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেছেন।
নির্বাচনে সেনা মোতায়নে দোদুল্যমনতা, প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনে সমানভাবে পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থতা, ভোট জালিয়াতি, কারচুপি এবং ভোট কেন্দ্র দখলে সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারায় নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়ী করে টিআইবি জানায় স্বাধীনভাবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ও সংসদ সদস্যদের প্রভাব বিস্তারের কারণে সামগ্রিকভাবে তিনটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বলা যায় না।
টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এ টি এম শামসুল হুদা তাঁর বক্তব্যে বলেন, আইনে নির্দলীয় নির্বাচনের কথা বলা হলেও বাস্তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এই দ্বৈততার কারণেই নির্বাচনে নানা অনিয়ম দেখা যায়। এক্ষেত্রে নির্বাচনী আইনটি পরিবর্তন করে দলীয় করা যেত পারে, যাতে দলীয় প্রার্থী ছাড়া অন্য কেউ মনোনয়ন না পায়। এতে আর্থিক অনাচার ও অনিয়মের সুযোগ কমে আসবে। এছাড়া এই নির্বাচনে সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদ ছাড়া সাধারণ আসনে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল না, যা অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক। তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রবর্তনের দাবি জানান।
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়নি। কোন কোন ক্ষেত্রে অনুমোদিত নির্বাচনী ব্যয়ের তুলনায় সাত, এগারো বা একুশ গুণ বেশি অর্থ ব্যয়িত হয়েছে। নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘ করে ব্যাপক ভোট জালিয়াতি হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। নেতৃত্বের দুর্বলতার কারণে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।
গবেষণার সুপারিশে খাত অনুযায়ী ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ, নির্বাচনী ব্যয় পরিবীক্ষণের বিধান এবং ব্যয় সংক্রান্ত দাখিলকৃত রির্টান যাচাই বাছাই এবং প্রার্থীর হলফনামায় প্রদত্ত তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিতকল্পে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনী আইনের ব্যাপক সংস্কার ও তা হালনাগাদের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সাথে প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারকে নির্বাচনী বিধির আওতায় আনার সুপারিশ করে যোগ্যতা ও দৃঢ়তার সাথে দায়িত্বপালনে সক্ষম ব্যক্তিদের নির্বাচন কমিশনে নিয়োগের জোর দাবি জানায় টিআইবি।

Media Contact