• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

Ensure integrity in water sector- TIB, BAWIN (Bangla)

বিশ্ব পানি দিবস-২০১৫
পানি খাতে শুদ্ধাচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে বাউইন ও টিআইবি
২২ মার্চ ২০১৫, ঢাকা: ‘বাংলাদেশ পানি আইন ২০১৩’র আশু বাস্তবায়ন, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন, নদীসহ জলাশয় ও জলমহালসমূহ বেআইনী দূষণ ও অবৈধ দখলমুক্ত করাসহ দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ওয়াটার ইন্টিগ্রিটি নেটওয়ার্ক (বাউইন) এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে ‘টেকসই উন্নয়নে চাই পানি খাতে শুদ্ধাচার’ এই দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে এ আহ্বান জানানো হয়। 
মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। মানবন্ধনে টিআইবি’র অনুপ্রেরণায় ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত ইয়েস সদস্যবৃন্দ, সমমনা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন। 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন বলেন, “পানি আমাদের জীবন ও জীবিকার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু আমাদের অবহেলা ও অসচেতনতার কারণে তা আজ হুমকির সম্মুখীন। আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহারে নানাভাবে পানির অপচয় হচ্ছে। যা ভবিষ্যতে আমাদের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে। তাই অতিসত্ত্বর এবিষয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে একই সাথে সরকারকেও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।”
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা খুঁজে বের করে তা নিরসনে উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। একইসাথে দেশে পানিখাত সম্পর্কিত যেসকল আইন রয়েছে তার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আরো বলেন, “যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতি না থাকার কারণে কলকারখানার বর্জ্য সরাসরি নদী ও খালে ফেলা হচ্ছে, যা পানিকে দুষিত করছে। এবিষয়টি সরকারকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা নিয়ে এ সমস্যা সমাধানে আশু ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।” 
পানি খাতে শুদ্ধাচার নিশ্চিত করে টেকসই উন্নয়নের জন্য মানববন্ধন থেকে যে সকল সুপারিশ উত্থাপিত হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ‘বাংলাদেশ পানি আইন ২০১৩’র আশু বাস্তবায়ন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন সংগতিপূর্ণ ও সঠিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা; নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য মিউনিসিপ্যালিটি/সিটি কর্পোরেশনগুলোতে ওয়াসার মত স্বতন্ত্র নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান গঠন করা; পানি সম্পর্কিত মন্ত্রণালয়/বিভাগসমূহের মধ্যকার কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা; প্ল্যানিং কমিশনের ডিপিপি পুনঃ নিরীক্ষা করা, যাতে করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে প্রকল্পগুলো পরিবশেগত শুদ্ধাচার মানদন্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এছাড়াও পানি সম্পদ খাতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিযোজন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত; নদীসহ জলাশয় ও জলমহালসমূহ বেআইনী দূষণ ও অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত; শিল্পবর্জ্য নির্গমনের বিধিমালার কঠোর প্রয়োগ, নির্মাণ সংক্রান্ত অপব্যবহার রোধ এবং পরিবেশগত দূষণ রোধ সংক্রান্ত আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং সব ধরণের কলকারখানার জন্য বর্জ্য শোধনাগার (অ্যাফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। উল্লেখ্য, মিষ্টি পানির প্রতি মানুষের অধিক গুরুত্বারোপ ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রতি বছর ২২ মার্চ বিশ্ব পানি দিবস পালন করা হয়। এ বছর বিশ্ব পানি দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘পানি ও টেকসই উন্নয়ন’। 
Media Contact