• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

TIB for high powered commission for climate finance governance and diplomatic efforts for fund release (Bangla)

বাংলাদেশে জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন নিশ্চিতকরণে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠনের প্রস্তাব টিআইবি’র
প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড়ে কূটনৈতিক তৎপরতাসহ চাপ প্রয়োগের আহ্বান
ঢাকা, ৯ জুলাই ২০১৪: বাংলাদেশে জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন নিশ্চিতকরণে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেছে টিআইবি। এছাড়া উন্নত দেশগুলোর প্রতি প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড় করার জন্যও টিআইবি’র পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়। আজ ব্র্যাক সেন্টার ইন মিলনায়তনে টিআইবি আয়োজিত ‘বাংলাদেশে জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন: প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রায়োগিক অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এই আহ্বান জানানো হয়।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, এমপি; বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক জনাব মাসুদ আহমেদ। টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং সরকারি কর্মকর্তাসহ এখাতের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মী। সভায় বাংলাদেশে জলবায়ু অর্থায়নের ওপর কার্যপত্র উপস্থাপন করেন টিআইবি’র ক্লাইমেট ফিন্যান্স গভর্নেন্স প্রজেক্ট (সিএফজিপি) এর প্রকল্প সমন্বয়ক মু. জাকির হোসেন খান।
কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়, জলবায়ু তহবিল ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সরকার ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশলপত্র এবং কর্মপরিকল্পনা (বিসিসিএসএপি) ২০০৯’ প্রণয়ন ও হালনাগাদকরণ; সরকারের জাতীয় রাজস্ব বাজেটের অর্থে ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড’ (বিসিসিটিএফ) গঠন; জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা প্রণয়ন; বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ রেজিলিয়েন্স ফান্ড (বিসিসিআরএফ) গঠন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
কার্যপত্রে তহবিল ছাড়ের চিত্র তুলে বলা হয়, জুন ২০১৪ পর্যন্ত বিসিসিটিএফ তহবিলে প্রতিশ্রুত/ অনুমোদিত ৩৫০.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে ছাড়কৃত অর্থের পরিমাণ ছিল ২৫১.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিসিসিআরএফ-এ প্রতিশ্রুত ১৮৮.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে ছাড়কৃত অর্থের পরিমাণ ছিল ১৪৬.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড়ে উন্নত দেশসমূহের সরকারগুলোকে জোটবদ্ধভাবে কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে চাপ প্রয়োগের ওপর জোর দেওয়া হয়। কার্যপত্রে জাতীয় অর্থায়নের তুলনায় উন্নত দেশের কম অর্থায়ন, বিসিসিটিএফ ও বিসিসিআরএফ নতুন তহবিল বরাদ্দ না করায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিভিত্তিক তহবিল বরাদ্দে ঘাটতি, উন্নত দেশসমূহ কর্তৃক প্রশমন বা কার্বন নিঃসরণে উল্লেখযোগ্য তহবিল বরাদ্দ না করা এবং সবুজ জলবায়ু তহবিল হতে অর্থ সংগ্রহে প্রস্তুতির ঘাটতি তহবিল ছাড়ের ক্ষেত্রে প্রধান প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় অভিযোজন ও প্রশমন কার্যক্রমকে অব্যাহত রাখার জন্য জাতীয় রাজস্ব বাজেট থেকে নিয়মিত ও প্রয়োজনীয় অর্থ বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড (বিসিসিটিএফ)-এ বরাদ্দের জন্য সরকারের প্রতিও আহ্বান জানানো হয় এই কার্যপত্রে।
অন্যদিকে সমন্বয় ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জসমূহের মধ্যে রয়েছে বিসিসিটিএফ এবং বিসিসিআরএফ এর মধ্য সমন্বয়হীনতা, অভিযোজন খাতে প্রয়োজনের তুলনায় কম বরাদ্দ, তহবিল সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশে ঘাটতি, প্রকল্প অনুমোদনে রাজনৈতিক প্রভাব, প্রকল্প নির্বাচনে স্থানীয় পর্যায়ে যথাযথ তথ্য যাচাইয়ে ঘাটতি, প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়ন এবং প্রকল্প এলাকা নির্বাচনে নাগরিক সমাজ, ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী এবং এনজিওর সীমিত অংশগ্রহণ, বাস্তবায়নকারী এনজিওদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞতার ঘাটতি ইত্যাদি।
মতবিনিময় সভার মুক্ত আলোচনায় কমিউনিটি ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রজেক্ট এর প্রকল্প সমন্বয়ক ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ জলবায়ু তহবিল ব্যবস্থাপনায় অবিলম্বে প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড়ে উন্নত দেশসমূহের সাথে লবি করার জন্য ন্যাশনাল ডেজিগনেটেড অথরিটি (এনডিএ) এবং প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে ন্যাশনাল ইমপ্লিমেন্টিং এনটিটি (এনআইই) গঠন ও কার্যকর করার ওপর জোর দেন।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দিদারুল আলমের মতে, বিসিসিটিএফ বর্তমানে একটি মডেল হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত। এতে আরো স্বচ্ছতা আনয়নে তিনি মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় কর্তৃক আরো গভীর নিরীক্ষার আহ্বান জানান।
ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং এর নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন বলেন, “প্রকল্প প্রণয়নে বাংলাদেশের যথেষ্ট দক্ষতা রয়েছে। তবে বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারছি না। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরো গভীরভাবে বোঝার জন্য বিস্তৃত পরিসরে গবেষণা করতে হবে।”
এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক শর্মিন্দো নিলোর্মি প্রকল্প পরিকল্পনায় জেন্ডার সংবেদনশীলতাকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার জন্য আহ্বান জানান।
জলবায়ু অর্থায়ন ব্যবস্থাপনায় নিরীক্ষা প্রসঙ্গে মতবিনিময় সভার বিশেষ অতিথি বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক জনাব মাসুদ আহমেদ বলেন, “অন্যান্য প্রকল্পের মতো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলার প্রকল্পের নিরীক্ষার ক্ষেত্রেও সিএজি কার্যালয় হাই রিস্ক, হাই ভ্যালুকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। তবে সব ধরনের প্রকল্পের নিরীক্ষার প্রয়োজন নেই।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ মন্ত্রী জনাব আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, এমপি বলেন, “প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় সীমিত ও নিজস্ব সম্পদ যথেষ্ট নয়। তাই প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড়ে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।”
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সরকারের বিসিসিটিএফ গঠন জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সদিচ্ছার দৃষ্টান্ত। এর ফলে আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে প্রাপ্য তহবিল সংগ্রহের পথ সুগম হবে। অন্যদিকে পরপর চার বছর এ তহবিলে উল্লেখযোগ্য হাবে অর্থ বরাদ্দের পর ২০১৪-১৫ বাজেটে বরাদ্দকৃত মাত্র ২০০ কোটি টাকা এ খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যথেষ্ট নয় বিধায় সরকারের নিকট বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছি।” একইসাথে তিনি বিসিসিটিএফ ও বিসিসিআরএফ উভয় তহবিলের আওতায় প্রকল্প প্রণয়ন থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর আবারো গুরুত্বারোপ করেন।
কার্যপত্রে বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ে জলবায়ু তহবিল ব্যবস্থাপনা, এর কার্যকর ব্যবহার সর্বোপরি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে ৭ দফা সুপারিশ করা হয়। উল্লেখযোগ্য সুপারিশসমূহের মধ্যে রয়েছে: জিসিএফ হতে দ্রুত তহবিল পেতে জাতীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ ও বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান নির্ধারন; জিসিএফ-এর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বল্পোন্নত দেশগুলোর কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণ; জলবায়ু তহবিল ব্যবস্থাপনার সকল পর্যায়ে স্বতঃপ্রণোদিত ও চাহিদাভিত্তিক তথ্য প্রকাশ নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি বিসিসিআরএফ এর ব্যবস্থাপক হিসেবে বিশ্বব্যাংকের রেজিলিয়েন্স ফান্ড সংক্রান্ত তথ্য - তথ্য অধিকার আইনের আওতাভুক্তকরণ; বিসিসিএসপি’র কর্মসূচি প্রণয়ন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে এলাকা/ খাতভিত্তিক জনগোষ্ঠির ঝুঁকি বিবেচনায় তহবিল বরাদ্দে স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়াদী অগ্রাধিকার প্রদান ইত্যাদি।

Media Contact