• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

NGO Leaders call for more consultation before enacting Foreign Contributions (voluntary activities) Regulation Act 2014 (Bangla)

প্রস্তাবিত বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম)
রেগুলেশন আইন ২০১৪ এর কতিপয় ধারা গভীর উদ্বেগজনক; চূড়ান্ত করার আগে আরো আলোচনার আহ্বান
ঢাকা, ১২ জুন ২০১৪:গত ২ জুন ‘বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন আইন ২০১৪’ শীর্ষক খসড়া আইনটি মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক নীতিগত অনুমোদিত হওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ১৫টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান: আইন ও সালিশ কেন্দ্র, গণসাক্ষরতা অভিযান, নিজেরা করি, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, ব্লাস্ট, বেলা, এফএনবি, এ্যাডাব, এএলআরডি, প্রিপ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ, এ্যাকশন এইড, কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড, ওয়াটার এইড এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ।
আজ এক বিবৃতিতে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয় এ আইনটির খসড়া প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদেরকে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে সরকার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তবে চূড়ান্ত খসড়াটি মন্ত্রীপরিষদে উপস্থাপনের আগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদেরকে হস্তান্তরের কথা থাকলেও বাস্তবে তা করা হয়নি। ফলে মন্ত্রীপরিষদ অনুমোদিত খসড়ায় বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দুর্বলতা ও বেসরকারি (এনজিও) খাতের নিরবিচ্ছিন্ন ও সাবলীল বিকাশের ক্ষেত্রে ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে, যা নিরসনের জন্য খসড়াটি প্রণয়নের পূর্বে সরকারের সাথে এনজিও প্রতিনিধিদের আরো মত বিনিময়ের সুযোগ প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনগুলো।
বিবৃতিতে বলা হয় এনজিও বিলুপ্ত করা এবং মোকদ্দমা দায়ের ও পরিচালনার জন্য প্রশাসক নিয়োগ শীর্ষক ধারা অনুযায়ী যেভাবে নিবন্ধন বাতিল করে এনজিও বিলুপ্ত করা ও প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা এনজিও ব্যুরোর হাতে প্রদান করা হয়েছে তা যৌক্তিক হবে না। ইতোপূর্বে খসড়া প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় এ ধরনের ধারা না রাখার পক্ষে এনজিও প্রতিনিধিদের সাথে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঐকমত্য হয়েছিল। তা সত্ত্বেও এরূপ ধারা প্রস্তাব করা দুঃখজনক। ঘোরতর লঙ্ঘন প্রমাণিত হলে যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে এনজিও ব্যুরো কর্তৃক অনুমোদিত প্রকল্প কার্যক্রম বন্ধ করা বা এমনকি এনজিও ব্যুরোর নিবন্ধন বাতিলের ক্ষমতা এনজিও ব্যুরোর হাতে ন্যস্ত হতে পারে। কোন সুনিদিষ্ট অপরাধ হলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় যথাক্রমে দুর্নীতি দমন কমিশন বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব হতে পারে। কিন্তু এনজিওর সকল স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম বন্ধ করা বা এনজিও বিলুপ্ত করার এখতিয়ার এনজিও ব্যুরোর হাতে ন্যস্ত করা দেশের প্রচলিত আইনের সাথে সাংঘর্ষিক।
একইভাবে প্রস্তাবনা অনুযায়ী এনজিও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের এখতিয়ার এনজিও ব্যুরোর হাতে অর্পন করা হলে তা হবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এক্ষেত্রেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এখতিয়ার হওয়া বাঞ্চনীয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এনজিও ব্যুরোর হাতে নিবন্ধন ও প্রকল্প অনুমোদনের এখতিয়ার প্রদান যেরূপ যৌক্তিক তেমনিভাবে বর্তমানে চলমান চর্চা অনুযায়ী উভয় ক্ষেত্রে সময় সীমা নির্ধারণ না করা ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে যদি কোন সংস্থাকে নিবন্ধন প্রদান বা প্রকল্প অনুমোদন দেয়া না হয় তবে তার কারণ লিখিতভাবে জানানোর বিধান নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে মনে করেন বিবৃতি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী প্রধানগণ।
খসড়া আইনটির ধারা ২(৫) এ ‘বৈদেশিক অনুদানের সংজ্ঞায় ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তি অযৌক্তিক। এর ফলে এনজিও ব্যুরোর কর্ম পরিধির অযাচিত সম্প্রসারণ ঘটাবে এবং আইনের অপব্যাখ্যা ও অপব্যবহারের মাধ্যমে অব্যবস্থাপনাসহ হয়রানি ও অনিয়মের ঝুঁকি তৈরি করবে।
প্রস্তাবিত আইনের ধারা ৩(২) বলবৎ থাকলে দেশে ব্যক্তি পর্যায়ের দাতব্য ও স্বেচ্ছাসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হবে, একই সাথে প্রবাসী বাংলাদেশীগণ সেবামূলক কার্যক্রমে অবদান রাখতে নিরুৎসাহিত হবেন এবং হুন্ডি প্রথা ও কর ফাঁকির প্রবণতা বাড়বে।
অন্যদিকে বেশ কিছু পেশার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য বৈদেশিক অনুদান গ্রহণ নিষিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে প্রস্তাবিত ধারাকে নেতিবাচক হিসেবে চিহ্নিত করে বলা হয়, এ আইনে এ ধরনের ধারা প্রাসঙ্গিক নয়। বিচারক, সরকারি কর্মকর্তা জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল ইত্যাদি শ্রেণীর ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন বিদ্যমান রয়েছে। যদি সংশ্লিষ্ট আইনে কোনো ধরনের দুর্বলতা থাকে তবে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংস্কারের পরামর্শ দেয়া হয় বিবৃতিতে।
অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ধারার মধ্যে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বেসরকারি সংগঠনের জন্য আঞ্চলিক পরিষদের প্রত্যাশিত ভূমিকা অবহেলা করে এনজিও ব্যুরোর অনুমোদনের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের বাধ্যতামূলক অনুমোদন, যা একদিকে যেমন দীর্ঘসূত্রতা ও অপব্যবহারের সুযোগ বাড়াবে, তেমনি অন্যদিকে বৈষম্যমূলক।
খসড়া আইনটির ধারা ১০ অনুযায়ী এনজিও ব্যুরোর হাতে পরিদর্শন, পরিবীক্ষণের এখতিয়ার যথার্থ ও অপরিহার্য, প্রকল্প মূল্যায়নের দায়িত্ব এনজিও ব্যুরোর নিজস্ব সামর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সুতরাং খসড়া আইনের ১০(১) ও ১০(৩) ধারা থেকে “মূল্যায়ন” শব্দটি বাদ দেওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করা হয় বিবৃতিতে ।
আইনটি সংসদে পাশের আগে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংসদীয় কমিটির নিকট অনতিবিলম্বে এনজিও প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মহলের সাথে পরামর্শের সুযোগ সৃষ্টি করার আহ্বান জানানো হয়। এনজিও খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা যেমন সকলের কাম্য তেমনিভাবে এমন কোন আইন প্রণয়ন করা উচিত হবে না যার ফলে দেশের উন্নয়ন, সমাজ পরিবর্তন, সুশাসন ও মানবাধিকারসহ বহুমুখী ক্ষেত্রে এনজিও খাতের অবদান অব্যাহত রাখা বাধাগ্রস্ত হয়।
প্রতিষ্ঠানসমূহের পক্ষে,
ইফতেখারুজ্জামান
বিবৃতি প্রদানকারী ব্যক্তিবর্গ:
সুলতানা কামাল, রাশেদা কে চৌধুরী, খুশী কবির, শাহীন আনাম, সারা হোসেন, রিজওয়ানা হাসান, এম তাজুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, শামসুল হুদা, এ্যারোমা দত্ত, রোকেয়া কবীর, ফারাহ কবীর, এ কে এম মুসা, খায়রুল ইসলাম এবং  ইফতেখারুজ্জামান।

Media Contact