• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

Weak national integrity system undermines governance, nourishes corruption -TIB (Bangla)

 
বাংলাদেশের শুদ্ধাচার ব্যবস্থার বিশ্লেষণ
দুর্বল জাতীয় শুদ্ধাচার ব্যবস্থায় সুশাসন ব্যাহত, দুর্নীতির প্রসার
১৪ মে, ঢাকা ২০১৪: আজ প্রকাশিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর এক গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইনী ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার তুলনায় অনুশীলন এবং বাস্তবায়নের মধ্যে বিস্তৃত পার্থক্যের কারণে দুর্বল জাতীয় শুদ্ধাচার ব্যবস্থা বাংলাদেশে সুশাসনের সম্ভাবনাকে ব্যাহত করছে যার ফলে দুর্নীতির প্রসার ঘটছে। ২০১২ সালের আগস্ট থেকে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত উক্ত গবেষণা অনুযায়ী তুলনামূলকভাবে শক্ত আইনী, সম্পদ এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকার পরও অপর্যাপ্ত বাস্তবায়ন ও চর্চা এবং আইন অমান্যের সংস্কৃতি বিরাজ করায় দেশে স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিতামূলক শাসন ব্যবস্থা দুর্বলতর হচ্ছে।
আজ ব্র্যাক সেন্টারে টিআইবি কর্তৃক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশের জাতীয় শুদ্ধাচার ব্যবস্থার বিশ্লেষণ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনের প্রকাশকালে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। বার্লিনভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সহায়তায় একই ধরণের গবেষণা বাংলাদেশ ছাড়াও মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কায় পরিচালিত হয়েছে। গবেষণাটির যুগ্ম প্রণেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. সালাহউদ্দিন এম. আমিনুজ্জামান এবং টিআইবি’র উপ-নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল ও নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
গবেষণায় জাতীয় শুদ্ধাচার ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত ১৫টি স্তম্ভ বিশ্লেষিত হয়: সংসদ, নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, স্থানীয় সরকার, পুলিশ (আইন প্রয়োগকারী সংস্থা), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং ব্যবসা খাত। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে আইনী কাঠামো, সক্ষমতা, সুশাসন এবং ভূমিকার আলোকে বিশ্লেষণ করা হয়। গুনগত এ গবেষণাটি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সূত্রের উপাত্ত ছাড়াও সংশ্লিষ্ট জাতীয় আইন, গবেষণা, প্রতিবেদন (গণমাধ্যম ও অন্যান্য) এবং মূখ্য সাক্ষাতদাতাদের তথ্যের ভিত্তিতে প্রণীত। গবেষণার ফলাফল একটি পিয়ার রিভিউ এবং লাইবেল চেকের পর আট সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী উপদেষ্টা গ্রুপ কর্তৃক সত্যায়িত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাতীয় শুদ্ধাচার ব্যবস্থার বিশ্লেষণকে দুর্নীতি প্রতিরোধে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানের কার্যকরতা এবং সামর্থের মানদ- হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী অকার্যকর সংসদ ও বয়কটের সংস্কৃতি, সর্বময় কর্তত্বের অধিকারী নির্বাহী বিভাগ অন্যদিকে বিচার বিভাগ, আমলাতন্ত্র এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্রমাগত দলীয়করণের ফলে সুশাসনের জন্য অপরিহার্য তদারকি ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন কমিশনগুলোর (নির্বাচন কমিশন, দুদক, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশন) স্বাধীনতা ও কার্যকরতা প্রশ্নবিদ্ধ হবার কারণে উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জন আস্থা হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া প্রতিবেদনে রাজনৈতিক দলসমূহ, নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে সুদৃঢ় অভ্যন্তরীণ সুশাসনের সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, “যেকোনো প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার অভাব তৈরী হলেই শুদ্ধাচার ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটে। যখন শুদ্ধাচার ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিক ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে তখন সমাজ ও রাষ্ট্রে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতির মতো ঘটনা বিলুপ্তির মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “গণতান্ত্রিক এবং জবাবদিহিমূলক সুশাসন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব অব্যাহতভাবে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও আরো কিছু বিষয় যা বিদ্যমান জাতীয় শুদ্ধাচার ব্যবস্থার ওপর প্রত্যক্ষ প্রভাব বিস্তার করেছে। এগুলো হলো: প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর উদ্বেগজনক মাত্রায় দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল তদারকি, অপর্যাপ্ত সম্পদ, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতির বিস্তার এবং দুর্নীতির অস্বীকৃতি চর্চার ফলে সৃষ্ট বিচারহীনতার সংস্কৃতি।”
তিনি আরো বলেন, “সরকার কর্তৃক জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল ২০১২ গৃহীত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই গবেষণাটি প্রণীত হওয়ায় টিআইবি আশা করে সরকারের কৌশল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় বর্তমান গবেষণার ফলাফল ও সুপারিশসমূহ বিবেচনায় নেয়া হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় শুদ্ধাচার ব্যবস্থার অন্তর্গত ১৫টি প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার লক্ষে ৬৩টি সুপারিশ উত্থাপন করে উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সুপারিশগুলো হল:-
- সংসদকে কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, আইন করে সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি বন্ধ করা, সংসদ সদস্যদের আচরণবিধি বিল আইনে রূপান্তর করা;
- নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিতকরণে কার্যবিধির সংস্কার, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বা বিচারকবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, বিচারকদের আয় ও সম্পদের তথ্য প্রকাশ;
- সিভিল সার্ভিস আইন প্রণয়ন, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদ সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ, “সুশাসন পর্যালোচনা ও সংস্কার কমিশন” গঠন;
- পুলিশ আইনের সংস্কার এবং দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অন্যান্য অপরাধের জন্য পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কঠোর শাস্তি;
- নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগে যোগ্যতার শর্তাবলী সম্বলিত আইন প্রণয়ন;
- খসড়া অডিট আইন সংসদ কর্তৃক পাশ করা;
- স্থানীয় সরকারের জন্য আন্ত:সরকার অর্থ স্থানান্তর নীতি প্রণয়ন;
- দুদককে স্বাধীন, কার্যকর ও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে দুদক আইনের সংস্কার;
- জাতীয় মানবাধিকার আইনের সংস্কার, তথ্য কমিশনের নেতৃতত্বে গতিশীলতা আনা;
- রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীন গণতন্ত্রের চর্চা প্রতিষ্ঠা এবং তাদেরকে তথ্য অধিকারের আওতায় আনা;
- নাগরিক সমাজের প্রতিষ্ঠানে অধিকতর জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার চর্চা করা এবং কর্মকান্ড পরিচালনা ও তহবিল ব্যবহারে স্বপ্রণোদিত হয়ে তথ্য প্রকাশের নীতি অবলম্বন;
- গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি এ খাতে স্বচ্ছ ও যৌক্তিক লাইসেন্স প্রদান পদ্ধতি এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার স্বার্থে আচরণবিধির প্রবর্তন; এবং
- ১৯৯৪ সালের কোম্পানী আইনের সংশোধন ও ব্যবসায়ী কর্তৃক জনপ্রতিনিধির বা সরকারি অবস্থানকে লাভজনকভাবে ব্যবহার না করা।
Media Contact