• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

TIB recommends reforming Zila Parisad through elected representatives (Bangla)

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সমন্বয়ে জেলা পরিষদ গঠনের সুপারিশ টিআইবি’র
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসকের কাজের সুষম বন্টন, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ
ঢাকা, ০৯ এপ্রিল ২০১৪: সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইনের আলোকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জেলা পরিষদ গঠন এবং তাদের কাজে সংসদ সদস্যদের প্রভাব ও অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসকের কাজের সুষম বন্টনের মাধ্যমে জেলা পরিষদকে অধিকতর কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ‘স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জেলা পরিষদ: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক টিআইবি পরিচালিত এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আজ এই সুপারিশ করা হয়। এতে মূল প্রতিবেদনের সারাংশ উপস্থাপন করেন টিআইবি’র গবেষণা ও পলিসি বিভাগের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাহিদ শারমীন। টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম হাফিজউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক জনাব রফিকুল হাসান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জেলা পরিষদ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও জেলা পর্যায়ে ক্ষমতার কাঠামোতে এর দুর্বল অবস্থান এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকার কারণে জেলা পরিষদ প্রত্যাশিতভাবে কার্যকর হয়নি। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে জেলা পরিষদকে শক্তিশালীকরণের কথা থাকলেও বাস্তবিক কোনো কৌশল বা পদক্ষেপ আজ অবধি পরিলক্ষিত হয়নি। ২০০০ সালে জেলা পরিষদ আইন প্রণীত হলেও দীর্ঘ ১৪ বছরেও জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। অনির্বাচিত ও দলীয় লোকদের প্রশাসক পদে নিয়োগ, আইনি সীমাবদ্ধতা ব্যবহার করে জেলা পরিষদের উপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, স্থানীয় সংসদ সদস্যদের প্রভাব ও জেলার ক্ষমতা বলয়ে জনসম্পৃক্ততা প্রতিষ্ঠায় সরকারি কর্মকর্তাদের অনীহার কারণে জেলা পরিষদ কেন্দ্রীয় সরকারের একটি আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রভাবশালী মহল, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের একাংশ জেলা পরিষদের আয়ের উৎস বন্ধ করে দেয়াসহ জেলা পরিষদের সম্পত্তি দখলের নজির রয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োজিত প্রশাসনের অধীনে দুর্নীতি, অনিয়ম, ব্যক্তিগত কাজে জেলা পরিষদের তহবিল ব্যবহারসহ দলীয় নেতাকর্মীদের দৈনিক ভিত্তিতে আপ্যায়নের দৃষ্টান্ত রয়েছে। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে নিয়োগকৃত জেলা পরিষদ প্রশাসকের মতানৈক্য ও দ্বন্দ্ব-বিরোধের কারণে জেলা পরিষদে কার্যকরতার অভাব ঘটেছে।
টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, “অতীতে আমরা যখন বৃটিশদের অধীনে ছিলাম, তখন স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা অনেক শক্তিশালী ও কার্যকর ছিল। তবে এখন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাবের কারণে তা অনেকটাই দুর্বল। আমরা চাই কেন্দ্রীয় প্রভাবমুক্ত একটি কার্যকর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা।”
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “জেলা পরিষদের কার্যকারিতা দুটি শক্তিশালী স্বার্থগোষ্ঠীর টানাপোড়নের শিকার হয়ে পড়েছে। একদিকে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের স্থানীয় কর্মকান্ডে সম্পৃক্ততা ও কর্তৃত্ব বজায় রাখার প্রবণতা ও অন্যদিকে রয়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের একাংশের কাছে জনগণের অংশীদারিত্ব মেনে নেয়ার মানসিকতার ঘাটতি।” তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন নির্বাচিত পরিষদ গঠনে বিরত থেকে জেলা পরিষদ পর্যায়ে স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়নে প্রতিবন্ধকতা জিইয়ে রাখা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন ধরণের সমন্বয়হীনতা ও অনিয়মের চিত্র দেখা যায়। সর্বোপরি রয়েছে জেলা পরিষদ পর্যায়ে জবাবদিহিতার কাঠামোর অনুপস্থিতি।”
গবেষণা প্রতিবেদনে জেলা পরিষদের সুশাসনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে আর্থিক সক্ষমতার অভাব, সরকারি অনুদানের উপর নির্ভরতা, জেলা পরিষদের কর্মকান্ডে সংসদ সদস্যের উপদেষ্টা হিসেবে প্রভাব বিস্তার, রাজনৈতিক নেতা দ্বারা জেলা পরিষদের সম্পত্তি বেদখল, কর্মচারী নিয়োগে দুর্নীতি এবং সরকারের প্রভাব বিস্তারের তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে। এছাড়াও গাড়ি ব্যবহারে অনিয়ম, রাজনৈতিক দলের কর্মীদের অফিস হিসেবে ব্যবহার, যাচাই-বাছাই ব্যতীত প্রকল্প অনুমোদন, আবশ্যিক এবং ঐচ্ছিক কার্যাবলী যথাযথভাবে সম্পাদন না করা, নিজস্ব দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা না থাকাসহ নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতি জেলা পরিষদের অকার্যকারিতাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে বলে প্রতিবেদনে অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পরিষদকে কার্যকর করার লক্ষ্যে নয় দফা সুপারিশ উত্থাপিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল: জেলা পরিষদ আইন-২০০০ এর সীমাবদ্ধতা সংশোধন পূর্বক পরিষদের উপর সরকারের এখতিয়ার সুনির্দিষ্টকরণ, জেলা পরিষদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য শূন্য পদ পূরণ, স্থানীয় সরকারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের (সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ) সাথে মাসিক সভা এবং বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করার মাধ্যমে সমন্বয় সাধন, জেলা পরিষদ প্রশাসক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সার্বিক ক্ষেত্রে সমন্বয় সাধন ইত্যাদি।

Media Contact