• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

TIB hails High Court’s verdict on ACC Act (Bangla)

দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধিত) আইন ২০১৩ এর
৩২() ও ৩২ক ধারা হাইকোর্ট কর্তৃক ‘অবৈধ’ এবং ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে টিআইবি
ঢাকা, ৩০ জানুয়ারি ২০১৪: নবম জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশনে পাশকৃত জজ, ম্যাজিস্ট্রেট ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত ও মামলা দায়েরে সরকারের পূর্বানুমতির বিধান সম্বলিত দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধিত) আইন ২০১৩ এর ৩২() ও ৩২ক ধারা হাইকোর্ট কর্তৃক ‘অবৈধ’ এবং ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণা করায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একইসাথে রায়ের আলোকে উক্ত সংশোধনীটি বাতিলের প্রক্রিয়া অনতিবিলম্বে চূড়ান্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান আজ এক বিবৃতিতে বলেন, “দুদকের ক্ষমতা খর্বকারী ধারাটি ‘অবৈধ’ এবং ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণা করায় একদিকে এর সাংবিধানিক যৌক্তিকতা যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ও অন্যদিকে সংবিধান অনুযায়ী আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিক যে সমান সে বিষয়টিও সমুন্নত হয়েছে। উল্লিখিত কালো ধারাগুলোসহ দুদক বিলটি আইনে পরিণত হওয়ায় একদিকে দুদকের কার্যকর হবার যা-ও সম্ভাবনা ছিল তা যেমন পদদলিত হয়েছিল, তেমনি অন্যদিকে সরকার কাঠামোয় ক্রমবর্ধমানভাবে প্রভাবশালী এক অশুভ চত্রের তৎপরতায় দেশে দুর্নীতির গভীরতর ও ব্যাপকতর বিস্তার ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রসারের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছিল। আমাদের বিশ্বাস হাইকোর্টের এই রায়ে সরকারের এ বিষয়ে বোধোদয় ঘটবে।”
. জামান বলেন, “মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অন্যায়ের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা প্রদর্শন এবং দুর্নীতিকে বরদাশত করা হবে না বলে ঘোষণা দেন। সংসদীয় দলের বৈঠকেও একই ধরনের সাবধান বাণী উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী দলীয় সংসদ সদস্যদেরকে দুর্নীতি ও অনিয়মের বাইরে থেকে কাজ করার নির্দেশ দেন। দুদক আইনের উক্ত বৈষম্যমূলক ও আত্মঘাতী ধারা বাতিল করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের ঘোষণা যে ফাকা বুলি নয় তার বাস্তব প্রমান দেখার জন্য দেশের জনগণ উদগ্রীব।”
তিনি আরো বলেন, “মেয়াদের শেষ পর্যায়ে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক এই সংশোধনী পাশ করা ছিল হতাশাজনক, দুদকের যতটুকুই ক্ষমতা ছিল তাও এই আইনের মাধ্যমে খর্ব করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নিতে পূর্বানুমতি নেওয়ার এই বিধান ছিল সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক এবং বৈষম্যমূলক। কারণ সংবিধান মতে একই অপরাধের জন্য কোন বিশেষ শ্রেণির জন্য বিশেষ মাপকাঠি প্রয়োগের সুযোগ নেই।”
উল্লেখ্য, গত ১৭ নভেম্বর প্রেরিত এক পত্রের মাধ্যমে সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ-পূর্বক দুদক (সংশোধনী) বিল পুনর্বিবেচনার জন্য সংসদে ফেরত পাঠাতে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে টিআইবি’র পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। এরপর ১৯ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে সংবাদ মাধ্যমের সহায়তায় বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরে এ দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। সংশোধনীটি যে সংবিধান পরিপন্থী, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের সাথে সাংঘর্ষিক ও জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ প্রদত্ত প্রতিশ্রুতির লঙ্ঘন এ বিষয়গুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়। তা সত্ত্বেও এক প্রকার তড়িঘড়ি করে বিলটিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সম্মতি সংগ্রহ করা হয়। টিআইবি, গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট অন্য অংশীজনের প্রতিবাদ এবং আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করে সরকার একতরফাভাবে কমিশনকে অকার্যকর করার যে পথ বেছে নিয়েছিল, তা দেশবাসীর মধ্যে চরম হতাশার সৃষ্টি করে।
এ প্রেক্ষিতে উক্ত রায় জনমনে আদালতের প্রতি আস্থাকে দৃঢ় করবে। টিআইবি রিট আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান হিউম্যান রাইট্‌স অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ কে কৃতজ্ঞতা জানায়।   

Media Contact