• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

Eminent citizens condemn EC’s evil efforts to stop public disclosure of wealth by candidates (Bangla)

নির্বাচনী প্রার্থীদের সম্পদ বিবরণী জনসমক্ষে প্রকাশ বন্ধে নির্বাচন কমিশনের অশুভ তৎপরতায়

বিশিষ্ট নাগরিকদের তীব্র প্রতিবাদ

ঢাকা, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৩: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের সম্পদের তথ্য লুকানো এবং সম্পদ বিবরণী প্রকাশ বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশনের অশুভ তৎপরতার সংবাদে নয়জন বিশিষ্ট নাগরিক গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনকে অনতিবিলম্বে এ ধরনের আত্মঘাতী ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতি প্রতিরোধক তৎপরতা বন্ধের আহবান জানিয়েছেন।

আজ এক বিবৃতিতে নয়জন বিশিষ্ট নাগরিক বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রদত্ত হলফনামার তথ্য অনুযায়ী মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের অনেকেরই অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক হওয়ার সংবাদ প্রকাশ যখন গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার সম্ভাবনা সৃষ্টি করে জনমনে বিপুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, ঠিক তখনই প্রভাবশালী মহলের দাবিতে প্রার্থীদের সম্পদের তথ্য লুকানো এবং প্রকাশ বন্ধ করার জন্য নির্বাচন কমিশনের অশুভ তৎপরতার সংবাদে আমরা বিস্মিত, ক্ষুব্ধ এবং উদ্বিগ্ন।

তাঁরা বলেন, “এটি সুস্পষ্ট যে, গত পাঁচ বছরে মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের এই ব্যাপক সম্পদ আহরণ তাদের জ্ঞাত আয়ের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিধায় তা সম্পূর্ণ বেআইনী ও সংবিধানের ২০ () ধারা অনুযায়ী অসাংবিধানিক।” একই সাথে সম্পদ বিবরণী প্রকাশের ফলে যেভাবে তারা বিব্রত ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন তাতেই এরূপ সম্পদ আহরণের বৈধতা আরো বেশি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

তাঁরা বলেন, হলফনামার তথ্য গোপনীয় দলিল বলে বিশেষমহল থেকে যে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে তা উচ্চ আদালত এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এর সাথে কেবল সাংঘর্ষিক তাই নয়, বরং প্রার্থীদের আট ধরনের তথ্য জনগনের কাছে উন্মুক্ত করার ব্যাপারে হাইকোর্টের রায় ও নির্দেশনার পরিপন্থী হওয়ায় তা আদালত অবমাননারও শামিল। অন্যদিকে হলফনামার তথ্যকে আয়কর বিবরণীর সাথে তুলনার প্রয়াসও যুক্তিযুক্ত নয়।

তাঁরা আরো বলেন, আইনের অপব্যাখ্যা ও ফাঁক-ফোকর দিয়ে যদি প্রার্থীদের সম্পদের তথ্য প্রকাশ বন্ধ করা হয় তবে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা শুধু যে শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে তাই নয়, বরং প্রভাবশালী মহলের কাছে নতি স্বীকার করে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায় সৃষ্টিকারীর দোষে কমিশনকে দোষী হতে হবে।

বিবৃতিতে নির্বাচন কমিশনকে আইন-কানুন পরীক্ষার নামে অশুভ তৎপরতা অনতিবিলম্বে বন্ধ করে প্রার্থীদের সম্পর্কে আইনসম্মতভাবে জনগণের জানার অধিকার হরণ করার মতো অগণতান্ত্রিক আচরণ থেকে দূরে থাকার আহবান জানানো হয়। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের এহেন কার্যক্রম তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর সাথে সংঘর্ষিক হওয়ায় অনতিবিলম্বে তা থেকে সরে আসারও আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, নিজেরা করি- এর সমন্বয়ক খুশী কবীর, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)- এর প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাষ্ট)- এর অনারারী নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস্ বাংলাদেশ- এর নির্বাহী পরিচালক ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, প্রিপ ট্রাস্ট এর নির্বাহী পরিচালক অ্যারোমা দত্ত এবং টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।